একদিন একটি শুঁয়োপোকা গাছের পাতায় ওপর বসে পাতা খাচ্ছিল। সে খুব একটা সুখী ছিল না। কারণ সে তার ছোট্ট শরীর নিয়ে দ্রুত চলাফেরা করতে পারত না। মনে মনে ভাবত শুধু—পাখিরা আকাশে উড়তে পারে, পিঁপড়েরা কত দ্রুত হাঁটতে পারে। কিন্তু সে নিজে ধীর গতির একটা প্রাণী। এসব দেখে নিজের দিকে তাকাতেই মনটা খারাপ হয়ে যেত। ভাবত আর মনে মনে বলত, ইস আমি যদি ওদের মতো উড়তে পারতাম?
শুঁয়োপোকাটা মন খারাপ করে হাঁটতে লাগল আর পাতা খেতে লাগল। হঠাত্ করেই দুটো লাল পিঁপড়া হেঁটে যাচ্ছিল শুঁয়োপোকার পাশ দিয়ে।
পিঁপড়ে দুটো একজন আরেকজনকে বলতে লাগল, ঐ দেখ, শুঁয়োপোকাটা সব পাতা খেয়ে নিচ্ছে।
প্রথম পিঁপড়া: এই থামো, আমাদের জন্য কিছু পাতা রেখো, তুমি একাই সব খেয়ে ফেলো না।
শুঁয়োপোকা : তোমরা এসব বোলো না। আমার সব সময় ক্ষুধা লাগে।
এরই মধ্যে পিঁপড়াদের ঠাকুমা চলে এলো—
দ্বিতীয় পিঁপড়া : শুঁয়োপোকাটার বড় হতে আর কতদিন লাগবে ঠাকুমা?
ঠাকুমা: ধৈর্য ধরো। সে অবশ্যই বড় হবে এবং সেটা তুমি ভাবতেও পারবে না।
ঠাকুমা শুঁয়োপোকাকে বলল, তুমি খাও। তোমার কাজ তুমি করে যাও।
শুঁয়োপোকা : ধন্যবাদ ঠাকুমা। আমি আসলে নিজেকে নিয়ে সুখী নই।
ঠাকুমা : কেন? মায়ের সৃষ্টিকে কখনো অবজ্ঞা বা অপছন্দ করবে না। মা তার সমস্ত ভালোবাসা এবং সৌন্দর্য দিয়ে তার সন্তানকে বড় করে। অপেক্ষা করো তোমাকে আরো বড় হতে হবে এবং তুমি অবশ্যই তার জন্য উপযুক্ত। আমি যা বললাম এগুলো সব মনে রাখবে।
শুঁয়োপোকার মন ভালো হয়ে গেল। সে এক পাতা থেকে অন্য পাতায় যাচ্ছে আর খাচ্ছে। নিয়ম অনুযায়ী একদিন তার শরীরের পরিবর্তনের কারণে খাওয়া বন্ধ করতে হলো। সে অনুভব করল তার শরীরের পরিবর্তনের ধারা। ভাবল তাকে একটা নিরাপদ জায়গায় আশ্রয় নিতে হবে। যেখান থেকে কোনো পাখির যেন খাদ্য সে না হয়। তার মুখ থেকে যে লালা বের হচ্ছিল তা দিয়ে নিজেকে কম্বলের মতো জড়িয়ে নিল। গভীর ঘুমে আচ্ছন্ন হয়ে দিনের পর দিন কাটাতে লাগল সেই কম্বলের ভিতর।
অনেক দিন পর শুঁয়োপোকার গুটির পাশ দিয়ে যাচ্ছিল সেই পিঁপড়া আর তার ঠাকুমা। তারা দুজনেই খেয়াল করল শুঁয়াপোকার গুটির দিকে। হঠাত্ করে গুটি থেকে শুঁয়োপোকাটার মাথা বেরিয়ে এলো।
পিঁপড়া : ঠাকুমা ঐ দেখো শুঁয়োপোকাটার মাথা বেরিয়ে এসেছে। ও বের হতে পারছে না। ওকে কি আমরা সাহায্য করব?
ঠাকুমা : না না। ওকে একাই বেরিয়ে আসতে হবে। আমরা ওকে সাহায্য করতে পারব না। কঠোর পরিশ্রম করেই ওকে বের হতে হবে।
পিঁপড়া : ধীর গতির শুঁয়োপোকা, এটাই কি সে!
অনেকক্ষণ কষ্ট করার পর শুঁয়োপোকাটি তার খোলস থেকে বের হয়ে এলো। ডানা ঝাপটে তাদের ওপরে এলো। নিজেকে চিনতে তার কষ্ট হচ্ছিল। ঠাকুমাকে বলল, এটা কি আমি ঠাকুমা?
ঠাকুমা বলল, হ্যাঁ এটাই তুমি। তোমার সুন্দর দুটি ডানা নিয়ে তুমি নতুনভাবে নিজেকে প্রকাশিত করেছ।
রূপান্তর হলো শুঁয়োপোকা থেকে প্রজাপতির।
প্রজাপতি এবার আনন্দ করতে করতে বলতে লাগল, এখন আমি আমার ইচ্ছেমতো উড়ে উড়ে ঘুরে বেড়াতে পারব আর আমার পছন্দমতো খাবার খেতে পারব। খেলতে পারব সবার সঙ্গে। ওহ তুমি ঠিকই বলেছ ঠাকুমা, মায়ের সৃষ্টি আমার কাছে জাদুর মতো মনে হচ্ছে। এখন আমি খুব সুখী।