ভোটে স্থানীয় প্রশাসনের হস্তক্ষেপে ক্ষুব্ধ ইসি

চলমান পৌরসভার ভোটে স্থানীয় প্রশাসনের ভূমিকায় ক্ষুব্ধ হয়েছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। স্থানীয় প্রশাসনের উপস্থিতিতে বিভিন্ন ধাপে অনিয়ম, সহিংসতা, কেন্দ্র দখল, ব্যালটে সিলমারার ঘটনায় তিনটি পৌরসভার ঘোষিত বেসরকারি ফলাফল স্থগিত করেছে কমিশন। টাঙ্গাইলের ভূঞাপুর, ঝালকাঠীর নলছিটি ও সাতক্ষীরার কলারোয়ার ফলাফল স্থগিত করে অনিয়মের তদন্ত প্রতিবেদন দেওয়ার জন্য সংশ্লিষ্ট রিটার্নিং অফিসারদের নির্দেশ প্রদান করা হয়েছে। কঠোরভাবে অনিয়ম প্রতিরোধে স্থানীয় প্রশাসনের সঙ্গে সিরিজ বৈঠক শুরু করেছে সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানটি।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে নির্বাচন কমিশনার কবিতা খানম বলেন, পৌরসভার নির্বাচনে তৃতীয় ধাপে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির সামান্য বিঘ্ন ঘটেছে। তিনটি জায়গায় আমরা পত্রিকার নিউজ দেখে রিটার্নিং অফিসারকে প্রতিবেদন দিতে বলেছি। কেন আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির বিঘ্ন ঘটেছে, কারা ঘটিয়েছে, কেন ভঙ্গ হলো, কারা দায়ী— এই বিষয়গুলোর ওপর তদন্ত করে একটি প্রতিবেদন পাঠাতে বলা হয়েছে। এই তিনটির বেসরকারি ফলাফলও আমরা স্থগিত করেছি। প্রতিবেদন পাওয়ার পর যদি দেখা যায় যে অপরাধ ঘটেছে, তাহলে যে পদক্ষেপ নেওয়া দরকার, আমরা নেব। এক্ষেত্রে ফৌজদারি বা নির্বাচনি আইনে মামলা দায়ের করব। এটা আমরা করতে চাই, যাতে একটা মেসেজ যায় যে, কোনো ধরনের বিশৃঙ্খলায় কমিশন কঠোরভাবে এগুলো দমন করতে সব ধরনের ব্যবস্থা নেবে।

ইসি সূত্র জানিয়েছে, বিগত তিন ধাপের পৌরসভার ভোট নিয়ে সন্তুষ্ট নয় কমিশন। এজন্য এবার হার্ডলাইনে যাচ্ছে কমিশন। মাদারীপুরে আইনশৃঙ্খলাবাহিনী কর্তৃক একজন প্রার্থীকে ঢাকায় উঠিয়ে আনা এবং সাতক্ষীরার কলারোয়া উপজেলা চেয়ারম্যানকে ভোটের আগে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পরিচয়ে তুলে নেওয়ার অভিযোগ রয়েছে। সংশ্লিষ্টদের মতে, স্থানীয় প্রশাসনের শিথিলতার কারণে নির্বাচনে অনিয়ম ও সহিংসতার ঘটনায় ঘটছে। অভিযোগ রয়েছে, ভোটের দায়িত্বে নিয়োজিতরাই অনিয়মে জড়িয়ে পড়ছেন। ইতিমধ্যে কয়েক জন প্রিজাইডিং অফিসার, সহকারী প্রিজাইডিং অফিসার ও পোলিং অফিসার গ্রেফতারও হয়েছেন।

