আল জাজিরার সম্প্রচার বন্ধে অ্যামিকাসকিউরির মত শুনবে হাইকোর্ট 

‘অল দ্য প্রাইম মিনিস্টার্স মেন’ শিরোনামে ডকুমেন্টারি প্রচারের প্রেক্ষাপটে কাতারভিত্তিক আন্তর্জাতিক টিভি চ্যানেল আল জাজিরার সম্প্রচার বন্ধ ও এ সংক্রান্ত ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম থেকে অপসারনের নির্দেশনা চেয়ে রিটের শুনানিতে ছয় অ্যামিকাসকিউরি নিয়োগ দিয়েছে হাইকোর্ট। বুধবার (১০ ফেব্রুয়ারি) এ সংক্রান্ত রিটের শুনানি নিয়ে বিচারপতি মো. মজিবুর রহমান মিয়া ও বিচারপতি মো. কামরুল হোসেন মোল্লার ডিভিশন বেঞ্চ এ আদেশ দেন। 

অ্যামিকাসকিউরি হিসেবে নিয়োগপ্রাপ্তরা হলেন, সিনিয়র আইনজীবী এ জে মোহাম্মদ আলী, কামালুল আলম, আব্দুল মতিন খসরু, ফিদা এম কামাল, প্রবীর নিয়োগী ও শাহদীন মালিক।  

আদালত বলেন, সুনিদ্দিষ্ট আইন ও কর্তৃপক্ষ থাকার পরেও গত দশদিনে কেনো সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম থেকে ভিডিও অপসারণ করা গেলো না। এখন তো দেশ ও বিদেশের কোটি কোটি লোক এটা প্রত্যক্ষ করেছে। এখন এটা বন্ধ বা অপসারণ করা না করা একই কথা। বিটিআরসি যদি এ ব্যাপারে পদক্ষেপ নিতে না পারে তাহলে তারা ওখানে বসে আছে কেন? 

বিটিআরসির আইনজীবী রেজা ই রাকিব বলেন, আদালতের আদেশ দিয়ে আল জাজিরার সম্প্রচার বন্ধ করা সম্ভব নয়। তবে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে যাতে এ সংক্রান্ত ডকুমেন্টারি প্রচার না করা হয় সেজন্য পদক্ষেপ নিতে আদালত আদেশ দিতে পারে। যেমনটা নোয়াখালীর এক নারীর নির্যাতনের ঘটনায় দেওয়া হয়েছিলো। আর দেশের মধ্যে আল জাজিরার সম্প্রচার বন্ধ করা সম্ভব।

রিটকারী আইনজীবী এনামুল ইমন বলেন, রাষ্ট্রের নিরাপত্তা অক্ষুণ্ন রাখতে এই রিট করা হয়েছে।

ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল নওরোজ মো. রাসেল চৌধুরী বলেন, বিটিআরসির উচিত ছিলো পদক্ষেপ নেওয়া। কিন্তু এক্ষেত্রে তারা নিষ্ক্রিয়তা দেখিয়েছে।

এর আগে ৮ ফেব্রুয়ারি বাংলাদেশে কাতারভিত্তিক টেলিভিশন চ্যানেল আল জাজিরা টেলিভিশন নেটওয়ার্কের সম্প্রচার বন্ধে হাইকোর্টে রিট দায়ের করা হয়। রিটে উক্ত টিভি চ্যানেলে ‘অল দ্য প্রাইম মিনিস্টার্স মেন’ শিরোনামে প্রচারিত প্রতিবেদনের ভিডিও ও লিঙ্ক ইউটিউবসহ সকল ধরনের সামাজিক যোগাযোগ ও অনলাইন মাধ্যম থেকে অপসারণের নির্দেশনা চাওয়া হয়। রিটে ডাক ও টেলিযোগাযোগ সচিব, তথ্য সচিব, স্বরাষ্ট্র সচিব, বিটিআরসির চেয়ারম্যান, পুলিশের আইজিসহ সংশ্লিষ্টদেরকে বিবাদী করা হয়েছে।

ইত্তেফাক/জেডএইচডি