‘রাজধানীর হাতিরঝিলে স্কুলছাত্রী বিথিকে মোটরসাইকেল থেকে ফেলে দিয়ে হত্যা করা হয়েছে। গত বছরের ২৪ আগস্ট ধলপুর কিন্ডার গার্টেন হাইস্কুলের দশম শ্রেণির ছাত্রী মাহমুদা আক্তার বিথি বাসা থেকে বের হয়। হাতিরঝিলে নাইম নামে এক ছেলের মোটরসাইকেল থেকে তাকে ফেলে দিয়ে হত্যা করা হয়। হত্যাকাণ্ড হলেও পুলিশ বারবার বিষয়টিকে দুর্ঘটনা বলে ভিন্ন খাতে নিয়ে যাচ্ছে। এ ঘটনায় তিনজন গ্রেফতার হলেও তারা জামিনে মুক্ত হয়ে ঘুরে বেড়াচ্ছে।’
শুক্রবার দুপুর ১২টার দিকে বাংলাদেশ ক্রাইম রিপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশন মিলনায়তনে সংবাদ সম্মেলনে এ সব দাবি করেন বিথির মা রওশন আরা।
সংবাদ সম্মেলনে তিনি জানান, ‘তার মেয়ে ধলপুর কিন্ডার গার্টেন হাইস্কুলে দশম শ্রেণিতে পড়তো। গত বছরের ১৪ আগস্ট বিকালে আমার মেয়ে বাসা থেকে বের হয়ে তার বন্ধুদের সঙ্গে দেখা করতে যায়। পরে তাকে অনেকবার ফোন করলেও রিসিভ করেনি। একপর্যায়ে রাসেল নামের এক ছেলে ফোন রিসিভ করে জানায় বিথি অ্যাকসিডেন্ট করেছে। তখন আমরা দ্রুত ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে গিয়ে দেখি অচেতন অবস্থায় পড়ে আছে আমার মেয়ে। সেখানে তার বন্ধুরা উপস্থিত ছিল। দুর্ঘটনার কারণ জানতে চাইলে রাসেল জানায়, মুগদা থেকে রিকশায় আসার পথে সিএনজির ধাক্কায় এ ঘটনা ঘটেছে। পরে ঢাকা মেডিক্যালের চিকিৎসকরা আমার মেয়েকে নিউরো সায়েন্স হাসপাতালে রেফার করেন। ১৬ আগস্ট রাত ১টায় সেখানে আমার মেয়ে মারা যায়।’
দুর্ঘটনার বিষয়টি সন্দেহ হলে বিথির বন্ধু চৈতিকে জিজ্ঞাসা করলে সে রওশন আরাকে জানায়, তারা মোটরসাইকেলে হাতিরঝিলে ঘুরতে গিয়েছিল। নাইম নামে এক ছেলের মোটরসাইকেলে উঠেছিল বিথি। একপর্যায়ে বাইক থেকে তাকে ফেলে দেয় নাইম। এতে গুরুতর আহত হয় বিথি। ঘটনাস্থল থেকে বিথিকে উদ্ধার করে চৈতি ও রাসেল ঢাকা মেডিক্যালে নিলেও নাইম সেখান থেকে পালিয়ে যায়।
সংবাদ সম্মেলনে অভিযোগ বলা হয়, এ ঘটনায় থানায় মামলা করতে গেলে পুলিশ দুর্ঘটনায় মৃত্যু হয়েছে বলে উল্লেখ করে এজাহারে। কিন্তু এটা হত্যাকাণ্ড। বারবার পুলিশকে বলা হলেও তারা নিজেদের ইচ্ছায় মামলার এজাহার তৈরি করেছে। পুলিশ তিনজনকে আটক করলেও জামিনে বেরিয়ে মামলা তুলে নিতে আমাকে নানাভাবে হুমকি দিচ্ছে। পরে ১০ জনকে আসামি করে আদালতে মামলা করেছি।
বিথির মা বলেন, ‘বারবার পুলিশকে বলা হলেও তারা নিজেদের ইচ্ছায় মামলার এজাহার তৈরি করেছে, আর বিথির বাবা সাধারণ চায়ের দোকানদার, না বুঝে তাতে স্বাক্ষর করেছেন।’
সংবাদ সম্মেলনে বিথির মৃত্যুর জন্য দায়ীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দিতে প্রধানমন্ত্রী, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীসহ আইন প্রয়োগকারী সংস্থার হস্তক্ষেপ কামনা করেন তার মা। বিথির খালা ঝর্না বেগম সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন।
অভিযোগের বিষয়ে মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা হাতিরঝিল থানার এসআই সুব্রত দেবনাথ সাংবাদিকদের বলেন, ময়নাতদন্ত প্রতিবেদনে সড়ক দুর্ঘটনার কথাই এসেছে। মহানগর ব্রিজের এক নম্বর সেতুর ঢালে যেখানে ঘটনাটি ঘটেছে, সেখানে কোনো সিসি ক্যামেরা নেই। তবে আসামি ও প্রত্যক্ষদর্শীদের জিজ্ঞাসাবাদ করে জেনেছি, বিথি নাইমের মোটরসাইকেলের পেছনে বসেছিল এবং অসাবধানবশত মোটরসাইকেল থেকে পড়ে গিয়ে এই দুর্ঘটনা ঘটে।
বিথির মায়ের বক্তব্যের বিষয়ে দৃষ্টি আকর্ষণ করলে এসআই সুব্রত বলেন, ‘বিথির মা আবেগতাড়িত হয়ে ওই কথা বলছেন।’
ইত্তেফাক/ইউবি