সাগরিকায় ‘সৌরভ’ ছড়াল মুমিনুলের ব্যাট

স্পোর্টস রিপোর্টার

টেস্ট বিশেষজ্ঞের তকমা মানসিক পীড়নের উত্স হয়ে উঠেছিল একটা সময়। লোকের মুখের কথাকে রানের জোয়ারে চাপা দিয়েছেন। ২০১৯ সালে ক্রিকেটের অভিজাত ফরম্যাটে বাংলাদেশের অধিনায়কত্বের গৌরবও তার সঙ্গী হয়েছে। বর্তমান সময়ে ‘ঘরের বাঘ’ বলেও মুমিনুল হক সৌরভকে টিপ্পনী কাটা হচ্ছে।

মানুষের কথায় মন দেওয়ার সময় কই?

মুমিনুল যে ব্যাট হাতে ধ্যানমগ্ন ঋষী। তার ব্যাটে রানের ফল্গু ধারা বইছে। প্রতিনিয়ত সমালোচনাকে চাপা দিচ্ছেন রানের মিছিলে। অর্জনের ভারে সমৃদ্ধ হচ্ছেন ২৯ বছর বয়সি এ ব্যাটসম্যান। চিরচেনা সাগরিকায় আবারও বাংলাদেশের আস্থার প্রতীক হয়ে ধরা দিল মুমিনুলের ব্যাট।

গতকাল জহুর আহমেদ চৌধুরী স্টেডিয়ামে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিরুদ্ধে ক্যারিয়ারের দশম টেস্ট সেঞ্চুরি করেছেন এ বাঁহাতি ব্যাটসম্যান। টেস্টে বাংলাদেশের পক্ষে সর্বোচ্চ সেঞ্চুরির মালিক এখন মুমিনুল। টপকে গেছেন ৯টি সেঞ্চুরি করা তামিমকে। চট্টগ্রামে এটি তার সপ্তম সেঞ্চুরি।

শুধু কি তাই, গতকাল দেশের হয়ে দ্রুততম তিন হাজার রানের মাইলফলকও স্পর্শ করেছেন তিনি। বাংলাদেশের পঞ্চম ব্যাটসম্যান হিসেবে এ ক্লাবে নাম লেখান তিনি। তামিমের মতোই ৭৬ ইনিংস লেগেছে মুমিনুলের।

সাগরিকায় ১৮২ বলে ১১৫ রানের ইনিংস খেলেছেন, যেখানে চার মাত্র দশটি। সময়ের দাবি মিটিয়ে ব্যাটিং করেছেন, অধিনায়কের দায়িত্ব পালনেও ভুল করেননি। তৃতীয় দিনের বিকেলে তামিম-শান্ত দ্রুত ফিরলে উইকেটে আসেন মুমিনুল। বিপর্যয় সামাল দিয়ে দিনশেষে ৩১ রানে অপরাজিত ছিলেন তিনি। গতকাল সকালেও তার ব্যাটিংয়ে ছিল দৃঢ়তার ছাপ। দিনের নবম ওভারে মুশফিক ফিরে যান। তারপর লিটন দাসের সঙ্গে ১৩৩ রানের জুটি গড়েন বাংলাদেশ অধিনায়ক।

চতুর্থ দিনে বড় ঝুঁকি ছাড়াই, সিঙ্গেলস-ডাবলসের মাধ্যমে খেলেছেন তিনি। ক্যারিবিয়ান পেসার, স্পিনারদের বলার মতো সুযোগই দেননি। গতকাল লাঞ্চের পর ওয়ারিকানের বলে শর্ট কভারে ঠেলে দিয়েই সেঞ্চুরি পূর্ণ করেন মুমিনুল। সেঞ্চুরির পর দ্রুত রান তুলতে গিয়ে গ্যাব্রিয়েলের বলে বাউন্ডারিতে ধরা পড়েন তিনি।

