>> মো. রাকিবুল হাসান
বিয়ে মানবজীবনে একটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়। কিন্তু আশ্চর্যজনক ব্যাপার হচ্ছে এই বিষয়ে কেউ কাজ করতে চাইলে বা এই বিষয়টার সহজায়ন নিয়ে কেউ কথা বলতে চাইলে অনেকেই তাকে নিয়ে মজা করে। আজকে যার পরিচয় এখানে তুলে ধরছি তিনি এই বিয়ের প্রক্রিয়াকে কিভাবে মানুষের মাঝে সহজভাবে তুলে ধরা যায় এবং কেউ যেন বিয়েকে কঠিন মনে করে এড়িয়ে না যায়, সেই বিষয়ে কাজ করছেন দীর্ঘ ১০ বছর ধরে। তিনি একাধারে মানবাধিকারকর্মী এবং সফল নারী উদ্দোক্তা। তার নাম তাসলিমা আক্তার। যিনি দেশের সবচেয়ে বেশি বিয়ে সম্পন্নকারী প্রতিষ্ঠান ‘তাসলিমা ম্যারেজ মিডিয়া ডট কম’র স্বত্বাধিকারী। প্রতিষ্ঠানটি দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলের মানুষ থেকে শুরু করে এলিট শ্রেণি এবং দেশের বাইরে অবস্থানরত বাংলাদেশীদের বিয়ের সমন্বয় করে যাচ্ছেন। শুরুটা তিনি একাই করেছিলেন। তখন আশপাশের মানুষের হাজারো কটুকথা শুনে তিনি কখনো থেমে যাননি। বরং নিজের প্রতিষ্ঠানের কার্যক্রম যুগের সঙ্গে তাল মিলিয়ে ঢেলে সাজানো শুরু করেন। বর্তমানে প্রতিষ্ঠানটি কাস্টমার রিলেশনশিপ, ম্যাচ ম্যাকিং, কাস্টমার সাপোর্ট এবং এইচআর-এডমিন ডিপার্টমেন্টে অনেক তরুণের কর্মসংস্থান সৃষ্টি করতে পেরেছে। প্রতিষ্ঠানটি বিয়ের সমন্বয় বা ম্যাট্রিমোনিয়াল সেবা ছাড়াও বর্তমানে বিয়ের সকল ধরনের সেবা যেমন ওয়েডিং প্লান, ওয়েডিং ভিডিও, ওয়েডিং ড্রেস, মেকাপসহ সব ধরনের সেবা প্রদান করে থাকে।
ইন্টারনেটে সময় দেন আর তাসলিমা ম্যারেজ মিডিয়া ডট কমের নাম শুনেননি এমন লোক খুব কমই আছে। আমরা গিয়েছিলাম তাদের ১০ম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর অনুষ্ঠানে। সেই অনুষ্ঠানে তাসলিমা আক্তার তার বক্তব্যে বলেন, ‘বাংলাদেশ ও অন্যান্য দেশে বাংলাদেশী কমিউনিটিতে যারা আছেন তাদের জন্য বিয়ের মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয়টিকে সহজলভ্য ও বিশ্বস্ততার সঙ্গে সম্পন্ন করার জন্য যে ধরনেরই উদ্যোগ প্রয়োজন হোক না কেন তাই করব। ব্যস্ততা আর ক্যারিয়ারের জন্য যারা এই গুরুত্বপূর্ণ বিষয়টি থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে গেছেন তাদের জন্য বিষয়টাকে সহজ করে দেশের মানুষকে স্বাভাবিক জীবনধারায় নিয়ে আসাই আমার মূল উদ্দেশ্য। আমি চাই দেশে মানুষের চাহিদা পূরণ করে ভিন্ন দেশের মানুষের জন্যও এই সেবাকে উন্মুক্ত করতে। এজন্য একটি বড় প্রজেক্ট হাতে নিয়েছি; যা থেকে বিয়ে বিষয়ক সেবাগুলো একদম নিম্নবিত্ত মানুষ থেকে শুরু করে উচ্চবিত্তরাও খুব অল্প সময়ে সহজভাবে নিতে পারবে। এ বছরের শেষের দিকে এই মেগা প্রজেক্টটির কাজ শেষ হবে এবং শেষ হওয়ার পরই খুব দ্রুত আনুষ্ঠানিকভাবে সকলের জন্য উন্মুক্ত করে দেওয়ার ইচ্ছা আছে। আমার প্রতিষ্ঠানের কর্মচারী/কর্মকর্তাদের সবসময় একটাই লক্ষ্য থাকে, তা হলো—সঠিকভাবে সেবা প্রদান এবং সেবার মান যেন ১০০-তে ১০০ থাকে। কোনো গ্রাহকের মনে যেন আমাদের প্রতি অবিশ্বাস না জন্মায়। তাদের বলেছি, কোনো ধরনের প্রতারণামূলক কাজকর্মের আশেপাশেও থাকা যাবে না। মনে রাখতে হবে, তোমাদের কর্মজীবন তখনি সফল হবে যখন তোমাদের মাধ্যমে মানুষ উপকৃত হবে। কারণ ‘তাসলিমা ম্যারেজ মিডিয়া’ শুধু একটি প্রতিষ্ঠানই নয়, এটি একটি বিশ্বাসের নাম। যা আমি দীর্ঘ ১০ বছর দিনরাত পরিশ্রম করে অর্জন করেছি।’