গুলশানে প্রতারণার মামলায় ভারতীয় নারী গ্রেফতার

প্রখ্যাত সংগীতশিল্পী ফেরদৌস ওয়াহিদের ভাই জগলুল ওয়াহিদের মৃত্যুর পরদিন তার ব্যাংক অ্যাকাউন্ট থেকে ১ কোটি ৪০ লাখ টাকা তুলে নেওয়ার মামলায় তার দ্বিতীয় স্ত্রী ভারতীয় নাগরিক আঞ্জু কাপুরকে গ্রেফতার করেছে পুলিশের সিআইডি বিভাগ। গতকাল মঙ্গলবার দুপুরে গুলশান-২-এর ৯৫ নম্বর সড়কের ৪ নম্বর বাড়ি থেকে তাকে গ্রেফতার করে ৫ দিনের রিমান্ডের আবেদন জানিয়ে আদালতে পাঠায় সিআইডি। ঢাকার অতিরিক্ত মুখ্য মহানগর হাকিম তোফাজ্জল হোসেনের আদালত তার রিমান্ড নামঞ্জুর করে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।

একই দিন বিচারপতি মো. নজরুল ইসলাম তালুকদার ও বিচারপতি মহি উদ্দিন শামীমের সমন্বয়ে গঠিত ভার্চুয়াল হাইকোর্ট বেঞ্চকে আঞ্জু কাপুরের গ্রেফতারের তথ্য জানান ঢাকা মেট্রোপলিটন (উত্তর) সিআইডির এসআই রাশেদুজ্জামান। আদালতে দুই বোনের পক্ষে শুনানি করেন অ্যাডভোকেট মনজিল মোরসেদ। অন্যদিকে দুই মেয়ের সত্ মা আঞ্জু কাপুরের পক্ষে শুনানিতে ছিলেন মাসউদ আর সোবহান। আর রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল একে এম আমিন উদ্দিন মানিক।

এর আগে জগলুল ওয়াহিদের মৃত্যুর সংবাদ ব্যাংক কর্তৃপক্ষকে না জানিয়ে পরদিন তার অ্যাকাউন্ট থেকে ১ কোটি ৪০ লাখ টাকা তুলে নেওয়ার অভিযোগ ওঠে তার দ্বিতীয় স্ত্রী আঞ্জু কাপুরের বিরুদ্ধে। পরে প্রতারণার মাধ্যমে টাকা উত্তোলনের ঘটনায় গুলশান থানায় মামলা করেন জগলুল ওয়াহিদের প্রথম স্ত্রীর সন্তান মুশফিকা মোস্তফা।

গুলশান থানায় করা মামলায় বলা হয়, প্রচলিত আইন অনুযায়ী মুশফিকার বাবার মৃত্যুর পর আঞ্জু কাপুরের ম্যানডাটি (জীবিত অবস্থায় টাকা উত্তোলনের অনুমতি প্রদান) ক্ষমতা আর বলবত্ থাকে না। তাই আঞ্জু কাপুর ব্যাংক কর্তৃপক্ষকে তার বাবার মৃত্যুর খবর অবগত না করে প্রতারণার আশ্রয় নিয়ে অকার্যকর ম্যানডাটির ওপর ভিত্তি করে ঐ টাকা উত্তোলন করেছেন। যা তার উত্তরাধিকার সূত্রে প্রাপ্য।

প্রসঙ্গত, মৃত মোস্তফা জগলুল ওয়াহিদ পেশায় পাইলট ছিলেন। ভাইবোনদের মধ্যে শুধু সংগীতশিল্পী ফেরদৌস ওয়াহিদ ছাড়া আর কেউ বাংলাদেশে নেই। এর আগে দুই দিন ধরে বাড়ির সামনে অবস্থান নিয়েছিল তার দুই মেয়ে মুশফিকা ও মোবাশ্বেরা। তারা বাড়িতে ঢোকার চেষ্টা করেও ব্যর্থ হন। অবশ্য পরে হাইকোর্টের নির্দেশে পুলিশ তাদেরকে বাসায় উঠিয়ে দেয়।