বিশেষ প্রতিনিধি
ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) গোয়েন্দা লালবাগ বিভাগের একটি টিম অস্ত্রসহ পেশাদার ডাকাত দলের পাঁচ সদস্যকে গ্রেফতার করেছে। গ্রেফতারকৃতরা হলো—শাওন আহম্মেদ জয়, জাহিদুল ইসলাম, ইয়ামিন, হূদয় ও বাবুল। এ সময় তাদের কাছ থেকে ডাকাতির কাজে ব্যবহূত দুটি পিকআপ গাড়ি, একটি চাপাতি, তিনটি চাকু, লুণ্ঠিত টাকা ও ১১টি মোবাইল ফোনসেট উদ্ধার করা হয়। মঙ্গলবার ঢাকার দক্ষিণ কেরানীগঞ্জ থানা এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেফতার করা হয়। প্রসঙ্গত, গত ২৮ জানুয়ারি বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয় এলাকা থেকে দুই ব্যক্তিকে ছয়-সাত জন ডাকাত একটি পিকআপ গাড়ি দিয়ে গতিরোধ করে অস্ত্রের ভয় দেখিয়ে মোবাইল ফোনসহ নগদ অর্থ ও মালামাল লুটে নেয়। এ ব্যাপারে চকবাজার মডেল থানায় মামলা হয়। উক্ত মামলা গোয়েন্দা ডিবি লালবাগ বিভাগ ছায়া তদন্ত শুরু করে। গতকাল বুধবার ঢাকা মহানগর পুলিশের ডিএমপি মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত প্রেস ব্রিফিংয়ে এ বিষয়ে বিস্তারিত জানান অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার (ডিবি) এ কে এম হাফিজ আক্তার।
তিনি বলেন, এ মামলা তদন্তে গোয়েন্দা লালবাগ বিভাগ একটি ডাকাত চক্রের সন্ধান পায়। কেরানীগঞ্জ থানা এলাকায় তারা অবস্থান করে। এ চক্রের সদস্যরা দিনের বেলায় রাজমিস্ত্রি, ডেকোরেশন ও হোটেলে কাজ করে। রাতের বেলায় তারা একত্রিত হয়ে একটি দল গঠন করে। তারা রাজধানী এবং আশপাশের এলাকা থেকে পিকআপ বা ছোট ট্রাক ছিনতাই করে। ছিনতাইকৃত যানবাহনের মাধ্যমে ভোর রাতে রাজধানীর মহাখালী, এমইএস, শাহআলী, মিরপুরের গুদারাঘাট, শেরেবাংলা নগরসহ সাভার, আশুলিয়া, কেরানীগঞ্জ এবং ভুলতা এলাকার রাস্তায় ঘুরে ঘুরে ডাকাতি করে থাকে।
ডিবির অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার বলেন, চকবাজার থানায় রুজুকৃত মামলার ডাকাতির ঘটনায় সাত জন ডাকাত অংশগ্রহণ করে। যার মধ্যে উল্লেখিত পাঁচ জনকে গ্রেফতার করা হয়। বাকি অভিযুক্তসহ এ চক্রের অন্য সদস্যদের গ্রেফতারের চেষ্টা অব্যাহত আছে। গ্রেফতারকৃতদের বিরুদ্ধে বিভিন্ন থানায় একাধিক ডাকাতি, দস্যুতাসহ অন্যান্য মামলার তথ্য পাওয়া যায়। এমন ঘটনার শিকার হলে কিংবা তথ্য পেলে পুলিশকে অবহিত করার জন্য সবাইকে অনুরোধ জানান পুলিশের এ গোয়েন্দা কর্মকর্তা।