বান্ধবীর বাসায় জাতীয় দলের খেলোয়াড়ের ঝুলন্ত লাশ

রাজধানীর মোহাম্মদপুরের বছিলায় বান্ধবীর বাসায় কামরুল ইসলাম (২৪) নামে তায়কোয়ানদো জাতীয় দলের এক খেলোয়াড়ের অস্বাভাবিক মৃত্যু হয়েছে। বছিলার ১ নম্বর রোডের ১২৪/৮০ নম্বর বাসার ৫ম তলার ফ্ল্যাট থেকে সহ-খেলোয়াড় প্রতিভা সরকার রানী তাকে উদ্ধার করে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যান। পরে চিকিত্সকরা জানান, কামরুল ইসলাম আগেই মারা গেছেন। এ ঘটনায় পুলিশ জিজ্ঞাসাবাদের জন্য প্রতিভা রানীকে আটক করেছে।

কামরুল ইসলামের সহকর্মীরা জানান, কামরুল আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনীর ভাতাপ্রাপ্ত তায়কোয়ানদো খেলোয়াড়। পাশাপাশি মোহাম্মদপুর শিয়া মসজিদের পাশে তায়কোয়ানদো স্কুলের শিক্ষক ছিলেন। চট্টগ্রামের কর্ণফুলী উপজেলার দক্ষিণ শিকলবাহা গ্রামের মৃত আব্দুল করিমের ছেলে। অবিবাহিত কামরুল থাকতেন রাজধানীর ফকিরাপুল গরম পানির গলিতে।

হাজারীবাগ থানার ওসি সাজেদুল ইসলাম বলেন, এ ঘটনায় প্রতিভাকে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। প্রতিভাও তায়কোয়ানদো খেলোয়াড়। বৃহস্পতিবার রাতে কামরুল প্রতিভাকে ফোন দিয়ে বলেন যে তার বাসায় গরুর মাংস দিয়ে রাতের খাবার খাবেন।  সে অনুযায়ী কামরুল বছিলায় প্রতিভার বাসায় গিয়ে রাতের খাবার শেষে অন্য রুমে গিয়ে শুয়ে পড়েন। ভোর ৪টার দিকে প্রতিভা পাশের রুমে গিয়ে ফ্যানের সঙ্গে ওড়না পেঁচিয়ে গলায় ফাঁস দেওয়া অবস্থায় কামরুলকে দেখতে পান। কেন বা কী কারণে তিনি গলায় ফাঁস দিয়েছেন এ বিষয়ে কিছু জানাতে পারেননি প্রতিভা। তবে ঘটনাটি আত্মহত্যা নাকি হত্যা-তা নিশ্চিত হওয়া যাবে ময়নাতদন্ত রিপোর্ট থেকে। 

তায়কোয়ানদো ফেডারেশনের জাতীয় দলের সহকারী কোচ পলাশ মিয়া জানান, কামরুল গত বুধবার দুই দিনের জন্য ছুটি নিয়েছিল বাড়িতে যাওয়ার জন্য। এরপর থেকে তার সঙ্গে যোগাযোগ নাই। এই দুই দিন কোথায় ছিলেন তা তিনি জানেন না।

হাজারীবাগে গৃহবধূর মৃত্যু : অপরদিকে হাজারীবাগ বাড়ইখালি এলাকার একটি বাসায় সুমাইয়া আক্তার মিম (১৯) নামে এক গৃহবধূর অস্বাভাবিক মৃত্যু হয়েছে। শুক্রবার দুপুরে অচেতন অবস্থায় তাকে উদ্ধার করে ঢামেক হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিত্সক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। পিরোজপুরের ভাণ্ডারিয়া উপজেলার জাফরের মেয়ে তিনি। স্বামী ফার্মেসি  দোকানের কর্মচারী ইয়াসিনের সঙ্গে বারৈইখালি ডেন্টাল রোডের একটি সেমিপাকা বাড়িতে ভাড়া থাকতেন।

ইয়াসিন বলেন, ‘দুই বছর আগে তাদের বিয়ে হলেও কোনো সন্তান নাই। সকালে মিমের সাবেক স্বামী তাকে ফোন করেন। এ নিয়ে কথাকাটাকাটি হয়। পরে মিম রুমের ভিতর গিয়ে দরজা বন্ধ করে গলায় ফাঁস দেয়।’