সড়কে এক দিনেই ঝরল ২৩ প্রাণ

সড়কে মৃত্যুর মিছিল থামছেই না। সড়ক দুর্ঘটনায় গতকাল এক দিনেই ঝরল ২২ জনের প্রাণ। এর মধ্যে ঝিনাইদহের কালীগঞ্জে বাস-ট্রাকের মুখোমুখি সংঘর্ষে মাদক নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের কর্মকর্তাসহ ১১ জন, কক্সবাজারের টেকনাফে শিশুসহ একই পরিবারের তিন জন; নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জে পৃথক ঘটনায় দুই জন, চট্টগ্রামের মিরসরাই ও রাউজানে শিশুসহ দুই জন, কিশোরগঞ্জের পাকুন্দিয়ায় এক জন, কুষ্টিয়ার দৌলতপুরে স্কুলছাত্র ও গাইবান্ধার গোবিন্দগঞ্জে এক বৃদ্ধা নিহত হয়েছে। এছাড়া রাজধানীর যাত্রাবাড়ী ও মিরপুরে দুই পথচারী নিহত হয়।

কালীগঞ্জ (ঝিনাইদহ) সংবাদদাতা জানান, গতকাল বুধবার কালীগঞ্জে বাস-ট্রাকের মুখোমুখি সংঘর্ষে ১১ জন নিহত ও আরো অন্তত ৩০ জন আহত হন। বিকাল সাড়ে ৩টার দিকে যশোর-ঝিনাইদহ সড়কের বারোবাজার ফুয়েল স্টেশনের কাছে দুর্ঘটনায় এ হতাহতের ঘটনা ঘটে। আহতদের মধ্যে অনেকের অবস্থা আশঙ্কাজনক। নিহতদের মধ্যে ছয় জনের পরিচয় পাওয়া গেছে এবং তাদের লাশ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। এরা হলো—চুয়াডাঙ্গার ডিঙ্গেদার আব্দুর রশিদের কন্যা শারমিন খাতুন, একই জেলার নাগদাগ গ্রামের জান্নাতুল বিশ্বাসের ছেলে ওলিউল আলম শুভ, সাতক্ষীরা মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের কর্মকর্তা কালীগঞ্জের সুন্দরপুর গ্রামের মোস্তাফিজুর রহমান, একই উপজেলার বড় ভাটপাড়া গ্রামের রনজিত দাসের ছেলে সোনাতন দাস, ঝিনাইদহের নাদকুন্ডু গ্রামের ওয়াহেদ আলীর ছেলে ইউনুস আলী, কোটচাঁদপুরের হরিণদিয়া গ্রামের হারুনুর রশিদ               ও বাসচালক মাগুরার উজ্জল হোসেন। হতাহতদের বেশির ভাগই যশোর এম এম কলেজের শিক্ষার্থী, পরীক্ষা শেষে তারা বাড়ি ফিরছিল। বাকিদের শনাক্তে কাজ চলছে। বারোবাজার হাইওয়ে থানার ওসি মেজবাউল হক জানান, জেকে পরিবহনের একটি যাত্রীবাহী বাস খুলনা থেকে মাগুরার দিকে যাওয়ার পথে বারোবাজারের আমজাদ আলী ফিলিং স্টেশনের সামনে পৌঁছালে বিপরীত দিক থেকে আসা একটি ট্রাকের সঙ্গে সংঘর্ষ হয়। এতে যাত্রীবাহী বাসটি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে রাস্তার ওপর উলটে গেলে ঘটনাস্থলেই ৯ যাত্রী মারা যায়। অপর একজন স্থানীয় একটি হাসপাতালে মারা যান। এ ঘটনায় ঐ সড়কে সব ধরনের যোগাযোগ বন্ধ হয়ে যায়। এ সময় সড়কের উভয় পাশে শত শত বাস-ট্রাক আটকে পড়ে। ঝিনাইদহ-৪ আসনের এমপি আনোয়ারুল আজিম আনার ও জেলা প্রশাসক সরোজ কুমার নাথসহ পুলিশের কর্মকর্তারা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন। জেলা প্রশাসক নিহতদের পরিবারকে ২০ হাজার টাকা করে দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দেন।

টেকনাফ (কক্সবাজার) সংবাদদাতা জানান, টেকনাফ-কক্সবাজার সড়কে বুধবার যাত্রীবোঝাই সিএনজি অটোরিকশা এবং পালকি পরিবহন বাসের মুখোমুখি সংঘর্ষে পিতা-পুত্র ও এক শিশুসহ তিন জন নিহত এবং সিএনজি চালকসহ পাঁচ জন আহত হয়েছে। সকাল সাড়ে ৯টার দিকে উপজেলার হোয়াইক্যং লম্বাবিল দক্ষিণ মাথা নাইট্টার টেক পয়েন্টে কক্সবাজার থেকে টেকনাফগামী যাত্রীবোঝাই পালকি পরিবহন এবং হ্নীলা মরিচ্যাঘোনা হতে কক্সবাজারগামী সিএনজি অটোরিকশার মুখোমুখি সংঘর্ষে ঘটনাস্থলেই সিএনজি যাত্রী ছালামত উল্লাহ, ছালামত উল্লাহর পুত্র নজরুল মারা যান। পরে হাসপাতালে নজরুলের ভাই কামরুলের এক বছর বয়সি শিশুকন্যা মারা যায়।

