এমএলএম প্রতারণায় ৫৭ কোটি টাকা আত্মসাৎ

আবাসন ব্যবসার আড়ালে ভুয়া এমএলএম ব্যবসার নামে প্রতারণা করে অন্তত ৫৭ কোটি টাকা হাতিয়ে নিয়েছে একটি প্রতারক চক্র। এই চক্রটি এক লাখ টাকা লগ্নিতে দুই বছরে দ্বিগুণ টাকা লাভের প্রলোভন দেখিয়ে ২ হাজারের অধিক লোকের কাছ থেকে এসব টাকা আত্মসাৎ করে।

এমন অভিযোগে রাজধানীর উত্তরা এলাকা থেকে এ চক্রের ছয় সদস্যকে গ্রেপতার করেছে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগের (সিআইডি) একটি দল। মঙ্গলবার (৯ ফেব্রুয়ারি) দুপুর সিআইডি সদর দপ্তরে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান সংস্থাটির অতিরিক্ত ডিআইজি শেখ ওমর ফারুক।

গ্রেপতারকৃতরা হলেন, আশিক ঘোষ অসিত, কাজী নুরুল ইসলাম, শাহ নেওয়াজ শামীম, মো. জহিরুল হক, মীর মো. নুরুল ইসলাম ও মো. মামুন মিয়া।

এ সময় ২২০৯ জন গ্রাহকের টাকা জমার রসিদ ও লভ্যাংশের ফাইল, ২৫০টি মানি রিসিট এবং ৪৩ জন ক্ষতিগ্রস্ত গ্রাহকের জমাকৃত টাকা ফেরত নেয়ার জন্য করা আবেদনপত্রের কপি জব্দ করা হয়।

শেখ ওমর ফারুক বলেন, উত্তরা পূর্ব এলাকায় সেবা আইডিয়াল অ্যান্ড লিভিং লিমিটেড নামে ব্যবসা প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলা হয়। তারা ওই প্রতিষ্ঠানের আড়ালে এমএলএম ব্যবসা চালু করে দুই বছরে দ্বিগুণ মুনাফার লোভে কোটি কোটি টাকা আত্মসাৎ করেছে।

সিআইডির এ কর্মকর্তা বলেন, এই চক্রটি ২২০৯ জন গ্রাহকের কাছ থেকে প্রায় ৫৭ কোটি টাকা আত্মসাৎ করেছে বলে প্রাথমিক তদন্তে পাওয়া যায়।

তিনি বলেন, এই চক্রটির নিজস্ব কোনো জমি নেই। তারা সিলসিটির একটি ব্রোশিয়ার দেখিয়ে গ্রাহকদের আকৃষ্ট করত। পরে তাদের দ্বিগুণ টাকার লাভ দেখিয়ে বিনিয়োগে আকৃষ্ট করতো।

ভুক্তভোগী ফলের ব্যবসায়ী রুস্তম ইত্তেফাক অনলাইনকে বলেন, আমার দোকানে ফল কিনতে আসার সুবাদে এ কোম্পানি একজন দালালের সাথে পরিচয় হয়। এ দালাল আমাকে ১০ লাখের বিনিময়ে দুই বছর পর ২০ লাখ টাকা দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দেয়। টাকা লেনদেন করার সময় আমাকে একটা টাকা রশিদ ছাড়া আর কোন কিছু দেয়নি। কিছুদিন পরে শুনি এদের একটি দলকে সিআইডি গ্রেপতার করেছে। পরে এখানে এসে তারা যে ভুয়া সেটা বুঝতে পারলাম। আমি আমার টাকা ফেরত চাই। 

ইত্তেফাক/কেএইচ/এসসিএস