বাগমারায় আলুর দরপতনে বিপাকে কৃষক

বাগমারা (রাজশাহী) সংবাদদাতা

গত বন্যার পর আলুর দর বৃদ্ধি পাওয়ায় বাগমারায় অধিক জমিতে আলু চাষ হয়েছিল। তখন কেজিপ্রতি আলু ৬০-৭০ টাকায় বিক্রি হয়। তবে সম্প্রতি আলুর দরপতন হওয়ায় বিপাকে পড়েছেন স্থানীয় কৃষকরা। তারা বলছেন, আলুর দরপতন হওয়ায় তাদের খরচই উঠবে না। ব্যবসায়ীরা বলছেন, খুব অল্প পরিমাণ জমি থেকে আলু উত্তোলন শুরু হয়েছে। ব্যাপকভাবে আলু উত্তোলন শুরু হলে আলুর দাম আরো কমে যাবে। উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, উপজেলায় এবার আলু চাষের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছিল সাড়ে ৫ হাজার হেক্টর জমিতে। তবে লক্ষ্যমাত্রা ছাড়িয়ে চাষ হয়েছে প্রায় সাড়ে ৫ হাজার হেক্টর জমিতে। সরেজমিনে জানা যায়, বর্তমানে ভবানীগঞ্জ হাটসহ বিভিন্ন হাটে মণপ্রতি দেশি আলু বিক্রি হচ্ছে ৪৫০-৫০০ টাকা দরে এবং হার্ডিনাল ও বার্মা জাতের আলু বিক্রি হচ্ছে ৪০০-৪৫০ টাকায়। কিছুদিন আগেও এলাকার কৃষকরা অপরিপক্ক আলু তুলে তা ১ হাজার ২০০ থেকে ১ হাজার ৫০০ টাকা মণ দরে বিক্রি করেছিল। হামিরকুত্সার কৃষক মুঞ্জুর রহমান মন্টু জানান, ১০ কাঠা জমিতে আলু চাষ করতে তার খরচ হয়েছে ২৫ হাজার টাকা। ৫০ মণ হারে আলু উত্পাদন হয়েছে। সোমবার এ আলু ১১ টাকা কেজি দরে বিক্রি করে ২২ হাজার টাকা পেয়েছেন। এত পরিশ্রম করেও তার ৩ হাজার টাকা লোকসান হয়েছে। একই ইউনিয়নের কৃষক রফিকুল ইসলাম জানান, এবার তার লোকসান গুনতে হবে। এখনো পুরোদমে আলু ওঠা শুরু হয়নি। পুরোদমে আলু ওঠা শুরু হলে আলুর বাজার দর আরো পড়ে যাবে। উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ রাজিবুর রহমান জানান, বাগামারাসহ আশপাশের এলাকায় এখনো পুরোদমে আলু ওঠা শুরু হয়নি। তার মতে এভাবে আলুর ব্যাপক দরপতনে কৃষক ক্ষতিগ্রস্ত হবে। ভালো দাম পাওয়ার জন্য তিনি কৃষকদের আলু সংরক্ষণের পরামর্শ দিয়েছেন।