সিলেটের এমসি কলেজ ছাত্রাবাসে গৃহবধূ গণধর্ষণের ঘটনায় আসামিদের বিরুদ্ধে দায়েরকৃত ধর্ষণ ও চাঁদাবাজির মামলার বিচার একসঙ্গে সম্পন্ন করার নির্দেশ দিয়েছে হাইকোর্ট। একই সঙ্গে মামলার বাদী ও সাক্ষীদের যথাযথ নিরাপত্তা দিতেও সিলেটের পুলিশ কমিশনারকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এছাড়া মামলার বাদী প্রয়োজন মনে করলে ব্যক্তিগত আইনজীবী নিয়োগ দিতে পারবেন। ঐ নিয়োগকৃত আইনজীবীরা পাবলিক প্রসিকিউটরকে সহযোগিতা করতে পারবেন। ধর্ষণ মামলার বিচারের আদালত পরিবর্তনের আবেদন গ্রহণ না করে বিচারপতি এম. ইনায়েতুর রহিম ও বিচারপতি মো. মোস্তাফিজুর রহমানের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্টের ডিভিশন বেঞ্চ গতকাল রবিবার এই আদেশ দেন। আদালত বলেন, দেশের মানুষ চায় এই মামলার বিচার দ্রুততম সময়ের মধ্যে সম্পন্ন হোক। নিশ্চিত হোক ন্যায় বিচার। কিন্তু আপনারা (বাদী) ধর্ষণ মামলার বিচারিক আদালত পরিবর্তনের যে আবেদন করেছেন তাতে তো মামলার বিচার বিলম্বিত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। বিচারিক অভিজ্ঞতা থেকে আমাদের মনে হচ্ছে আপনারা কারো পাতা ফাঁদে পা দিয়েছেন।
গত বছরের ২৫ সেপ্টেম্বর রাতে সিলেটের এমসি কলেজ ছাত্রাবাসে একদল ছাত্রলীগ নেতাকর্মী কর্তৃক গৃহবধূ ধর্ষণের ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় করা মামলায় আটজনকে অভিযুক্ত করে আদালতে চার্জশিট দাখিল করা হয়। ঐ চার্জশিট আমলে নিয়ে আসামিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক মো. মোহিতুল হক চৌধুরী। মামলাটি বর্তমানে সাক্ষ্যগ্রহণ পর্যায়ে রয়েছে। এ অবস্থায় ন্যায়বিচার না পাওয়ার আশঙ্কা থেকে বিচারিক আদালত পরিবর্তন চেয়ে হাইকোর্টে আবেদন করেন ধর্ষণ মামলার বাদী।
গতকাল ঐ আবেদনের পক্ষে শুনানিতে ব্যারিস্টার সাবরিনা জেরিন ও আব্দুল কাইয়ুম লিটন বলেন, মামলার বাদী সাক্ষী দিতে হাজির না হওয়ায় তার বিরুদ্ধে জামিন অযোগ্য গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করা হয়েছে। এতে বাদী মনে করছেন তিনি ন্যায়বিচার থেকে বঞ্চিত হবেন। এ পর্যায়ে আদালত বলেন, এটা একটি স্পর্শকাতর মামলা। কেন বাদী সাক্ষী দিতে হাজির হবেন না। দ্রুত বিচার সম্পন্ন হলে সমস্যা কোথায়? আর সাক্ষী হাজির না হলে তো ট্রাইব্যুনাল যথাযথ আদেশ দেবে—এটাই স্বাভাবিক। আইনজীবীরা বলেন, আমরা ট্রাইব্যুনালের বিচারকের বিরুদ্ধে উচ্চ আদালতে আবেদন করেছি। কোর্ট পরিবর্তন করা না হলে তিনি আমাদের ওপর ক্ষুব্ধ হবেন। এ পর্যায়ে আদালত বলেন, বিভিন্ন নারী সংগঠন এই মামলার বিচার দ্রুত শেষ করে আসামিদের ফাঁসির দাবি করেছেন। মিডিয়াতেও মামলার বিচার নিয়ে না জেনে অনেক কথা বলা হয়। কিন্তু এখন ট্রাইব্যুনালের বিচারক মামলা দ্রুত শেষ করতে চাচ্ছেন। এতে দোষের কি? এরপরই হাইকোর্ট উপরোক্ত আদেশ দেন। আদালতে রাষ্ট্রপক্ষে শুনানি করেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল সারওয়ার হোসেন বাপ্পী।