বেসরকারি মহিলা হোস্টেলের দুরবস্থা

মোরশেদা ইয়াসমিন পিউ

ব্যক্তিমালিকানাধীন নারী হোস্টেলগুলোর অবস্থা ভালো নয়। মাসের পর মাস হোস্টেলে কোনো ছাত্রী না থাকায়, লোকসান গুনতে হচ্ছে ঐসব হোস্টেল মালিকদের। প্রতি মাসে মোটা অংকের ভাড়ার টাকা পরিশোধ করতে হচ্ছে তাদের। ফলে বেশির ভাগ হোস্টেলই এখন বন্ধ হওয়ার উপক্রম হয়েছে।

রাজধানীর প্রায় সবগুলো প্রাইভেট হোস্টেল গড়ে উঠেছে বাসাভাড়া নিয়ে। হোস্টেলের ছাত্রীদের কাছ থেকে সিটভাড়া তুলেই মূলত চলতো এসব হোস্টেল। কিন্তু গত বছরের মার্চ মাসে করোনা ভাইরাস প্রতিরোধে সরকারি ঘোষণায় শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলো বন্ধ হওয়ার পাশাপাশি শুরু হয় লকডাউন। সে সময় একে একে ছাত্রীরা হোস্টেল ছেড়ে চলে যান। তখন থেকেই প্রতি মাসে বাসাভাড়া গুনতে হচ্ছে হোস্টেল মালিকদের। সঙ্গে আয়া, পিয়নদের বেতনের টাকাও পরিশোধ করতে হচ্ছে। এ অবস্থায় অনেকেই ব্যবসা ছেড়ে দিয়েছেন। আবার কেউ কেউ ঋণগ্রস্ত হয়ে গেছেন বলে জানান একাধিক হোস্টেল মালিক।

জানা গেছে, রাজধানীর লালমাটিয়া, মোহাম্মদপুর, ফার্মগেট, গ্রীন রোড, আজিমপুর, পশ্চিম রাজাবাজার, মনিপুরীপাড়া, ধানমন্ডি, শ্যামলীসহ বিভিন্ন এলাকায় ছাত্রী ও কর্মজীবী নারীদের জন্য শতাধিক বেসরকারি মহিলা হোস্টেল রয়েছে। বিভিন্ন প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয়, কলেজ, স্কুল, মাদ্রাসা, কারিগরি ও উচ্চশিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে পড়ুয়া ছাত্রী ও কর্মজীবী নারীরা মূলত এসব প্রাইভেট হোস্টেলে মাসিক চুক্তি ভিত্তিতে ভাড়া থাকতেন। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, হোস্টেলে থাকা মেয়েদের পরিশোধিত নিয়মিত থাকা ও খাওয়ার টাকায় মূলত এসব হোস্টেলের মাসিক বাসাভাড়া এবং আনুসঙ্গিক খরচ চলতো। এখন ছাত্রী না থাকায় বিপদে পড়েছেন মালিকরা। এমন পরিস্থিতিতে অনেকে বাধ্য হয়ে সেখানে থাকা দুই-এক জন মেয়েকে বিদায় করে হোস্টেল বন্ধ করে দিচ্ছেন।

যদিও অভিযোগ রয়েছে, রাজধানীতে ব্যাঙের ছাতার মতো গজিয়ে ওঠা ছাত্রছাত্রীদের থাকার এসব হোস্টেল চলতো অধিক মুনাফার কারখানা হিসেবে। আত্মীয়-পরিজনহীন মেয়েরা লেখাপড়া করতে রাজধানীতে এলে এসব হোস্টেলই ছিল মূলত তাদের একমাত্র ভরসা। আর গ্রামে থাকা অভিভাবকরাও এসব হোস্টেলে তাদের মেয়েকে দিয়ে নিশ্চিত থাকতেন। এক রুমে চার থেকে ছয়টি সিঙ্গেল খাট বসিয়ে অধিক ভাড়া আদায় করা হতো। তাতেও মন্দের ভালো ছিল এই হোস্টেলগুলো। অনেক অভিভাবক আশঙ্কা প্রকাশ করছেন, হোস্টেলগুলো বন্ধ হয়ে গেলে তাদের মেয়েরা থাকবে কোথায়! বিশ্ববিদ্যালয় খুললে মেয়েরা কোথায় উঠবে তা নিয়ে রীতিমত দুশ্চিন্তায় আছেন তারা।

লালমাটিয়ার নিবেদিকা ছাত্রী হোস্টেলের ম্যানেজার সিখা হায়দার জানান, পাঁচ তলা একটি বাড়ি ভাড়া নিয়ে হোস্টেলটি চালানো হচ্ছে। এখানে দুই শতাধিক ছাত্রী ও কর্মজীবী মেয়েরা থাকেন। থাকা-খাওয়া বাবদ মাসে ৪ থেকে ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত নেওয়া হতো। এখানে ১০ জন কাজের বুয়া, চার জন নিরাপত্তা প্রহরীসহ ২০ জন কর্মচারী আছেন। করোনা পরিস্থিতিতে বুয়া ও নিরাপত্তাকর্মীদের বিদায় করা হয়েছে, তবে বাসাভাড়া নিয়ে আমাদের হিমশিম খেতে হচ্ছে। তিনি বলেন, বর্তমানে কর্মজীবী কয়েক জন মেয়ে আছেন। অনেকে সিট রেখে বাড়ি গেছেন কিন্তু ভাড়ার টাকা পরিশোধ করতে পারছেন না।