মান দেখে ভিউ গোনা উচিত: লুত্ফর হাসান

দেশের জনপ্রিয় সংগীতশিল্পী লুত্ফর হাসান। ‘ঘুড়ি তুমি’ গানটি দিয়ে পরিচিতি পাওয়া এই শিল্পী কাজ করে যাচ্ছেন নিজের খেয়ালেই। সম্প্রতি আবারো লেবেল কোম্পানি বদল করলেন তিনি। এ প্রসঙ্গের পাশাপাশি সংগীত ইন্ডাস্ট্রির নানা বিষয়ে তিনি কথা বললেন বিনোদন প্রতিদিনের সঙ্গে। সাক্ষাত্কার নিয়েছেন এ এম রুবেল

সামনে নতুন কোন কাজ পাচ্ছে দর্শক-শ্রোতারা?

আগামীকাল (আজ) মৌমিতা বড়ুয়া ও আমার দ্বৈত কণ্ঠে একটি গান প্রকাশ পাচ্ছে। এছাড়া অবন্তী সিঁথি ও শাকিলা শুকলার সঙ্গে দুটি ডুয়েট গান শিগগিরই প্রকাশ করবো। পাশাপাশি আমার একক গানও সামনের মাসে রিলিজ দেবো। এছাড়াও বইমেলায় আমার দুটি কবিতার বইসহ ৫টি বই প্রকাশিত হবে। ব্যস্ততা বলতে আপাতত এগুলোই। 

‘ঘুড়ি তুমি কার আকাশের ওড়ো’ গানটির পর আপনার নতুন কোনো গান সেভাবে সাড়া না ফেলার কারণ কী বলে মনে করেন?

আসলে আমার ‘ঘুড়ি তুমি কার আকাশে ওড়ো’ গানটি এতটাই জনপ্রিয় হয়েছিল যে, শ্রোতারা সেই গানের মতোই হয়তো কিছু চেয়েছিলেন। তবে পরে আরো ভালো গান করেছি। কিন্তু তারা আগের গানটির সঙ্গে মেলাতে চেয়েছেন। ফলে আমি সেই গানটিকে ছাপিয়ে যেতে পারিনি। আর আমিও চাই না ছাপিয়ে যেতে। আমি চাই মানুষ যেমন ‘ঘুড়ি তুমি’ দিয়ে লুত্ফর হাসানকে চেনেন, সেভাবেই চিনুক।

আপনি একাধারে শিল্পী গীতিকার ও লেখক। কোন মাধ্যমে নিজেকে যোগ্য মনে করেন?

আমি অনেক মাধ্যমেই কাজ করেছি বা করছি। তবে নিজেকে কবিতায় যোগ্য মনে হয়। আর গান তো আমি শখের বসে করি।

সংগীত ইন্ডাস্ট্রিতে নতুনদের উঠে আসার পথ কতটা মসৃণ বলে মনে করেন? আপনার অভিজ্ঞতা কেমন ছিল?

দেখুন, ইন্ডাস্ট্রির শুরু থেকেই কিন্তু নতুনদের প্রতিষ্ঠা পাওয়ার পথ মসৃণ ছিল না। এখনো নেই, ভবিষতেও থাকবে না। এখানে স্ট্রাগল করেই নিজের জায়গা তৈরি করতে হবে। এখানে কেউ কাউকে জায়গা করে দেয় না। খুব যে সুযোগ দেবে তেমনও নয়। আমার ক্ষেত্রেও কিন্তু এমন হয়েছে। আমি গান লেখার জন্য অন্যের পেছনে ঘুরেছি প্রায় ৩ বছর। তারপর ১০ বছর অন্যের জন্য গান লিখেছি, সুর করেছি। এরপর কিন্তু গাইলাম।

এখন অনেকেই ভিউ গুনে গানের বিচার করেন। আপনার কাছে এর গুরুত্ব কতটুকু?

অবশ্যই ভিউয়ের গুরুত্ব আছে। একটি গানের ভিউ এমনি হয় না। কোনো কারণ অবশ্যই থাকে। তবে অনেক খারাপ জিনিসেরও ভিউ হয়। সুতরাং ভিউ হলেই তাতে খুশি হওয়ারও কিছু নেই। মান দেখে ভিউ গোনা উচিত।

আপনি গানচিল থেকে জি সিরিজে কাজ করেছেন, তারপর ধ্রুব মিউজিক স্টেশনের সঙ্গে আছেন? লেভেল কোম্পানি বদলের নেপথ্যে কোনো কারণ আছে কী?

গানচিলে আমি প্রোডাকশনে অনেকদিন কাজ করেছি। তবে একটা সময় মনে হলো এখানে আমার কাজ শেষ। তাছাড়া প্রতিষ্ঠানটিও নিজেদের গুটিয়ে নিলো। এরপর জি-সিরিজে যোগ দিলাম ফিচার এডিটর হিসেবে। নিউজ জিতে কাজ করলাম। এখন ধ্রুব মিউজিক স্টেশনে কাজ করছি। আমি আসলে নানামাত্রিক কাজ করতে চেয়েছি। যে সুযোগটা এখানে পেয়েছি।

সংগীত ইন্ডাস্ট্রির সার্বিক অবস্থা কীভাবে মূল্যায়ন করবেন?

আগের সেই স্বর্ণালি যুগ হয়তো নেই। কিন্তু বর্তমান অবস্থা ভালোর দিকেই আছে। তবে এখানে যেটা বেশি সংকটের, সেটা হলো সিনিয়রদের সম্মান করার প্রবণতা কমছে এবং জুনিয়রদের প্রতি স্নেহ কমেছে।