গতকালের পর
সীমা বলল-বিগব্যাং-এর সময় তাপমাত্রাও কি বর্তমানের মতো ছিল?
নীলকান্তবাবু বললেন-না, তখন তাপমাত্রা ছিল অসীম। তাই একে উষ্ণ বিগব্যাং মডেলও বলা হয়। বিজ্ঞানী গ্যামো আরও অনুমান করলেন, বিগব্যাং থেকে মহাবিশ্বের উত্পত্তি হলে সেই সময়কার কিছু বিকিরণের অস্তিত্ব থাকাটা অসম্ভব নয়। ১৯৬৫ খ্রিস্টাব্দে বিজ্ঞানী আর্নো অ্যালান পেঞ্জিয়াস ও রবার্ট উইলসন কিছু বিকিরণের অস্তিত্ব পেলেন এবং বললেন, এই বিকিরণ সবসময় সবদিক থেকেই আসছে। তাঁরা হিসাব করে দেখালেন, এই বিকিরণের তাপমাত্রা 3 কেলভিন।
১৯৮৯ সালে মহাজাগতিক পটভূমি এক্সপোরার বা কোবে (Cosmic Background Explorer, COBE) স্যাটেলাইটের মাধ্যমে বিকিরণের তাপমাত্রা পরিমাপ করে দেখা যায় এটি 2.7 কেলভিন।
চন্দ্রা বলল-বিগব্যাং-এর পরেই কি আমাদের সূর্য, পৃথিবী সৃষ্টি হয়ে গেল?
নীলকান্তবাবু বললেন-না, বিগব্যাং-এর পর আরও নানান ঘটনার মাধ্যমে আজকের এই অবস্থা।
কমলা বললেন-তাহলে সেটি বলো।
নীলকান্তবাবু বললেন-বিগব্যাং এর ১ সেকেন্ড থেকে ৩ মিনিট সময়কে বলা হয় লেপটনের কাল। এই সময়ের মধ্যে মহাবিশ্বের মূল বস্তুকণা, যেমন কোয়ার্ক, ইলেকট্রন, ফোটন, নিউট্রিনো ইত্যাদির উত্পত্তি হয়। মহাবিশ্ব ক্রমশ ঠান্ডা হতে থাকে এবং প্রকৃতির চারটি মৌলিক বল-মহাকর্ষ বল, দুর্বলনিউক্লিয় বল, তাড়িেচৗম্বক বল, সবলনিউক্লিয় বল সৃষ্টি হয়।
3 মিনিট থেকে 20 মিনিট সময়কালকে নিউক্লিয় সংশেষণের কাল হিসেবে বিবেচনা করা হয়। তখন মহাবিশ্বের তাপমাত্রা 100 কোটি কেলভিন-এ নেমে আসে। প্রোটন, নিউট্রন মিলিত হয়ে সরল প্রাথমিক মৌল, যেমন হাইড্রোজেন, হিলিয়াম, লিথিয়ামের নিউক্লিয়াস গঠন করে।
সবাই মন দিয়ে মহাবিশ্ব সৃষ্টির এই ঘটনা শুনছে। কেউ কিছু বলছে না। নীলকান্তবাবু আবার শুরু করলেন-বিগব্যাংএর ৩ মিনিট থেকে ২ লক্ষ ৪০ হাজার বছর পর্যন্ত সময়কে ফোটনের কাল বা বিকিরণের আধিপত্যের কাল হিসেবে বিবেচনা করা হয়। তখন শক্তি থেকে বস্তুর পরিমাণ অধিকতর হয়।
২ লক্ষ ৪০ হাজার বছর থেকে ৩০ লক্ষ বছর পর্যন্ত সময়কে বলা হয় পুনঃসংযোগ বা ডি কাপলিং এর যুগ। এই সময়ে তাপমাত্রা 3000 K এ নেমে আসে। ঘনত্ব কমে আসে এবং আয়নিত হাইড্রোজেন ও হিলিয়াম পরমাণু ইলেকট্রন গ্রাস করে তড়িত্ নিরপেক্ষ হতে থাকে।
পরের অংশ কাল