এনআইডি দেখিয়েই টিকা নিলেন অনেকে

প্রতিদিনই বাড়ছে করোনার টিকা গ্রহীতার সংখ্যা। সারাদেশে করোনা ভাইরাসের গণ টিকাদান শুরুর চতুর্থ দিনে গতকাল বুধবার ১ লাখ ৫৮ হাজার ৪৫১ জন টিকা নিয়েছেন। ৭ ফেব্রুয়ারি সারাদেশে টিকা দেন ৩১ হাজার ১৬০ জন বা ৮.৯ শতাংশ। ৮ ফেব্রুয়ারি টিকা নিয়েছেন ৪৬ হাজার ৫০৯ জন যা ১৩.২৯ শতাংশ। তৃতীয় দিন টিকা নিয়েছেন ১,০১০৮২ জন বা ২৮.৮ শতাংশ। নিবন্ধন না করেও এনআইডি দেখিয়ে গতকাল অনেকে টিকা নিয়েছেন। এদিকে টিকা গ্রহীতার সংখ্যা বৃদ্ধি পাওয়ায় অনেক নিবন্ধনকারী টিকা না নিয়ে ফেরত গেলেন।

গত চার দিনে সারাদেশে ৩ লাখ ৩৭ হাজার ৭৬৯ জন টিকা নিয়েছেন বলে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর জানিয়েছে। অক্সফোর্ড-অ্যাস্ট্রাজেনেকার টিকা কিনে বিনামূল্যে প্রয়োগ গত রবিবার থেকে সারাদেশে শুরু করেছে সরকার। প্রতিদিন সকাল ৮টা থেকে বেলা ২-৩০টা পর্যন্ত চলে টিকাদান। এ পর্যন্ত যারা টিকা নিয়েছেন তাদের মধ্যে ২৭৭ জনের সামান্য পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া (যেমন: জ্বর, টিকা দেওয়া স্থানে লাল হাওয়া ইত্যাদি)  দেখা দিয়েছে বলে জানিয়েছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের এমআইএস (মেডিক্যালে ইনফরমেশন সার্ভিসেস)। গতকাল ঢাকা মহানগরের বিভিন্ন হাসপাতাল থেকে ১৯ হাজার ১১৫ জন টিকা নিয়েছেন। এর মধ্যে ঢাকায় কর্মরত বিদেশি কূটনীতিকরাও রয়েছেন। ঢাকার ৪৭টি হাসপাতালের টিকা নেওয়ার যে তথ্য দিয়েছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর, তাতে দেখা গেছে, সবচেয়ে বেশি ১৮৩৭ জন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ে টিকা নিয়েছেন। বিভাগ ভিত্তিক হিসাবে সবচেয়ে বেশি ৪০ হাজার ৯০৭ জন টিকা নিয়েছেন ঢাকা বিভাগে। এছাড়া ময়মনসিংহে ৭ হাজার ৫৪৯ জন, চট্টগ্রামে ৩৭ হাজার ৪৫৮ জন, রাজশাহীতে ১৭ হাজার ৯৭১ জন, রংপুরে ১৪ হাজার ২২৪ জন, খুলনায় ১৭ হাজার ১১৫ জন, বরিশালে ৬১৪৭ জন এবং সিলেট বিভাগে ১৭ হাজার ৮০ জন টিকা নিয়েছেন। নিবন্ধন করে ঢাকাসহ সারা দেশে ১ হাজার ৫টি হাসপাতাল ও স্বাস্থ্যকেন্দ্রে টিকা দেওয়া হচ্ছে। ঢাকায় ২০৪টি এবং ঢাকার বাইরে ২ হাজার ১৯৬টি স্বাস্থ্যকর্মীর দল এসব কেন্দ্রে টিকা প্রয়োগ করছে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর জানিয়েছে, প্রতিটি দল দৈনিক ১৫০ জনকে টিকাদান করতে পারবে।

সারাদেশে করোনা ভাইরাসের টিকাদান কার্যক্রমে বেসরকারি খাতকেও সম্পৃক্ত করা হবে বলে জানিয়েছেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী জাহিদ মালেক। গতকাল ‘জাতীয় কোভিড-১৯ টিকাদান কার্যক্রম: বেসরকারি স্বাস্থ্য খাতের সম্পৃক্ততা’ শীর্ষক এক আলোচনা সভায় এ কথা বলেন তিনি। বাংলাদেশ প্রাইভেট মেডিক্যাল কলেজ অ্যাসোসিয়েশন-বিপিএমসিএ এই আলোচনা সভার আয়োজন করে। আলোচনায় অংশ নিয়ে করোনা ভাইরাসের টিকাদান কার্যক্রমে বেসরকারি হাসপাতালগুলোকে সম্পৃক্ত করার দাবি জানান বেসরকারি স্বাস্থ্য খাতের নেতারা। পরে স্বাস্থ্যমন্ত্রী জাহিদ মালেক বলেন, বেসরকারি খাত টিকাদান কার্যক্রমে অংশ নেওয়ার আগ্রহ দেখানোয় তিনি ‘আনন্দিত’। তিনি বলেন, ‘আপনারা যুক্ত হতে চান, যেভাবে আপনারা পরীক্ষা এবং চিকিত্সায় যুক্ত হয়েছিলেন। এ বিষয়ে আমরা যথাযথ পদক্ষেপ গ্রহণ করছি। আশা করি প্রধানমন্ত্রীর অনুমোদনক্রমে আপনারাও ভ্যাকসিন প্রদান কার্যক্রমে যুক্ত হতে পারবেন।’ তিনি বলেন, এই প্রক্রিয়া শুরু করতে যেসব নিয়মকানুন, শর্ত আছে, সেগুলো পালন শেষে কাজটি শুরু হবে। স্বাস্থ্যখাতে ৬০ শতাংশ সেবা দেয় বেসরকারি খাত। কাজেই তারা কেন বাইরে থাকবে।

অধিদপ্তরের মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. আবুল বাশার মোহাম্মদ খুরশীদ আলম জানান, করোনার টিকার অভাব নেই। কিন্তু মানুষের মধ্যে ব্যাপক আগ্রহ দেখা দেওয়ায় টিকাদান কেন্দ্রে ভিড় বাড়ছে। কোনো কেন্দ্রে ২০০ জনের টিকা দেওয়ার সক্ষমতা থাকলেও মানুষ ভিড় করছে ৪০০ জন। অনেকে নিবন্ধন না করে আইডি কার্ড দেখিয়ে নিবন্ধন করছেন।