পণ্য আমদানিতে স্থবিরতা এখনো কাটেনি। আন্তর্জাতিক বাজারে ভোগ্যপণ্যসহ অন্যান্য পণ্যের দাম বাড়তি থাকায় আমদানি কম হচ্ছে। ফলে পণ্য মজুত ও পরিবহন ব্যবসার সঙ্গে জড়িতরা লোকসান গুণছেন। এতে প্রায় পাঁচ শতাধিক লাইটারেজ জাহাজ অলস পড়ে আছে। এছাড়া ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের দারোগা হাট এলাকায় স্থাপিত ওজন স্কেলের কারণে চট্টগ্রামের ব্যবসায়ীরা আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন।
ব্যবসায়ীরা জানান, করোনার শুরু থেকে আমদানিতে নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে। আমদানিকারকরা অতি প্রয়োজন না হলে অথবা চাহিদার বিপরীতে সীমিত পরিমাণ পণ্য আমদানি করছেন। আবার গত কয়েক মাস যাবত্ আন্তর্জাতিক বাজারে কয়েকটি ভোগ্য পণ্যের দাম বেড়েছে। ফলে এসব পণ্যও কম আমদানি হচ্ছে। আমদানি কমে যাওয়ায় এসব পণ্য পরিবহন ও মজুতের সঙ্গে সংশ্লিষ্টরা চরম লোকসানে রয়েছেন। চট্টগ্রামে প্রায় তিন শতাধিক বাণিজ্যিক গুদাম রয়েছে। বিভিন্ন আমদানিকারকরা পণ্য এনে এসব গুদামে মজুত করে রাখেন। কিন্তু আমদানি কমে যাওয়ায় পণ্যের অধিকাংশ গুদাম খালি পড়ে আছে। গুদামে পণ্য নেই। মহাসড়কে স্কেলের কারণে অধিকাংশ পণ্য সড়ক পথের পরিবর্তে আউটার থেকে লাইটার জাহাজে করে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে। আবার কন্টেইনার ডিপোগুলো থেকে কন্টেইনারে করে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে। এব্যাপারে চট্টগ্রাম গুদাম মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক আলী আহমেদ ইত্তেফাককে বলেন, আমদানিতে স্থবিরতা কাটছে না। তাই আমাদের অধিকাংশ গুদাম খালি পড়ে রয়েছে। ভাড়া দিতে না পারায় অনেকেই গুদাম ছেড়ে দিয়েছেন। সড়কে স্থাপিত ওজন স্কেলের কারণেও আমদানিকারকরা চট্টগ্রামের গুদামে পণ্য রাখছেন না। প্রতি ট্রাকে ১৩ টনের বেশি পণ্য পরিবহন করা যাচ্ছে না। এতে পণ্যে ক্রয় মূল্য বেড়ে যাচ্ছে।
লাইটারজাহাজ মালিকদের সংগঠন ওয়াটার ট্রান্সপোর্ট সেলের অধীনে প্রায় দেড় হাজারের মতো লাইটারেজ জাহাজ রয়েছে। আমদানি কমে যাওয়ায় অধিকাংশ জাহাজ অলস পড়ে রয়েছে। আবার বড় শিল্প গ্রুপগুলোর পণ্য পরিবহনে নিজস্ব লাইটারেজ জাহাজ রয়েছে। ওয়াটার ট্রান্সপোর্ট সেলের এক কর্মকর্তা জানান, বর্তমানে প্রায় ৫০০ লাইটারেজ জাহাজ ভাড়া না পাওয়ায় অলস পড়ে আছে। পণ্য পরিবহনে এক ক্যাটাগরির জাহাজে গম, ডালসহ ভোগ্যপণ্য পরিবহন হয়। আরেক ক্যাটাগরির জাহাজে, পাথর, কয়লা, সিমেন্ট ক্লিংকারসহ অন্যান্য পণ্য পরিবহন হয়। তিনি জানান গত ১০/১২ দিন যাবত্ ভোগ্যপণ্য পরিবহনে কোনো জাহাজ ভাড়া হয়নি।
আমদানি করা পণ্য আউটার থেকে লাইটারেজ জাহাজে এনে মাঝিরঘাটে খালাস করা হয়। এখানে ১৭টি ঘাট রয়েছে। এসব ঘাটে পণ্য লোড-আনলোডে কয়েক হাজার শ্রমিক কাজ করে থাকে। আমদানি কমে যাওয়ায় তারাও অলস সময় কাটাচ্ছে। চট্টগ্রাম গুদাম ও ঘাট শ্রমিক ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক আবদুল খালেক বলেন, ফেব্রুয়ারির শুরু থেকে ৮ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত ঘাটগুলোতে কোনো পণ্য খালাস হয়নি। গত মঙ্গলবার থেকে কিছু পণ্যবাহী জাহাজ আসতে শুরু করেছে। তাও সীমিত পরিমাণ। কাজ না থাকায় শ্রমিকরা পরিবার নিয়ে মানবেতর জীবনযাপন করছে।
চট্টগ্রামের ব্যবসায়ীদের অভিযোগ দেশের অন্য কোথাও মহাসড়কে ওজন স্কেল বসানো হয়নি। শুধুমাত্র ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের দারোগা হাট এলাকায় ওজন স্কেল বসানো হয়েছে। এতে চট্টগ্রামে পণ্যবাহী গাড়িতে পণ্যের পরিমাণ নির্ধারণ করে দেওয়া হয়েছে। এর ফলে চট্টগ্রামের ব্যবসায়ীরা মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। স্কেলটি প্রত্যাহারের জন্য চট্টগ্রামের বিভিন্ন ব্যবসায়ী সংগঠন সরকারের উচ্চ মহলে দাবি জানিয়েও কোনো সাড়া পাননি।