কুমিল্লায় পারিবারিক কলহের জের ধরে স্ত্রী ও শাশুড়িকে ছুরিকাঘাত করে খুন করা হয়েছে। এ ঘটনায় ঘাতক লোকমান হোসেনকে আটক করেছে পুলিশ। মঙ্গলবার সন্ধ্যায় জেলার বুড়িচং উপজেলার মোকাম ইউনিয়নের হালগাঁও গ্রামে এ জোড়া খুনের ঘটনা ঘটে।
নিহতরা হলেন ঘাতক লোকমান হোসেনের শাশুড়ি ভানু বিবি (৫৫) ও তার স্ত্রী ফারজানা আক্তার (২৫)। হত্যাকাণ্ডের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন বুড়িচং থানার ওসি মোজাম্মেল হক।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, হালগাঁও গ্রামের মৃত আলম মিয়ার ছেলে লোকমান হোসেন (৩৫) পেশায় রিকশা চালক। সে মাদক সেবন করত এবং এলাকায় বিভিন্ন অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত। তার স্ত্রী ফারজানা আক্তার পরকীয়ায় জড়িত এমন অভিযোগ তুলে পার্শ্ববর্তী ভল্লবপুর গ্রাম থেকে জামাতার বাড়িতে বেড়াতে আসা শাশুড়ি ভানু বিবি ও তার স্ত্রীর সঙ্গে মঙ্গলবার সন্ধ্যায় ঝগড়ায় লিপ্ত হয়। এক পর্যায়ে লোকমান উত্তেজিত হয়ে ছুরি দিয়ে শাশুড়ি ও তার স্ত্রীকে এলোপাতাড়ি ছুরিকাঘাত করে। এতে ঘটনাস্থলেই মা ও মেয়ে মারা যায়। খুনের পর ঘাতক লোকমান লাশের পাশেই বসে ছিল। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে যায়। চাঞ্চল্যকর এ ঘটনায় এলাকার শত শত লোক ঐ বাড়িতে ভিড় জমায়।
এ সময় ঘাতক লোকমান জানায়, তার স্ত্রী ফারজানা আক্তার পরকীয়ার আসক্ত। বিষয়টি সমাধানের জন্য পার্শ্ববর্তী কালির বাজার ইউনিয়নের ভল্লবপুর গ্রাম থেকে সকালে (মঙ্গলবার) তার শাশুড়ি ভানু বিবিকে খবর দিয়ে তার বাড়িতে আনা হয়। মঙ্গলবার সন্ধ্যার আগে স্ত্রীর পরকীয়ার বিষয়টি তার শাশুড়ি সমাধান না করে উলটো জামাতাকে গালমন্দ করে এবং লোকমানকে দোষী সাব্যস্ত করলে সে ক্ষিপ্ত হয়ে এ হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটায়। লোকমান-ফারজানা দম্পত্তির এক ছেলে ও এক মেয়ে রয়েছে।
বুড়িচং থানার ওসি মো. মোজাম্মেল হক জানান, খবর পেয়ে পুলিশ ঘাতক লোকমানকে গ্রেফতার করেছে। লাশ উদ্ধার করে থানায় নেওয়া হয়। আজ ময়নাতদন্তের জন্য লাশ কুমিল্লা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল মর্গে প্রেরণ করা হবে। ঘটনার বিষয়ে তদন্ত চলছে।