ফিলিস্তিনি শরণার্থীদের জন্য সহায়তা কমাল আমিরাত

জাতিসংঘে ফিলিস্তিনি শরণার্থীদের জন্য ২০২০ সালে তহবিল অনেক কমিয়ে দিয়েছে সংযুক্ত আরব আমিরাত। এর আগে যে সহায়তা প্রদান করা হতো এটি তার চেয়েও কম। রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, ইসরাইলের সঙ্গে শান্তিচুক্তি করার পর থেকে দেশটি তার নীতি থেকে সরে এসেছে। এ ঘটনায় তীব্র প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেছে ফিলিস্তিন কর্তৃপক্ষ। —এবিসি নিউজ

যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় সংযুক্ত আরব আমিরাত ও ইসরাইলের মধ্যে ঐ চুক্তি হয়। এই চুক্তির কারণেই আমিরাত ফিলিস্তিনে তাদের সহায়তার পরিমাণ কমিয়ে দিয়েছে বলে মনে করা হচ্ছে। জাতিসংঘের শরণার্থী সংস্থা ইউএনআরডব্লিউএ তে তারা এই সহায়তা প্রদান করত। ১৯৪৮ সালে যুদ্ধের সময় প্রায় ৫৭ লাখ ফিলিস্তিনি পালিয়ে মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশে আশ্রয় গ্রহণ করে। তাদের জন্যই জাতিসংঘের শরণার্থী সংস্থা প্রতি বছর সাহায্য দিয়ে আসছে। স্বাস্থ্য, শিক্ষা ও অন্যান্য খাতে তারা এই সুযোগ-সুবিধা দেয়। কিন্তু হঠাত্ করেই দেশটি তাদের আগের তুলনায় সাহায্যের পরিমাণ কমিয়ে দেয়। সর্বশেষ ২০২০ সালে তারা মাত্র ১০ লাখ ডলার এই সংস্থায় দান করে। কিন্তু আগের বছর সেই অর্থের পরিমাণ ছিল ৫ কোটি ১৮ লাখ ডলার। তারও আগের বছরে একই পরিমাণ অর্থ সহায়তা দেওয়া হয়। শুক্রবার সংস্থাটির মুখপাত্র সামি মাশাশা এসব তথ্য জানিয়ে বলেছেন, তারা আশা করছেন, আগামী দিনগুলোতে আরব আমিরাত আগের মতোই সাহায্য-সহযোগিতা করবে। শনিবার এ বিষয়ে আমিরাতের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে  তাদের কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।

গত বছর থেকে আমিরাতের সঙ্গে ইসরাইলের সম্পর্ক স্বাভাবিক হতে শুরু করে। দীর্ঘদিন ধরে আরব দেশগুলোর মধ্যকার ঐকমত্য থেকে বেরিয়ে এমন পদক্ষেপ গ্রহণ করে আমিরাত। এরপরেই বাহরাইন, সুদান এবং মরক্কো আমিরাতের পথে হেঁটে ইসরাইলের সঙ্গে শান্তিচুক্তি করে। এর আগে ২০১৮ সালে জাতিসংঘের শরণার্থী বিষয়ক সংস্থায় সব ধরনের অনুদান দেওয়া বন্ধ করে দেয় তত্কালীন ট্রাম্প প্রশাসন। ইসরাইলের প্রতি সমর্থন জ্ঞাপন এবং ফিলিস্তিনকে একঘরে করে দেওয়ার জন্য সে সময় নজিরবিহীন কিছু পদক্ষেপ নেওয়া হয়। গত মাসে বাইডেন প্রশাসন ঘোষণা দেয় যে, তারা ফিলিস্তিনিদের জন্য আবারও সহায়তা চালু করবেন। একই সঙ্গে শান্তি আলোচনা নিয়ে পুনরায় কাজ করবেন।