আমাদের সমাজ এখনো মেয়েরা খেলাধুলা করবে তা সহজে নিতে পারে না। পরিবারও নিরুত্সাহিত করে। আমার নিজের ক্ষেত্রেও তাই হয়েছে। মেয়েদের নিরাপত্তার সমস্যা সবসময় মোকাবিলা করতে হয়। আর মেয়েরা দৌড়ালে রাস্তায় লোকজন বাজেভাবে তাকাত। এছাড়া অনেক পরিবারে মেয়েদের খেলাধুলায় উত্সাহিত করার মতো আর্থিক সমর্থও থাকে না—দেশে মেয়েদের খেলাধুলার অবস্থা নিয়ে এভাবে বলেন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব ঢাকা ম্যারাথন ইভেন্টে প্রথম স্থান অধিকারী ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ম্যানেজমেন্ট ইনফরমেশন সিস্টেমস বিভাগের ছাত্রী হামিদা আক্তার জেবা। তবে তিনি কীভাবে খেলায় এলেন? তার প্রস্তুতিটাই কেমন ছিল—প্রশ্ন করলে জানান, আমার বিশ্বাস ছিল আমি পারব। এজন্য আমি নিজে নিজে চেষ্টা করেছি। স্কুল লাইফে হ্যান্ডবল খেললেও কলেজে গিয়ে চ্যাম্পিয়ন হই। ম্যারাথন প্রতিযোগিতায় নিজেকে প্রস্তুত করার কথা জানিয়ে তিনি বলেন, হ্যান্ডবল-ফুটবলসহ বিভিন্ন ক্রীড়ায় অংশ নিলেও ২০১৮ সালে ম্যারাথন অনুশীলন করি।
যখন প্রথমবারের মতো এই ইভেন্ট খোলা হলো, আমি অনলাইনে আবেদন করি। ১৭টি দেশের অংশগ্রহণে অনুষ্ঠিত এ প্রতিযোগিতার তত্ত্বাবধানে ছিল বাংলাদেশ সেনাবাহিনী ও এশিয়ান অ্যাথলেটিক ফেডারেশন। আর্মি স্টেডিয়াম থেকে শুরু হয়ে হাতিরঝিল পর্যন্ত ৪২ দশমিক ১৯৫ কিলোমিটার ম্যারাথনে বাংলাদেশি মহিলা ক্যাটাগরিতে সেরা হয়ে গোল্ড মেডেলসহ প্রাইজমানি হিসেবে ৫ লাখ টাকা পুরস্কার পেয়েছেন ঐ দৌড়বিদ। প্রথমবারের মতো অনুষ্ঠিত এ প্রতিযোগিতায় সর্বোচ্চ স্থান অধিকার করে উচ্ছ্বসিত জেবা বলেন, আমার বাড়ি চট্টগ্রামের পটিয়া হলেও পড়াশোনা করেছি ঢাকায়। স্কুল ছিল ভাষানটেক উচ্চ বিদ্যালয় আর কলেজ ছিল আদমজী ক্যান্টনমেন্ট কলেজ। ছোটবেলা থেকে আমার ক্রীড়ার প্রতি আকর্ষণ ছিল। কিন্তু খেলার মাঠের সুবিধা ছিল না। বাসার গলিতে ভাইয়ারা ক্রিকেট খেলতেন। আমিও যোগ দিতাম। ফুটবল, হ্যান্ডবল সব খেলায় অংশ নিতাম। করোনা ভাইরাসের কারণে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব ঢাকা ম্যারাথন ইভেন্টে মাত্র ২০০ জনকে অংশগ্রহণের সুযোগ দেওয়া হয়। এর কারণে বাছাই পর্বটা কঠিন ছিল। আমি চেষ্টা করলাম এবং সফল হলাম।