বাংলাদেশের জনপ্রিয় সবজি। কুমড়া, মিট কুমড়া, মিঠা লাউ বা মিষ্টি কদুও বলা হয়ে থাকে। উদ্ভিদতাত্ত্বিকদের মতে, মিষ্টি কুমড়া ও স্কোয়াস এক নয়। এগুলির অধিকাংশ বৈশিষ্ট্য ও চাষাবাদ পদ্ধতি সাদৃশ্যপূর্ণ বলে পামকিন, উইন্টার স্কোয়াস, সামার স্কোয়াসসহ বিভিন্ন প্রজাতির সবজিকে একত্রে মিষ্টি কুমড়া বলে। এর গাছ কোমলাঙ্গী ও লতানো প্রকৃতির।
সারা বছরই মিষ্টি কুমড়ার চাষ হয়। উষ্ণ ও আর্দ্র আবহাওয়ায় খরিপ মৌসুমে প্রচুর জন্মে। ছোট-বড়, গোল, লম্বাটে এবং ধূসর কালো বা লালচে বর্ণের অসংখ্য দেশি জাতের মিষ্টি কুমড়া বারো মাসই জন্মে। অধিকাংশ জাত খাঁজকাটা এবং কোনো কোনো জাত ডোরাকাটা বা সাদা দাগ যুক্ত। বেশ কয়েকটি বিদেশি জাতের মিষ্টি কুমড়া বর্তমানে চাষ হচ্ছে। এগুলির মধ্যে আছে বিগম্যাক্স আয়রন ক্যাপ, নার্জ রেড লার্জ রাউন্ড, লং হোয়াইট, কুকুজেলে, বাটার নটে, জুকিনি ইত্যাদি। বিদেশি জাতগুলো সাধারণত বৈশাখী ফসল হিসেবে চাষ করা হয়। অগ্রহায়ণ-পৌষ মাসে এগুলোর বীজ বপন করা হয় এবং ফসল পাওয়া যায় চৈত্র থেকে জ্যৈষ্ঠ মাসে।
এবার আসা যাক এর পুষ্টিগুণের কথায়। মিষ্টি কুমড়ার ডগা ও ফল অত্যন্ত সুস্বাদু ও উপাদেয়। এতে রয়েছে ভিটামিন ‘এ’, ক্যালসিয়াম, পটাশ, ফসফরাস, শর্করা ইত্যাদি। কুমড়ার ফুল ও ডগায় বেশি পুষ্টি এবং ভিটামিনের ঘাটতি পূরণ, কর্মশক্তি বাড়াতে ও রোগ প্রতিরোধে অত্যন্ত সহায়ক। কাঁচা পাকা উভয় অবস্থায় খাওয়া যায়। এর ভাজি বেশ সুস্বাদু। হালুয়া, মোরব্বা, কেকসহ অনেক রকম মুখরোচক খাবারও তৈরি হয়ে থাকে মিষ্টি কুমড়া দিয়ে। পাকা কুমড়া দীর্ঘদিন ঘরে রাখা যায়।
হাসান মাহমুদ রিপন