বিমা উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধেই ঘুষ দাবির অভিযোগ

বিমা উন্নয়ন ও নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষের (আইডিআরএ) চেয়ারম্যান এম মোশাররফ হোসেনের বিরুদ্ধে ঘুষ চাওয়ার বিষয়টি চাউর হয়ে গেছে। তার বিরুদ্ধে একটি বিমা কোম্পানি দুদকে অভিযোগও করেছে। তার সঙ্গে কথোপকথনের একটি অডিওবার্তা ফাঁস হয়েছে।

সূত্র জানায়, সরকার বিমা খাতে শৃঙ্খলা আনতে ঐ কর্তৃপক্ষ গঠন করে। কিন্তু কর্তৃপক্ষের শীর্ষ পদধারীদের বিরুদ্ধে বরাবরই উেকাচ গ্রহণ, কেনাকাটাসহ নানা অনিয়মের অভিযোগ উঠে। বিগত চেয়ারম্যানরাও এই অভিযোগের বাইরে ছিলেন না। সর্বশেষ বেসরকারি খাত থেকে কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয় মোশাররফ হোসেনকে। তিনিও বিতর্কে জড়িয়ে পড়লেন। টেলিফোন সংলাপে দেখা যায়,

এদিকে, ডেল্টা লাইফ ইনসিওরেন্স কোম্পানি আনুষ্ঠানিকভাবে তার বিরুদ্ধে ঘুষ দাবির কথা জানিয়েছে। যেখানে বলা হয়, কোম্পানির কাছে ড. মোশাররফ প্রাথমিকভাবে ২ কোটি টাকা দাবি করেন। পরে অবশ্য তা ১ কোটি ও সর্বশেষ ৫০ লাখ টাকায় নেমে আসে। এ বিষয়ে গত ৭ ডিসেম্বর দুর্নীতি দমন কমিশনে অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন কোম্পানির ঊর্ধ্বতনরা।

ঘুষ দাবি করে ডেল্টা লাইফের যুগ্ম নির্বাহী ভাইস প্রেসিডেন্ট আব্দুল আওয়ালের সঙ্গে টেলিফোনে আলাপ করেন আইডিআরএ চেয়ারম্যান ড. মোশাররফ। যেখানে তিনি বলেন যে, টাকা না দিলে আইডিআরএ থেকে ৫০ থেকে ৭০ লাখ টাকা জরিমানা করা হবে। আর জরিমানা হলে তা কোম্পানির জন্য খারাপ হয়। এভিডেন্স হয়ে যায়। আর জরিমানা না দিতে চাইলে মামলা চালাতে আরো কয়েক লাখ টাকা খরচ হয়ে যাবে। এজন্য আগামী তিন বছর শান্তিতে যাতে কাজ করা যায় সেজন্য স্যারকে বুঝিয়ে বলেন। বিষয়টি আমাকে হেন্ডেল করতে দেন। আমি এখানে অনেকদিন আছি। ‘সো লং আই অ্যাম সিটিং অভার দেয়ার’। আইনের বাইরে যেয়ে আইডিআরএতে কেউ কোনো কাজ করতে পারবে না। সেটা যে যতই প্রেশারই করুক।

কথোপকথনে আইডিআরএ চেয়ারম্যান বলেন, প্রধানমন্ত্রী অফিসে পলিসি হোল্ডারদের হিসাব দেওয়ার কথা ছিল না। কিন্তু আপনারা দিয়েছেন। ঐখানে যোগাযোগ করলে এখানে কেন দিয়েছেন। সেখান থেকেই আমার কাছে তথ্য এসেছে। ঐখানে কে দিতে বলেছে। আইডিআরএ হলো আপনাদের বাপ-মা। অর্থমন্ত্রী স্যার আমার ওপর কথা বলবেন না। আর সিনিয়র সচিব স্যারও আমার ওপর কথা বলবেন না। অ্যান্ড দে হ্যাভ নোন-হোয়াট ইজ গোয়িং অন।

কোম্পানি থেকে এত টাকা ঘুষ দিলে তা হিসাবে মেলানো যাবে না বলে আওয়াল জানালে আইডিআরএ চেয়ারম্যান বলেন যে, ডেলটা থেকে না দিক স্যার যেখান থেকে পারে করুক। এছাড়া বিভিন্ন কাজে প্রধানমন্ত্রী অফিসের লোক যুক্ত আছেন বলেও জানান আইডিআরএ চেয়ারম্যান।

এদিকে এর আগেও আইনবহির্ভূতভাবে শেয়ার ব্যবসা, বেতনের ডাবল গাড়ি ভাতা নেওয়ার মতো কর্মকাণ্ড করেছেন আইডিআরএর প্রতিষ্ঠাকালীন চেয়ারম্যান এম শেফাক আহমেদ। তিনি আইডিআরের ক্ষমতা ইচ্ছামতো ব্যবহার করেছেন। এছাড়া আইডিআরের দ্বিতীয় চেয়ারম্যান শফিকুর রহমান পাটোয়ারীর বিরুদ্ধেও ছিল নানা অভিযোগ। এখন বর্তমান চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে এ ধরনের অভিযোগ উঠায় স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন উঠছে যে, যারা বিমা খাতের উন্নয়ন ও নিয়ন্ত্রণ করেন তারাই যদি এ ধরনের অপকর্ম করেন তাহলে কীভাবে এ খাতে শৃঙ্খলা ফিরবে। এমনিতেই বিমার প্রতি মানুষের আস্থা নেই। এমন পরিস্থিতিতে আস্থা ফিরিয়ে আনার জন্য করণীয় কী—সে বিষয়েও প্রশ্ন উঠেছে।

ইত্তেফাক/জেডএইচডি