রূপগঞ্জ (নারায়ণগঞ্জ) সংবাদদাতা জানান, গতকাল বুধবার রূপগঞ্জের কাঞ্চন পৌরসভার চৌধুরীপাড়া এলাকায় দ্রুতগামী মোটরসাইকেলের ধাক্কায় কাঞ্চন বাজারের নৈশপ্রহরী আবি রহমান (৬০) ও কায়েতপাড়া ইউনিয়নের মাঝিনা এলাকায় গাছের সঙ্গে ধাক্কা লেগে অপর মোটরসাইকেল আরোহী শরিফ মিয়া (২৩) নিহত হন। নিহত আবি রহমান চৌধুরীপাড়া গ্রামের মৃত আবু তাহেরের ছেলে এবং শরিফ মিয়া কায়েতপাড়ার বরুণা এলাকার হাজি আব্বাস মিয়ার ছেলে।

মিরসরাই (চট্টগ্রাম) সংবাদদাতা জানান, মিরসরাইয়ে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের ঠাকুরদীঘি নামক স্থানে গতকাল সকালে গাড়ির ধাক্কায় অমল মজুমদার (৫০) নামের এক ব্যক্তি নিহত হন। নিহত অমল উপজেলার হরিহরপুর গ্রামের মৃত বিনোদ বিহারী মজুমদারের ছেলে।

রাউজান (চট্টগ্রাম) সংবাদদাতা জানান, রাউজানে অসুস্থ নানিকে দেখতে এসে সড়ক দুর্ঘটনায় ছেলেকে হারালেন মা। বুধবার বিকালে উপজেলার শফিকুল ইসলাম চৌধুরী বেবী সড়কের বিনাজুরি এলাকায় এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনাটি ঘটে। দুর্ঘটনায় নিহত শিশু ইমরান হোসেন (২) পার্শ্ববর্তী হাটহাজারী উপজেলার মেহেরনগর এলাকার গুরা মিয়ার বাড়ির আকবর আলীর ছেলে।

পাকুন্দিয়া (কিশোরগঞ্জ) সংবাদদাতা জানান, পাকুন্দিয়ায় লরি ট্রাকচাপায় বদরুল আলম (২২) নামে এক মোটরসাইকেল আরোহী নিহত হয়েছেন। মঙ্গলবার সন্ধ্যায় উপজেলার কিশোরগঞ্জ-ভৈরব আঞ্চলিক মহাসড়কের মাইজহাটি পুলেরঘাট এলাকায় এ মর্মান্তিক দুর্ঘটনা ঘটে। নিহত মোটরসাইকেল আরোহী বদরুল কিশোরগঞ্জ সদর উপজেলার টুটিয়ারচর গ্রামের সামছুল আলমের ছেলে।

দৌলতপুর (কুষ্টিয়া) সংবাদদাতা জানান, উপজেলার জয়রামপুর এলাকায় মোটরসাইকেলের ধাক্কায় রিশান (১২) নামে এক স্কুলছাত্র নিহত হয়েছে। সে মিরপুর উপজেলার কাকিলাদহ গ্রামের মৃত কামরুল ইসলামের ছেলে এবং জয়রামপুর আদর্শ মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের সপ্তম শ্রেণির ছাত্র।

গোবিন্দগঞ্জ (গাইবান্ধা) সংবাদদাতা জানান, গোবিন্দগঞ্জে গতকাল বিকালে দ্রুতগামী ট্রাকের চাপায় আমেনা বেগম (৬৫) নামের এক বৃদ্ধা নিহত হন। তিনি পৌর এলাকার পান্থাপাড়া গ্রামের মৃত আব্দুল জলিলের স্ত্রী। পুলিশ ট্রাকটিকে আটক করলেও চালক ও হেলপার পালিয়ে যায়।

এদিকে রাজধানীর যাত্রাবাড়ীতে দুই বাসের মাঝখানে পড়ে নুরুল হক (৩৫) নামের এক পথচারী নিহত হন। এ ঘটনায় হাসপাতাল থেকে মাসুদ ও নুর নবী দুই পরিবহন শ্রমিককে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আটক করা হয়েছে। গতকাল মঙ্গলবার সকাল সাড়ে ৮টার দিকে এ দুর্ঘটনাটি ঘটে। নিহত নুরুল বাংলাদেশ বিদ্যুত্ উন্নয়ন বোর্ডের কাঠমিস্ত্রি ছিলেন। তিনি সপরিবারে যাত্রাবাড়ী ওয়াপদা কলোনিতে থাকতেন। অন্যদিকে মিরপুরের দিয়াবাড়ি এলাকায় ট্রাকের ধাক্কায় লুত্ফর রহমান (৬৫) নামে এক বৃদ্ধ নিহত হন। নিহত লুত্ফরের মেয়ে লুবনা আক্তার জানান, গতকাল দুপুরে তার বাবা মিরপুর দিয়াবাড়ি বেড়িবাঁধ এলাকা দিয়ে মসজিদে যাওয়ার সময় একটি দ্রুতগামী ট্রাক তার বাবাকে ধাক্কা দিলে তিনি গুরুতর আহত হন। গুরুতর আহতাবস্থায় প্রথমে শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ও পরে অবস্থার অবনতি হলে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিত্সকরা তাকে মৃত ঘোষণা করেন। তাদের গ্রামের বাড়ি ফরিদপুরের ভাঙ্গা উপজেলার হামিরদী গ্রামে।