গল্প-কথায় পদার্থ বিজ্ঞান:মহাবিশ্বের সৃষ্টি-বিগব্যাং

মাধব রায়, সহকারী অধ্যাপক

ব্লু বার্ড হাইস্কুল অ্যান্ড কলেজ, সিলেট

নীলকান্তবাবু বললেন-সমপ্রসারণশীল বিশ্বকে যদি সময়ের সাথে সাথে পিছিয়ে নেয়া যায়, তাহলে একটা সময় কোনও বিন্দুতে এসে পৌঁছাবে। এই বিন্দুটাকেই বলা হয় অনন্যবিন্দু বা সিংগুলারিটি। এই বিন্দুতেই মহাবিশ্বের সমস্ত ভর কেন্দ্রীভূত ছিল।

অনন্যবিন্দুর কথা বলতেই বেলুন নাড়ানো বন্ধ করে বিন্দু বলল-তাহলে তো আমিই বিশ্ব সৃষ্টি করেছি।

হাসল সবাই। নীলকান্তবাবু বললেন-হ্যাঁ, তুমিই বিশ্ব সৃষ্টি করেছ, মানে হচ্ছে বিন্দু থেকেই মহাবিষ্ফোরণের মাধ্যমে মহাবিশ্বের উত্পত্তি। একেই বলে বিগব্যাং। বিগব্যাং থেকেই স্থান ও কালের উত্পত্তি। জর্জ ল্যামাইটারকে তাই বিগব্যাং মডেলের জনক বলা হয়।

তাহলে বিগব্যাং-এর আগে স্থান-কাল ছিল না? বলল সীমা।

না।

রেখা বলল-এই ঘটনা কতদিন আগে হতে পারে বাবা?

বিন্দু বলল-অ-নে-ক দিন।

নীলকান্তবাবু বললেন-এরও একটা হিসাব করা হয়েছে। ১৯৪৬ খ্রিস্টাব্দে জর্জ গ্যামো, র্যালফ আলফার এবং রবার্ট হেরম্যান বলেন, বিশ্ব যদি প্রসারমান হতে থাকে, তাহলে তো এর ঘনত্ব শুধু কমছে এবং শুরুতে এর ঘনত্ব অনেক বেশি ছিল। কারণ তখন তো বিশ্বের সমস্ত ভর অনন্যবিন্দুতে কেন্দ্রীভূত ছিল। গ্যামোর হিসাবে এই সময়টা প্রায় একহাজার কোটি বত্সর থেকে দুইহাজার কোটি বত্সর। এই সময়কে বলা হয় গ্যামোর মহাবিশ্বের বয়স।

কিন্তু মহাবিশ্বের ঘনত্ব তো স্থির, কমছে না-বলল অণু।

হ্যাঁ, বললেন নীলকান্তবাবু।

কমলা বললেন-এই ব্যাখ্যা কি সবাই মেনে নিয়েছে?

নীলকান্তবাবু বললেন-সবাই মানবে বিষয়টা এরকম নয়। ১৯৪৮ খ্রিস্টাব্দে বিজ্ঞানী ফ্রেড হয়েল, হারম্যান বন্ডি এবং থমাস গোল্ড বিগব্যাং মডেল এর বিরোধিতা করে বলেন, ঘনত্ব যদি স্থিরই থাকে, তাহলে মহাবিশ্ব এখন যেমন ছিল আগেও তেমনই ছিল। বিবিসি রেডিও’র এক সাক্ষাত্কারে ফ্রেড হয়েল বিদ্রুপ করে এই মডেলের নাম দেন বিগব্যাং এবং এই নামেই এটি পরিচিতি পায়।

আকাশ বলল-মহাবিশ্ব প্রসারিত হচ্ছে, আবার ঘনত্বও কমছে না, তাহলে এটি কীভাবে সম্ভব?

হ্যাঁ, ঘনত্ব অপরিবর্তীত থাকতে হলে প্রতি দশ লাখ বছরে প্রতি ঘনমিটারে মাত্র একটি হাইড্রোজেন পরমাণু সৃষ্টি হওয়া প্রয়োজন।         

            পরের অংশ আগামীকাল