স্বতন্ত্র মেয়র প্রার্থীকে তুলে নেওয়ার ঘটনায় কালকিনিতে তোলপাড়

কালকিনি পৌর নির্বাচনে স্বতন্ত্র মেয়র প্রার্থী মশিউর রহমান সবুজকে পুলিশের গাড়িতে তুলে নিয়ে ঢাকায় নিয়ে আসার ঘটনায় দেশজুড়ে চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করেছে। একই সঙ্গে পুলিশের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে বিভিন্ন মহলে। তোলপাড় সৃষ্টি হয়েছে কালকিনি উপজেলার জনগণের মাঝে। এভাবে একজন মেয়র প্রার্থীকে তুলে নেওয়া নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে তার পরিবার ও সমর্থকরা। এদিকে স্বতন্ত্র মেয়র প্রার্থী ১৪ ঘণ্টা নিখোঁজ থাকার পর সৃষ্ট সংঘর্ষের ঘটনায় ৬০ জনের বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে। কালকিনি থানায় অস্ত্র ও বিস্ফোরক আইনে এই মামলা করেন নৌকা প্রতীকের মেয়র প্রার্থী এস এম হানিফের ভাতিজা আয়নাল সরদার।

গত শনিবার দুপুরে ৪ নম্বর ওয়ার্ডের পালপাড়ায় নির্বাচনি প্রচারণ চালাচ্ছিলেন কালকিনি স্বতন্ত্র মেয়র প্রার্থী মশিউর রহমান সবুজ। দুপুর ২টার দিকে সবুজের ব্যবহূত মুঠোফোনে কল দেন মাদারীপুরের পুলিশ সুপার মোহাম্মদ মাহবুব হাসান। তাত্ক্ষণিক সেখানে কালকিনি থানার অফিসার ইনচার্জ নাছির উদ্দিন গাড়ি নিয়ে হাজির হন। পরে সেখান থেকে সবুজকে পুলিশের গাড়িতে করে তুলে নিয়ে যাওয়া হয়। এরপর পরই নিখোঁজ হন সবুজ। এরই প্রতিবাদে বিক্ষোভ নিয়ে কালকিনি থানা ঘেরাও করে সবুজের সমর্থকরা। টায়ার জ্বালিয়ে স্লোগান দেন বিক্ষুব্ধরা। এ সময় কালকিনি-ভুরঘাটা-মাদারীপুর আঞ্চলিক সড়কে যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। পরে দুই পক্ষ সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে। এতে আহত হয় উভয় পক্ষের অন্তত অর্ধশত মানুষ। প্রায় আড়াই ঘণ্টা চলা সংঘর্ষে রাবার বুলেট ও টিয়ারশেল নিক্ষেপ করে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে পুলিশ। আহতদের উদ্ধার করে মাদারীপুর জেলা সদর হাসপাতাল ও কালকিনি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়। এদিকে দুই মেয়র প্রার্থীর সমর্থকদের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনায় ৬০ জনকে আসামি করা হয়েছে। অজ্ঞাত আসামি রয়েছে আরো ২০০ থেকে ৩০০ জন।

মাদারীপুরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. আবদুল হান্নান নিশ্চিত করেন, মেয়র প্রার্থী মশিউর রহমান সবুজ বাড়ি ফিরে এসেছেন। তার কোনো ক্ষতি হয়নি। তবে ‘পুলিশ তাকে তুলে নিয়ে গিয়েছিল’—এ কথা মানতে অস্বীকার করেন তিনি। মশিউর রহমান সবুজ দাবি করেন, আওয়ামী লীগের ধানমন্ডি কার্যালয়ে কেন্দ্রীয় নেতারা তাকে দলীয় সিদ্ধান্ত মেনে নিয়ে আওয়ামী লীগের মনোনীত প্রার্থীর পক্ষে কাজ করার জন্য বলেন। একই সঙ্গে তাকে নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়ানোর অনুরোধ জানান। সবুজের স্ত্রী জাহান বলেন, ‘যদি নির্বাচনের কোনো আচরণবিধি ভঙ্গ করেন সবুজ তাহলে নির্বাচন কমিশন তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেবে। পুলিশ কেন এভাবে তাকে গাড়িতে করে উঠিয়ে নিয়ে যাবে?