বেসরকারি রেডিও স্টেশন ঢাকা এফএমের জনপ্রিয় উপস্থাপক আরজে কিবরিয়ার অনুষ্ঠানের মাধ্যমে দুই নারীকে পরিবারের কাছে ফিরিয়ে দিতে সক্রিয় ভূমিকা রেখেছেন লক্ষ্মীপুরের তরুণ গণমাধ্যমকর্মী জুনাইদ আল হাবিব। পরিবারকে ফিরে পাওয়া ওই দুই নারী হলেন লক্ষ্মীপুরের রুমা ও রাঙামাটির নাসিমা।
রুমার গ্রামের বাড়ি লক্ষ্মীপুরের কমলনগরের মতিরহাট। ২০ বছর আগে ঢাকা শহরে এক বাসায় কাজ করতে গিয়ে হারিয়ে যান তিনি। তারপর কুমিল্লার চৌদ্দগ্রামের এক বাড়িতে বড় হন তিনি। পড়েন ৮ম শ্রেণি পর্যন্তও৷ এক পর্যায়ে আরজে কিবরিয়ার অনুষ্ঠানে পরিবারের খোঁজে আসেন তিনি। অনুষ্ঠানের ভিডিও দেখার পর রুমার পরিবারকে খুঁজে বের করেন তরুণ সাংবাদিক জুনাইদ আল হাবিব। তারপর রুমার পরিবারকে ঢাকায় নিয়ে আসেন ফলোআপ অনুষ্ঠানে। এবছরের ১লা জানুয়ারি রুমার মা রুমাকে বেসরকারি রেডিও স্টেশন ঢাকা এফএমের লস্ট এন্ড ফাউন্ড অনুষ্ঠানে ফিরে পান। দীর্ঘ এ প্রতিক্ষার অবসান ঘটলে রুমাকে বুকে জড়িয়ে অনুষ্ঠানেই কান্নায় ভেঙে পড়েন তার মা বিবি জোহরা। তা ছাড়া জুনাইদ পত্রপত্রিকায় রুমা ও তার পরিবারের দুঃখকষ্ট তুলে ধরেছেন সচিত্র প্রতিবেদনের মাধ্যমে। বিষয়টি স্থানীয় প্রশাসন ও বিত্তবানদের দৃষ্টিগোচর হওয়ায় আর্থিকভাবে উপকৃত হয় তারা।
রুমার বিষয়টি ব্যাপকভাবে প্রচার হবার পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তরুণ সাংবাদিক জুনাইদ আল হাবিবের সাথে যোগাযোগ করেন ১৮ বছর আগে হারিয়ে যাওয়া নাসিমা। এর আগে তিনি দীর্ঘ একবছর ধরে আরজে কিবরিয়ার অনুষ্ঠানে যোগ দেবার জন্য চেষ্টা চালিয়ে আসছিলেন। আগের ঘটনায় পরিচয়ের সূত্র ধরে নাসিমাকে আরজে কিবরিয়ার স্টুডিও অব ক্রিয়েটিভ আর্টসের আপন ঠিকানা-১ম পর্বের অনুষ্ঠানে নিয়ে যান জুনাইদ।
১৮ বছর আগে চিকিৎসা করতে ঢাকায় এসে হারিয়ে যান রাঙামাটির নাসিমা। তারপর নাসিমা সদরঘাট থেকে লঞ্চে বেশ কয়েকবার এদিক সেদিক গিয়েও পরিবারের খোঁজ পাননি। পরে সদরঘাট থেকে এক ভিক্ষকু তাকে বরগুনার একটি পরিবারের কাছে দিলে সেখানেই লালিত পালিত হন। বরগুনা থেকে ঢাকায় এসে রেডিও উপস্থাপক আরজে কিবরিয়ার আপন ঠিকানা অনুষ্ঠানে প্রায় দেড় যুগ পর পরিবারকে ফিরে পেলেন তিনি। পরিবারের সঙ্গে মিলনে আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন নাসিমা, তার মা বুলু ও স্বজনরা।
দুইজন হারানো মানুষের পরিবারকে ফিরে পাওয়ার এ ঘটনার ব্যাপারে অনুভূতি জানতে চাইলে তরুণ সাংবাদিক জুনাইদ আল হাবিব বলেন, আগেও বিভিন্ন সামাজিক কাজে জড়িত ছিলাম। কিন্তু এ দু'টি ঘটনা আমার কাছে আজীবন স্মরণীয় হয়ে থাকবে। এই দুই পরিবারকে তাদের হারানো সন্তানকে ফিরে পাওয়ায় সাহায্য করতে পারায় তৃপ্তি অনুভব করেছি। আরজে কিবরিয়া ভাই হারিয়ে যাওয়া মানুষের বন্ধু। মিডিয়াকর্মী হয়ে মানবিক কাজের অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপনে তিনি যে ভূমিকা রেখে চলেছেন, তার নজির অন্য কোথাও নেই।
দেশের এফএম রেডিও উপস্থাপকদের মধ্যে অত্যন্ত জনপ্রিয় ও সুপরিচিত নাম আরজে মো. গোলাম কিবরিয়া সরকার। ২০০৬ সালে রেডিও টুডেতে কথাবন্ধু হিসেবে যোগ দিয়ে ক্যারিয়ার শুরু করেন তিনি। রেডিও আম্বারের স্টেশন ইনচার্জ, ঢাকা এফএম-এর এক্সিকিউটিভ প্রডিউসার হিসেবে কাজ করছেন। সবসময় জীবনঘনিষ্ঠ অনুষ্ঠান করেন তিনি। অন্যদিকে, জুনাইদ আল হাবিব লক্ষ্মীপুর সরকারি কলেজের বাংলা বিভাগে পড়াশোনা করছেন। নবম শ্রেণি থেকে শুরু করেন সাংবাদিকতা। উপকূল, নদীভাঙা মানুষকে নিয়ে কাজ করার পাশাপাশি বর্তমানে মূলধারার গণমাধ্যমে প্রতিবেদন ও ফিচার লেখা এবং বিভিন্ন বিষয়ে সচিত্র প্রতিবেদন তুলে ধরছেন তিনি। স্থানীয় পর্যায়ে সম্পৃক্ত আছেন বিভিন্ন সামাজিক কার্যক্রমে।
ইত্তেফাক/এসটিএম