চট্টগ্রামের রাউজানে ইরফাত আলম ইরা(১৮) নামের এক গৃহবধূর লাশ উদ্ধার করছে পুলিশ। সোমবার (৮ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে উপজেলার কদলপুর ইউনিয়নের ৯ নং ওয়ার্ডের ভোমর পাড়া গ্রামের ইদ্রিস চেয়ারম্যানের বাড়ি থেকে গৃহবধূর লাশ উদ্ধার করা হয়। তিনি সংযুক্ত আরব আমিরাত প্রবাসী আকিজুর রহমান ইমনের স্ত্রী।
নিহতের জা নুসরাত জাহান এলি দৈনিক ইত্তেফাককে বলেন, ‘বিকাল ৪টার দিকে আমার দেবর (নিহতের স্বামী) ফোন করে ইরা ফোন রিসিভ করছে না কক্ষে গিয়ে দেখার জন্য। গিয়ে দেখি দরজা বন্ধ। তখন ফোনে আমার দেবর বলল ইরা কিছু একটা করে ফেলেছে। তখন আমি অনেক চেষ্টা করে লাথি মেরে দরজা ভেঙ্গে কক্ষে প্রবেশ করে দেখি তিনি জানালায় গলার ওড়নায় পেঁচিয়ে ঝুলে আছেন। আমি তাৎক্ষণিক ওড়না কেটে দিয়ে নামিয়ে নিয়ে শাশুড়িকে ডেকে চিকিৎসার জন্য ঘরের বাইরে উঠানে নিয়ে আসি। ততক্ষণে তার মৃত্যু হয়।
জানা যায়, নিহত ইরা উপজেলার পাহাড়তলী ইউনিয়নের শেখপাড়া গ্রামের দুদু মিয় চৌধুরী বাড়ির মৃত দেলোয়ার আলম চৌধুরীর কন্যা। ইরা ও ইমন সম্পর্কে তারা খালাতো ভাই-বোন ছিলেন। ২০১৮ সালের প্রথম দিক ভালোবাসে পরিবারের অমতে তারা পালিয়ে বিবাহ করেন। পরবর্তী পর্যায়ে ছেলের পরিবার তাদের ঘরে তুলে নিলেও মেয়ের পরিবারের সঙ্গে কোন সম্পর্ক রাখেননি। অবশেষে রহস্যজনক মৃত্যুর পর বোনের শ্বশুর বাড়িতে আসেন ভাই আরমান চৌধুরী। তিনি তার বোনকে হত্যা করা হয়েছে এমন অভিযোগ তুলেন নিহতের জা ও শাশুড়ির বিরুদ্ধে।
ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন রাঙ্গুনিয়া সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপার আনোয়ার হোসেন শামীম ও থানা ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আব্দুল্লাহ আল হারুন।
এই বিষয়ে পুলিশ পরিদর্শক(তদন্ত) কায়ছার হামিদ বলেন, ‘ময়নাতদন্তের সাপেক্ষে বলা যাবে কি ঘটেছে। ফাঁসিতে নিজে ঝুলেছেন নাকি কেউ ঝুলিয়ে দিয়েছেন।’
রাত সাড়ে ১০ টার দিকে পুলিশ লাশ ময়নাতদন্তের উদ্দেশ্য থানা নিয়ে যান। এই জিজ্ঞাসাবাদের জন্য নিহতে জা নুসরাত জাহান এলিকে আটক করে থানায় নিয়ে আসা হয়।
ইত্তেফাক/এমআর