অসহায় বয়স্কদের বিষয়ে ভাবা দরকার

আমাদের দেশে এমন অনেক মানুষ আছেন যারা খুব গরিব এবং নিঃসন্তান। আবার এমনও কিছু মানুষ আছেন যাঁদের সন্তানেরা তাঁদের দেখাশোনা করে না। এঁদের অধিকাংশ খেয়ে না খেয়ে দিন কাটায়। রেলস্টেশন, বাসস্ট্যান্ড হয় এই ধরনের অধিকাংশ বয়স্ক লোকের ঠিকানা। গ্রামাঞ্চলের এ ধরনের মানুষ সারা দিন ভিক্ষা করেন এবং রাত্রিযাপন করেন স্কুল বা সরকারি অফিসের বারান্দায়। দেশ এগিয়ে যাচ্ছে, কিন্তু এই শ্রেণির মানুষের অবস্থার দৃশ্যমান কোনো পরিবর্তন হচ্ছে না। অসহ্য গরম, প্রবল ঝড় বৃষ্টি কিংবা তীব্র শীত সবই তাঁদের সহ্য করতে হয়।

সরকার বয়স্ক লোকদের জন্য ভাতার ব্যবস্থা করেছে, গৃহহীনদের জন্য আশ্রয়ের ব্যবস্থা। কিছুদিন আগে প্রায় সত্তর হাজার গৃহহীন পরিবারকে ঘর দেওয়া হয়েছে। তারপরও কিছু বয়স্ক মানুষ এই সুবিধার বাইরে। যাঁদের স্থায়ী ঠিকানা নেই, তাঁদের অধিকাংশই সরকারের দেওয়া সহায়তা পান না। এঁরা দৃষ্টির অলক্ষ্যেই থেকে যান। দেশে অনেক অনাথ আশ্রম, বৃদ্ধাশ্রম আছে। কিন্তু এই বয়স্ক লোকগুলো সর্বদা উপেক্ষিত এবং মানবেতর জীবন কাটান। এঁদের থাকার একটা সুব্যবস্থা হয়তো ইউনিয়নভিত্তিক করা যেতে পারে। গ্রামাঞ্চলের মানুষেরা বছরে একবার ইউনিয়ন পরিষদের ধার্য করা চৌকিদারি ট্যাক্স দেয়। এই টাকার সঙ্গে সামান্য কিছু টাকা বাড়িয়ে দিলে হয়তো কারো ওপর চাপ পড়বে না। কিন্তু সবার অল্প কিছু সাহায্য এক জায়গায় করলে অনেক টাকা হবে। এবং এই টাকা দিয়ে ঐসব ছিন্নমূল অসহায় মানুষের সারা বছরের খাওয়াদাওয়াসহ যাবতীয় খরচ চলবে। সরকার প্রতিটি ইউনিয়নে এসব মানুষের থাকার একটা ব্যবস্থা করলে সরকারের বিভিন্ন সহায়তার বাইরে থাকা মানুষগুলোর বেঁচে থাকাটা সহজ হবে। ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ইউনিয়নের জনগণের সাহায্যে এমন কাজ সহজেই করতে পারবে। এ বিষয়ে সংশ্লি­ষ্ট কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ করছি।

সুকান্ত দাস

ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়, কুষ্টিয়া