নাঙ্গলকোটে তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করে মা ও ভাবিকে কুপিয়ে হত্যা, আহত ১

নাঙ্গলকোটে বোনের বাড়ি থেকে আনা পিঠা ভাইকে খাওয়ানকে কেন্দ  করে সৃষ্ট কলহের জের ধরে মাকে বটি দিয়ে ও ভাবিকে গলায় ছুরি দিয়ে কুপিয়ে হত্যা করেছে সাইফুল ইসলাম নামে এক যুবক। গতকাল সোমবার সকাল ১১টায় উপজেলার আদ্রা দক্ষিণ ইউনিয়নের পুজকরা গ্রামে ঘটনাটি ঘটেছে। নিহতরা হলেন—সাইফুলের মা নুরজাহান বেগম (৬৫) ও তার সত্ ভাবি নুর নাহার (৪৫)। পুলিশ ঘাতক সাইফুলকে আটক করেছে। অস্ত্রের আঘাতে আহত সাইফুলের ভাতিজি আরজু আক্তারকে কুমিল্লা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। পুলিশ দুই জনের লাশ উদ্ধার করেছে।

পুলিশ ও এলাকাবাসী সূত্রে জানা যায়, উপজেলার আদ্রা দক্ষিণ ইউনিয়নের পুজকরা গ্রামের আবদুল হাইয়ের মেয়ে জেসমিন আক্তারের ইতিপূর্বে দুই/তিনটি বিয়ে হয়। প্রায় এক মাস আগে জেসমিন বাড়ির পার্শ্ববর্তী শাহজাহানকে বিয়ে করে। কিন্তু জেসমিনের ভাই সাইফুল এই বিয়ে মেনে নিতে পারেনি। গত রবিবার জেসমিনের বাড়ি থেকে শীতের পিঠা আনলে সাইফুলের মা নুরজাহান সাইফুলকে না জানিয়ে সেই পিঠা খাওয়ায়। পরে সাইফুল বিষয়টি জানতে পেরে ক্ষুব্ধ হয়ে বটি দিয়ে মায়ের মাথায় কোপ দেয়। পরে তার ভাই আজিজুল হকের ঘরে গিয়ে তার ভাবি নুর নাহারের গলায় ও মাথায় ছুরি দিয়ে কোপাতে থাকে। এক পর্যায়ে সাইফুলের ভাতিজি আরজু আক্তারের ৯ মাস বয়সি মেয়ে আফছানাকে কোপাতে গেলে আরজু বাধা দেয়। এ সময় সাইফুল আরজুর ডান হাতে কোপ দেয়। আহত নুরজাহান ও নুরনাহারকে কুমিল্লায় হাসপাতালে নেওয়ার পথে মৃত্যু হয়।

নাঙ্গলকোট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) বখতিয়ার উদ্দিন চৌধুরী বলেন, নিহত নুর নাহারের স্বামী আজিজুল হক ৯৯৯ ফোন করে ঘটনাটি জানায় । পরে খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে ঘাতক সাইফুলকে গ্রেফতার করে থানায় নিয়ে আসি। নিহতদের সুরতহাল রিপোর্ট তৈরি করে ময়নাতদন্তের জন্য কুমিল্লা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে প্রেরণ করা হবে। এজাহার প্রাপ্তি সাপেক্ষে তদন্ত পূর্বক মামলার পরবর্তী কার্যক্রম গ্রহণ করা হবে।