শামীম হামিদ, চট্টগ্রাম অফিস
চতুর্থ দিন ওয়েস্ট ইন্ডিজের তিন উইকেট ফেলে দিয়ে জয়ের আশায় বুক বেঁধেছিল বাংলাদেশ। কিন্তু পঞ্চম দিনে সাগরিকার উইকেট রাজ্যের হতাশা উপহার দিয়েছে টাইগারদের। ৩৯৫ রানের লক্ষ্য তাড়া করে অবিশ্বাস্যভাবে ম্যাচ জিতেছে সফরকারীরা। দিনের অন্তিম সময় পর্যন্ত লড়াই হলেও হারের তিক্ততা সঙ্গী হয়েছে মুমিনুল বাহিনীর।
তিন উইকেটে হেরে সিরিজে পিছিয়ে পড়েছে বাংলাদেশ। কাইল মেয়ার্সের অনবদ্য ডাবল সেঞ্চুরির কাছেই মূলত হার মেনেছে স্বাগতিকরা। ম্যাচের পর পরাজয়ের কারণ জানতে চাইলে টাইগার অধিনায়ক মুমিনুল বলেন, ‘ব্যাপারটা কিছুটা অবিশ্বাস্যই। তবে ক্রিকেটে এমন অনেক কিছুই হয়। আমরা আশা করিনি যে এরকম হবে। মনে হয় আমাদের বোলাররা জায়গা মতো বল করতে পারেনি। ওদের দুই ব্যাটসম্যান (মেয়ার্স ও বোনার) খুব ভালো ব্যাটিং করেছে। এই ম্যাচের কোনো পর্যায়েই আমার কাছে মনে হয়নি যে বাংলাদেশ হারতে পারে। প্রথম চারদিন এই ম্যাচে কিন্তু আমরাই পুরোপুরি আধিপত্য বিস্তার করে খেলেছি। আমরা হেরে গেছি শেষ দিনে এসে।’
জহুর আহমেদ চৌধুরী স্টেডিয়ামের উইকেটে কেউ যদি সেট হয়ে যায় তাহলে তাদের আউট করা কঠিন মন্তব্য করে মুমিনুল বলেন, ‘ওদের দুই ব্যাটসম্যান দুটি সুযোগ দিয়েছিল। সুযোগগুলো কাজে লাগাতে পারিনি। তা না হলে খেলাটা অন্যরকম হতে পারত।’
হারের দায় পুরো দলের ওপরই দিয়েছেন মুমিনুল। তিনি বলেন, ‘টিমের জয় মানে সবার জয়। পরাজয়ের অর্থ সবার পরাজয়। টিম যখন হেরেছে আমরা সবাই একসঙ্গে হেরেছি।’
ম্যাচে বোলার সাকিবের অনুপস্থিতি ভুগিয়েছে বাংলাদেশকে। মুমিনুল বলেন, ‘সাকিব ভাই থাকলে বোলিংটা আরো গোছানো হতো। তিনি একজন সিনিয়র খেলোয়াড় হিসেবে বাকি বোলারদের আগলে রাখতে পারতেন। উনি না থাকাতে বোলিং কিছুটা মিস করেছি। উনার সঙ্গে অধিনায়ক হিসেবে খুব একটা ম্যাচ খেলিনি। এই প্রথম খেলার একটা সুযোগ এসেছিল। আগে খেললে হয়তো জিনিসটা ভালোভাবে বুঝতে পারতাম। ’
সফরকারীদের জয়ের পেছনে কাইলি মেয়ার্সের ব্যাটিংয়ের উচ্ছ্বসিত প্রশংসা করে মুমিনুল বলেন, ‘দ্বিতীয় ইনিংসে ৪০০ রানের কাছাকাছি চেজ করা আবার তার মধ্যে নিজেই ২০০ রান করা, কাজটা এত সহজ ছিল না। মেয়ার্স সত্যি অসাধারণ নৈপুণ্য দেখিয়েছে।’ উইন্ডিজদের জয়ের পথে অগ্রসৈনিকের ভূমিকা পালন করেছেন ৩১০ বলে ২০ চার ও ৭ ছয়ে অপরাজিত ২১০ রান করে মেয়ার্স। এনক্রুমা বনারের সঙ্গে তার ২১৬ রান জুটিটিই ম্যাচ থেকে ছিটকে যায় বাংলাদেশ।
স্কো র কা র্ড
বাংলাদেশ-ওয়েস্ট ইন্ডিজ
প্রথম টেস্ট, পঞ্চম দিন
ভেন্যু : জহুর আহমেদ চৌধুরী স্টেডিয়াম, চট্টগ্রাম
টস : বাংলাদেশ
বাংলাদেশ প্রথম ইনিংস : ৪৩০/১০
ওয়েস্ট ইন্ডিজ প্রথম ইনিংস : ২৫৯/১০
বাংলাদেশ দ্বিতীয় ইনিংস : ২২৩/৮ ডিক্লে.
ওয়েস্ট ইন্ডিজ দ্বিতীয় ইনিংস (লক্ষ্য ৩৯৫)
(চতুর্থ দিন শেষে ১১০/৩; বনার ১৫*, মেয়ার্স ৩৭)
রান বল ৪ ৬
বনার এলবিডব্লিউ ব তাইজুল ৮৬ ২৪৫ ১০ ১
মেয়ার্স অপরাজিত ২১০ ৩১০ ২০ ৭
ব্ল্যাকউড ব নাঈম ৯ ১১ ০ ১
দা সিলভা ব তাইজুল ২০ ৫৯ ২ ০
রোচ ক সাব (সাইফ) ব মিরাজ ০ ১২ ০ ০
কর্নওয়াল অপরাজিত ০ ১ ০ ০
অতিরিক্ত (বা ১১, লেবা ৪) ১৫
মোট (১২৭.৩ ওভারে, ৭ উইকেট) ৩৯৫
উইকেট পতন : ৪-২৭৫ (বনার), ৫-২৯২ (ব্ল্যাকউড), ৬-৩৯২ (দা সিলভা), ৭-৩৯৪ (রোচ)।
বোলিং : মুস্তাফিজ ১৩-১-৭১-০, তাইজুল ৪৫-১৮-৯১-২, মিরাজ ৩৫-৩-১১৫-৪, নাঈম ৩৪.৩-৪-১০৫-১।
ফল :ওয়েস্ট ইন্ডিজ ৩ উইকেটে জয়ী।
সিরিজ : দুই ম্যাচ সিরিজে ১-০তে এগিয়ে ওয়েস্ট ইন্ডিজ।
ম্যাচসেরা : কাইল মেয়ার্স।