স্পোর্টস ডেস্ক
শেষ দিনের মধ্যাহ্ন বিরতি পর্যন্ত রাওয়ালপিন্ডি টেস্টের পেন্ডুলাম ঝুলছিল দুই দিকেই। কিন্তু দ্বিতীয় নতুন বল পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই মোড় ঘুরিয়ে দেয় পাকিস্তান। রূপকথার বদলে আরো একবার হতাশার কাব্য লিখল দক্ষিণ আফ্রিকা। ৯৫ রানে জিতে প্রথমবারের মতো প্রোটিয়াদের টেস্টে হোয়াইটওয়াশ করল পাকিস্তান। এর আগে সিরিজের প্রথম টেস্টটি ৭ উইকেটে জিতেছিল স্বাগতিকরা।
৩৭০ রানের লক্ষ্যে ১ উইকেটে ১২৭ রান নিয়ে শেষ দিনে নেমেছিল দক্ষিণ আফ্রিকা। শুরুতে রসি ভ্যান ডার ডুসেন ও ফাফ ডু প্লেসিসকে ফিরিয়ে ভয় ধরিয়ে দেন হাসান আলী। তবে টেম্বা বাভুমাকে (৬১) নিয়ে লড়াই চালিয়ে যান তিন বছর পর সেঞ্চুরি পাওয়া মারক্রাম (১০৮)। তাতে রোমাঞ্চকর এক জয়ের স্বপ্নও দেখতে থাকে প্রোটিয়ারা। কেননা গত পরশু এশিয়ায় সর্বোচ্চ রান তাড়া করে জিতে তাদের অনুপ্রেরণা জুগিয়েছে ওয়েস্ট ইন্ডিজ।
একটা সময় পথটা মসৃণ দেখালেও দ্বিতীয় নতুন বলে দুই পেসার হাসান আলী ও শাহীন শাহ আফ্রিদির তোপে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ফেলে প্রোটিয়াদের গাড়ি। নতুন বলে মাত্র ১১.৪ ওভারেই ২৩৮-৩ থেকে ২৭৪-১০ এ পরিণত হয় সফরকারীরা। প্রথম ইনিংসের মতো দ্বিতীয় ইনিংসেও ৫ উইকেট নিয়ে প্রথমবারের মতো ম্যাচে ১০ উইকেট লাভ করেন হাসান। অনুমিতভাবে ম্যাচ সেরার পুরস্কারও উঠেছে তার হাতে। সিরিজসেরা হয়েছেন এই ম্যাচে ক্যারিয়ারের প্রথম সেঞ্চুরি পাওয়া পাকিস্তান উইকেটরক্ষক মোহাম্মদ রিজওয়ান।
প্রায় চার বছর পর টেস্ট দলে দুর্দান্তভাবে প্রত্যাবর্তন করেছেন। আনন্দে আত্মহারা এই পেসার বলেন, ‘আমি খুবই খুশি। স্বপ্নের মতো প্রত্যাবর্তন করেছি এবং সিরিজ জয়ের পেছনে আমার অবদান দলের জন্য কার্যকারী ছিল।’
সংক্ষিপ্ত স্কোর
পাকিস্তান : ২৭২ ও ২৯৮
দক্ষিণ আফ্রিকা : ২০১ ও (লক্ষ্য ৩৭০) ২৭৪/১০ (মারক্রাম ১০৮, ডুসেন ৪৮, বাভুমা ৬১; শাহীন ৫১-৪, হাসান ৬০-৫)।
ফল : পাকিস্তান ৯৫ রানে জয়ী।
ম্যাচ সেরা : হাসান আলী।
সিরিজ সেরা : মোহাম্মদ রিজওয়ান।
সিরিজ : পাকিস্তান ২-০ ব্যবধানে জয়ী।