কুয়াকাটা ও পায়রা বন্দরে
যাওয়া যাবে বিকল্পপথে
পটুয়াখালী প্রতিনিধি
কলাপাড়ার আন্ধারমানিক নদের ওপর সৈয়দ নজরুল ইসলাম সেতুর নির্মাণকাজ সম্পন্ন প্রায়। এরই মধ্যে মূল সেতুসহ ৯০ ভাগ কাজ শেষ হয়েছে। এখন চলছে সেতুর অ্যাপ্রোচ ও মূল সংযোগ সড়ক নির্মাণকাজ। কাজে কোনো বিপত্তি না ঘটলে আগামী জুনের মধ্যেই সম্ভাবনা রয়েছে সেতু চালুর। এই সেতু চালু হলে বিকল্প সড়ক পথে শুধু কুয়াকাটাই নয় যাওয়া যাবে পায়রা সমুদ্র বন্দরেও। কলাপাড়া উপজেলার পাঁচ ইউনিয়নের সঙ্গে সাধিত হবে সরাসরি সড়ক সংযোগ। এক সময় কুয়াকাটা-কলাপাড়া সড়কে তিন ফেরি পেরিয়ে যেতে অবর্ণনীয় দুর্ভোগ পোহাতে হতো পর্যটকদের। ২০১৬ সালে এই সড়কের তিনটি নদীর ওপর ‘শেখ কামাল”, “শেখ জামাল” ও “শেখ রাসেল” নামে তিনটি সেতু নির্মাণের ফলে পর্যটকদের দুর্ভোগ লাঘব হয়েছে। এবার কুয়াকাটা আসা পর্যটকের জন্য যোগাযোগের বিকল্প সড়ক পথের জাতীয় চার নেতার একজন সৈয়দ নজরুল ইসলাম নামে নির্মিত এই সেতু সড়ক পথে যোগাযোগে পাঁচটি ইউনিয়নের নিরবচ্ছিন্ন সড়ক ব্যবস্থা, কুয়াকাটা পর্যটন শিল্পের পাশাপাশি কৃষি, মত্স্যকেন্দ্রিক অর্থনীতিও গতি পাবে।
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ২০১২ সালের প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী ২০১৩ সালের ১৯ নভেম্বর তিনি এই সেতুর ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন। স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের (এলজিইডি) তত্ত্বাবধানে কলাপাড়ার বালিয়াতলি-গঙ্গামতি সড়কের আন্ধারমানিক নদের ওপর প্রিস্টেচ গার্ডার সেতুর নির্মাণকাজের জন্য ম্যাক্স-বেইকিং (জেভি) নামের চীন ও বাংলাদেশের যৌথ ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে ২০১৬ সালের ২৪ আগস্ট চুক্তি সম্পাদন হয়। এলজিইডি কলাপাড়া কার্যালয় সূত্র জানায়, সেতুর পূর্বপাড়ে রয়েছে কলাপাড়ার বালিয়াতলি ইউনিয়ন এবং পশ্চিমে রয়েছে টিয়াখালী ইউনিয়ন। ৬৭৭ মিটার দৈঘ্য সেতুর প্রস্থ রয়েছে ৯ মিটার। জনসাধারণের চলাচলে সেতুর দুই পাশে ১ দশমিক ৭৬ মিটার ফুটপাত রয়েছে সেতুটিতে। সেতুর নির্মাণ ব্যয় ধরা হয়েছে ১১৯ কোটি ২৮ লাখ টাকা। ২০১৯ সালের ৩০ জুন সেতুটির নির্মাণকাজ শেষ হওয়ার কথা। কিন্তু যথাসময়ে সেতুর নির্মাণকাজ শেষ না হওয়ায় সময় বর্ধিত করে ২০২০ সালের ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত নির্ধারণ করা হয়। কিন্তু এই সময়ের মধ্যে সেতু নির্মাণ সম্পন্ন হয়নি।
এলজিইডি কলাপাড়া কার্যালয়ের উপসহকারী প্রকৌশলী মো. দেলোয়ার হোসেন জানান, করোনা ভাইরাস সংক্রমণের কারণে কিছুটা বিলম্ব হলেও মূল সেতুর নির্মাণকাজ শেষ হয়েছে। এখন চলছে দুই পাড়ে অ্যাপ্রোচসহ সংযোগ সড়ক নির্মাণের কাজ। এর মধ্যে সেতুর পূর্বপাড়ে বালিয়াতলি এলাকায় ১ হাজার ৮৫ মিটার সংযোগ সড়ক এবং পশ্চিমে টিয়াখালীতে পাঁচ কিলোমিটার সংযোগ সড়ক নির্মাণকাজ চলছে। এই সংযোগ সড়ক রজপাড়া এলাকা থেকে পায়রা বন্দরের সঙ্গে নির্মিত চার লেনের শেখ হাসিনা সড়কের সঙ্গে মিলিত হবে। এই পথে শুধু কুয়াকাটাই নয় পায়রা বন্দরের রামনাবাদ চ্যানেলসহ পর্যটনপল্লি গঙ্গামতির নৈসর্গিক দৃশ্য অবলোকনের সুযোগ সৃষ্টি হবে। ট্যুরে অপারেশন অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ, কুয়াকাটার (টোয়াব) সভাপতি রুম্মান ইমতিয়াজ বলেন, এই সেতুর সঙ্গে গঙ্গামতি সমুদ্র সৈকতের উন্নয়ন অগ্রগতি জড়িত। এই সেতুর দ্বার উন্মোচন হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে পর্যটন প্রিয় দেশ-বিদেশের মানুষ কুয়াকাটা সৈকতের পাশাপাশি নতুন আরেকটি সৈকত বেড়ানোর সুযোগ খুঁজে পাবেন। এলজিইডি কলাপাড়া উপজেলা প্রকৌশলী মো. মোহর আলী জানান, দুই ভাগে সেতুর নির্মাণকাজ চলছে। মূল সেতুর নির্মাণকাজ শেষ হয়েছে। এখন সেতুর অ্যাপ্রোচ ও সংযোগ সড়কের কাজ চলছে। সেতু নির্মাণকাজ শেষ করার জন্য জুন মাস পর্যন্ত সময় বর্ধিত করা হয়েছে। সবকিছু ঠিক থাকলে এ বছর জুনেই চলাচলের জন্য খুলে দেওয়া যেতে পারে এই অঞ্চলের সড়ক যোগাযোগের অন্যতম বিকল্প মাধ্যম “সৈয়দ নজরুল ইসলাম সেতু”।