সাংবাদিক দম্পতি সাগর সারোয়ার ও মেহেরুন রুনি হত্যাকাণ্ডের ৯ বছরে একের পর এক তদন্ত সংস্থা আর তদন্ত কর্মকর্তা বদলেছে। তবে রহস্যের জট খোলেনি। এখনো আসামি শনাক্তকরণ, জব্দকৃত আলামত পরীক্ষা ও নিহতদের খোয়া যাওয়া ল্যাপটপ উদ্ধারের পর্যায়েই আটকে আছে তদন্ত। যদিও র্যাবের পক্ষ থেকে বরাবরের মতো দাবি করা হচ্ছে, মামলার দৃশ্যমান অগ্রগতি হয়েছে। কিন্তু এ বিষয়ে কোনো প্রতিবেদন দাখিল করতে পারেনি সংস্থাটি। উলটো ৭৮ বার পেছানো হয়েছে তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের তারিখ। ফলে নিহতদের স্বজনদের প্রশ্ন, ৪৮ ঘণ্টা ৯ বছরেও শেষ হলো না। আর কবে খুনিরা ধরা পরবে। কবে রহস্যের জট খুলবে ।
৯ বছর আগে ২০১২ সালের ১১ ফেব্রুয়ারি রাতে রাজধানীর রাজাবাজারের নিজ বাসায় নৃশংসভাবে খুন হন সাংবাদিক দম্পতি সাগর সারোয়ার ও মেহেরুন রুনি। খুনের পর তত্কালীন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে খুনিদের আইনের আওতায় আনার ঘোষণা দিয়েছিলেন। পরের দিন রুনির ভাই নওশের আলম রোমান বাদী হয়ে শেরেবাংলা নগর থানায় মামলা করেন। প্রথমে মামলাটির তদন্ত করেন শেরেবাংলা নগর থানার এক জন কর্মকর্তা। ১৬ ফেব্রুয়ারি মামলার তদন্ত ভার পড়ে গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) উত্তরের পুলিশ পরিদর্শক মো. রবিউল আলমের ওপর। তবে এর দুই মাস পর হাইকোর্টের আদেশে মামলাটির তদন্তের দায়িত্ব দেওয়া হয় র্যাবকে। সেই থেকে ৯ বছর পেরিয়ে গেলেও এখনো মামলার দৃশ্যমান কোনো অগ্রগতি হয়নি।
মামলার বাদী ও রুনির ভাই নওশের আলম রোমান বলেন, হত্যাকাণ্ডের পর থেকে এখন পর্যন্ত তদন্ত কর্মকর্তা কোনো অগ্রগতির তথ্য উপস্থাপন করতে পারেননি। অথচ ঘটনার পর তত্কালীন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ৪৮ ঘণ্টা সময় চেয়ে নিয়েছিলেন।
এক প্রশ্নের জবাবে রোমান আরো বলেন, ৯ বছরেও কোনো অগ্রগতি নেই, আর কবে হবে। কোনো অগ্রগতি হবে না। আমরা আশা ছেড়ে দিয়েছি। শুধু এতটুকু বলতে পারি, তদন্ত কর্মকর্তা এ বিষয়ে কাজ করছেন না। আমাদের সঙ্গেও যোগাযোগ করা বন্ধ করে দিয়েছেন। অথচ প্রতি বছর তারা নিয়মমাফিক বলে আসছেন, দৃশ্যমান অগ্রগতি হয়েছে। কিন্তু বাস্তবে কিছুই নয়।
এ ব্যাপারে ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির সভাপতি মুরসালিন নোমানী বলেন, সাগর-রুনি হত্যার বিচার যে পাইনি তা নিয়ে সাংবাদিকদের মধ্যে ক্ষোভ আছে। এ বিচার না পাওয়া পর্যন্ত ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটি বিচার দাবি জানিয়ে যাবে। বিচারের দাবিতে বৃহস্পতিবার সকাল ১১টায় ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটি চত্বরে এক প্রতিবাদ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হবে।
তদন্ত সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা বলছেন, সাংবাদিক সাগর-রুনি হত্যার মামলাটি অভিজ্ঞ কর্মকর্তা দিয়ে তদন্ত করা হচ্ছে। ইতিমধ্যে বেশকিছু ইতিবাচক অগ্রগতি হয়েছে। যা যথাসময়ে যথাযথ উপায়ে উপস্থাপন করা হবে। এক প্রশ্নের জবাবে তিনি আরো বলেন, পুরো বিষয়টি বিচারিক প্রক্রিয়ার মধ্যে আবর্তিত হচ্ছে। এ অবস্থায় অগ্রগতির বিষয়ে কোনো মন্তব্য করা ঠিক হবে না।