নির্বাচন কমিশন বিভিন্ন পত্রপত্রিকায় পৌরসভা নির্বাচনের অনিয়ম সংক্রান্ত সংবাদ গুরুত্ব দিয়ে তদন্তের সিদ্ধান্ত নিয়েছে। তদন্তের প্রতিবেদন না আসা পর্যন্ত নির্বাচনের ফলাফল স্থগিত রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এরই অংশ হিসেবে গত বৃহস্পতিবার ভূঞাপুর, নলছিটি ও কলারোয়ার বেসরকারি ফলাফল স্থগিত করা হয়েছে। পাঁচ কার্যদিবসের মধ্যে তিন পৌরসভার অনিয়মসংক্রান্ত সংবাদগুলো সম্পর্কে রিটার্নিং অফিসারদের প্রতিবেদন পাঠানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। রিটার্নিং অফিসারদের প্রতিবেদনের পর ঐ পৌরসভার ফলাফলের বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবে কমিশন।

স্থানীয় প্রশাসনের সঙ্গে সিরিজ বৈঠক :ভোটে অনিয়ম ঠেকাতে স্থানীয় প্রশাসনের সঙ্গে সিরিজ বৈঠক শুরু করেছে নির্বাচন কমিশন। সোমবার নির্বাচন কমিশনার কবিতা খানম, নির্বাচন কমিশনের সচিব খোন্দকার হুমায়ুন কবির রাজশাহী ও রংপুর বিভাগের বিভাগীয় কমিশনার, জেলা প্রশাসক, জেলা পুলিশ সুপার, আঞ্চলিক নির্বাচন কর্মকর্তা, রিটার্নিং অফিসার, সহকারী রিটার্নিং অফিসার, জেলা নির্বাচন অফিসার, উপজেলা নির্বাচন অফিসার সঙ্গে ভার্চুয়াল বৈঠক করেন। তিন ঘণ্টাব্যাপী ঐ বৈঠকে দুই বিভাগের সংশ্লিষ্টদের নির্বাচন অনিয়ম প্রতিরোধে কড়া বার্তা দেওয়া হয়।

নির্বাচন কমিশনার কবিতা খানম জানান, চতুর্থ ধাপে ৫৬টি এবং পঞ্চম ধাপে ৩১টি পৌরসভা নির্বাচন হতে যাচ্ছে । এই নির্বাচনকে কেন্দ্র করে রংপুর ও রাজশাহী বিভাগের যেখানে যেখানে নির্বাচন আছে সেখানকার রিটার্নি অফিসার, ডিসি, এসপি সহাকারী রিটার্নি অফিসার, পুলিশ কমিশনারের সঙ্গে মিটিং করেছি। আমার সঙ্গে ইসি সচিব যুক্ত ছিলেন।

বৈঠকের ধারাবাহিকতায় আজ মঙ্গলবার দুপুর ১২টায় নির্বাচন কমিশনার ব্রিগেডিয়ার জেনারেল শাহাদাত হোসেন চৌধুরী চট্টগ্রাম ও সিলেট বিভাগের সঙ্গে বৈঠক করবেন। বিকাল ৩টায় নির্বাচন কমিশনার মো. রফিকুল ইসলাম খুলনা, বরিশাল বিভাগের সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে বৈঠক করবেন। আগামীকাল বুধবার দুপুর ১২টায় ঢাকা ও ময়মনসিংহ বিভাগের সঙ্গে বৈঠক করবেন নির্বাচন কমিশনার মাহবুব তালুকদার।

উল্লেখ্য, এবার পাঁচ ধাপে পৌরসভার নির্বাচন অনুষ্ঠিত হচ্ছে গত ২৮ ডিসেম্বর প্রথম ধাপে ২৪টি, ১৬ জানুয়ারি দ্বিতীয় ধাপে ৬০টি, গত ৩০ জানুয়ারি তৃতীয় ধাপে ৬২টি পৌরসভায় ভোট হয়। আগামী ১৪ ফেব্রুয়ারি চতুর্থ ধাপে ৫৬টি এবং ২৮ ফেব্রুয়ারি ৩১টি পৌরসভার ভোট অনুষ্ঠিত হবে।