গত বছর জিম্বাবুয়ের বিপক্ষেও সেঞ্চুরি করেছিলেন মুমিনুল। পরপর দুই টেস্টে সেঞ্চুরি করা এ বাঁহাতির ব্যাটিংয়ের প্রশংসা করেছেন হেড কোচ রাসেল ডমিঙ্গো। গতকাল দিনের খেলা শেষে তিনি বলেছেন, ‘সে (মুমিনুল) দুর্দান্ত। ব্যাক টু ব্যাক সেঞ্চুরি পেয়েছে। গত বছর ফেব্রুয়ারিতে জিম্বাবুয়ের বিরুদ্ধে ঢাকায়ও সেঞ্চুরি করেছিল। আজ (গতকাল) আরেকটা দারুণ সেঞ্চুরি করেছে। এই মুহূর্তে যেভাবে ব্যাটিং করছে, তাতে তার ব্যাটিংয়ে আমরা আনন্দিত।’

স্কোরকার্ড

বাংলাদেশ-ওয়েস্ট ইন্ডিজ

প্রথম টেস্ট, চতুর্থ দিন

ভেন্যু :জহুর আহমেদ চৌধুরী স্টেডিয়াম, চট্টগ্রাম

টস :বাংলাদেশ

বাংলাদেশ প্রথম ইনিংস :৪৩০/১০

ওয়েস্ট ইন্ডিজ প্রথম ইনিংস :২৫৯/১০

বাংলাদেশ দ্বিতীয় ইনিংস

(তৃতীয় দিন শেষে ৪৭/৩; মুমিনুল ৩১*, মুশফিক ১০*)

                                                             রান      বল     ৪     ৬

মুমিনুল ক রোচ ব গ্যাব্রিয়েল                         ১১৫    ১৮২   ১০   ০

মুশফিক এলবিডব্লিউ ব কর্নওয়াল                  ১৮      ৪৮     ০     ০

লিটন ক মেয়ার্স ব ওয়ারিকান                       ৬৯      ১১২    ৫     ০

মিরাজ ব ওয়ারিকান                                   ৭        ১১      ০     ০

তাইজুল ব ওয়ারিকান                                 ৩        ৯        ০     ০

নাঈম অপরাজিত                                       ১         ১        ০     ০

অতিরিক্ত (ও ১, নো ৪)                               ৫

মোট (৬৭.৫ ওভারে, ৮ উইকেট)                  ২২৩ (ডিক্লে.)

উইকেট পতন :৪-৭৩ (মুশফিক), ৫-২০৬ (লিটন), ৬-২১৪ (মুমিনুল), ৭-২২২ (তাইজুল), ৮-২২৩ (মিরাজ)।

বোলিং :রোচ ৭-১-১৭-০, কর্নওয়াল ২৭-২-৮১-৩, গ্যাব্রিয়েল ১২-০-৩৭-২, ওয়ারিকান ১৭.৫-০-৫৭-৩, বনার ২-০-১৩-০, ব্রেথওয়েট ১-০-৭-০, মেয়ার্স ১-০-১১-০।

ওয়েস্ট ইন্ডিজ দ্বিতীয় ইনিংস (লক্ষ্য ৩৯৫)

ব্রেথওয়েট ক সাব (ইয়াসির) ব মিরাজ            ২০      ৫৩     ২     ০

ক্যাম্পভেল এলবিডব্লিউ ব মিরাজ                  ২৩      ৫০     ৪     ০

মোজলি এলবিডব্লিউ ব মিরাজ                      ১২       ২৪      ২     ০

বনার ব্যাটিং                                             ১৫      ৬৩     ১     ০

মেয়ার্স ব্যাটিং                                            ৩৭      ৪৯      ৭     ০

অতিরিক্ত (বা ১, লেবা ২)                            ৩

মোট (৪০ ওভার, ৩ উইকেট)                       ১১০

উইকেট পতন : ১-৩৯ (ক্যাম্পভেল), ২-৪৮ (ব্রেথওয়েট), ৩-৫৯ (মোজলি)।

বোলিং :মুস্তাফিজ ৪-১-১৪-০, তাইজুল ১৩-৭-১২-০, মিরাজ ১৬-২-৫২-৩, নাঈম ৭-১-২৯-০।