সমালোচনা ও সাংঘর্ষিক রাজনীতির অবসান হওয়া প্রয়োজন: তথ্যমন্ত্রী

তথ্যমন্ত্রী হাছান মাহমুদ বলেছেন, ‘সমালোচনার প্রয়োজন আছে। সমালোচনা পথচলাকে শানিত করে। কিন্তু ‘যারে দেখতে নারি তার চলন বাঁকা- সমালোচনা যদি এমন হয়, তবে তা সবার জন্য ক্ষতিকর। সমালোচনা ও সাংঘর্ষিক রাজনীতির অবসান হওয়া প্রয়োজন। আজ হরতাল নামের অস্ত্রটি ভোঁতা হয়ে গেছে। সাংঘর্ষিক রাজনীতি বন্ধে সংবাদকর্মী ও সংবাদপত্রের ভূমিকা অনেক।’

বুধবার দুপুরে সচিবালয়ের গণমাধ্যম কেন্দ্রে বাংলাদেশ সেক্রেটারিয়েট রিপোর্টস ফোরামের (বিএসআরএফ) সঙ্গে সংলাপে তিনি এসব কথা বলেন।

হাছান মাহমুদ বলেন, ‘স্বীকার করুন বা না করুন; বাংলাদেশ অনেক এগিয়েছে। গত দশ বছরে শহর ও গ্রামের সব পেশার মানুষের জীবনমান বদলে গেছে। বাংলাদেশ এখন বড় অর্থনীতির দেশ। গত কয়েক বছরে বিশ্বের যে কয়েকটি দেশ তাদের জিডিপি প্রবৃদ্ধি ৭ শতাংশের ওপরে নিয়ে গেছে, বাংলাদেশ তাদের অন্যতম। বিশ্বব্যাংকের প্রেসিডেন্ট, জাতিসংঘ মহাসচিব ও বিশ্বব্যাংকের প্রধান অর্থনীতিবিদ এখন বাংলাদেশের অর্থনীতির প্রশংসা করেন।’

বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর একাদশ জাতীয় নির্বাচনের দিনকে অর্থাৎ ৩০ ডিসেম্বরকে জাতীয় বিপর্যয় দিবস হিসেবে পালনের যে ঘোষণা দিয়েছেন সে বিষয়ে সাংবাদিকরা হাছান মাহমুদের কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘গত ৩০ ডিসেম্বর দিনটি বিএনপি তাদের বিপর্যয় দিবস হিসেবে পালন করতে পরে। কারণ, নির্বাচনে তাদের কিছুই ছিল না, তাদের সবকিছুই ছিল ত্রুটিযুক্ত। ৩০০ আসনের জন্য আটশ মানুষকে মনোনয়ন দেয় তারা। সেখানে মনোনয়ন বাণিজ্য হয়েছে। প্রচার ছিল না। ফখরুল সাহেব নির্বাচিত হয়েছেন, এ জন্য তাকে অভিনন্দন। কিন্তু মহাসচিব হিসেবে তিনি পুরোপুরি ব্যর্থ। আমি স্বীকার করি তিনি একজন সজ্জন ব্যক্তি, তবে সুন্দর করে মিথ্যা কথা বলতে পারেন। আগামী উপজেলা নির্বাচনে যদি তারা অংশ না নেয়, তবে তা হবে ২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারি নির্বাচনে অংশ না নেওয়ার মতো আত্মহনের শামিল এবং তা হবে একটা মহাভুল। বিএনপি দলগতভাবে উপজেলা নির্বাচনে অংশ না নিলেও ব্যক্তিগতভাবে দলটির অনেক নেতাই এই নির্বাচনে অংশ নেবেন।’

আরো পড়ুন: পুলিশকে মারধরের ঘটনায় রিমান্ডে ছাত্রলীগ নেতা

তথ্যমন্ত্রী বলেন, ‘গত ৩০ ডিসেম্বর নির্বাচনে বিদেশি পর্যবেক্ষকরা ক্যামেরার সামনে বলেছেন, এই নির্বাচন অবাধ, নিরপেক্ষ ও সুষ্ঠু হয়েছে। তবে কিছু কিছু পত্রিকায় পর্যবেক্ষকদের নেতিবাচক মন্তব্য নিয়ে যে প্রতিবেদন করা হচ্ছে, তা তারা কোথায় বলেছে, কবে বলেছে, তার অনুসন্ধান হওয়া প্রয়োজন।’

তথ্যমন্ত্রী আরো বলেন, জীবন যুদ্ধক্ষেত্রের মতোই। যুদ্ধক্ষেত্রে পাশের সহযোদ্ধা প্রতিপক্ষের গুলিতে মারা গেলে, তার দিকে একনজর তাকিয়ে যুদ্ধ চালিয়ে যেতে হয়। অসম্ভবকে সম্ভব করা মানুষই সফল মানুষ। চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করেই সামনে এগুতে হয়। মন্ত্রণালয় পরিচালনার ক্ষেত্রে যেকোনো চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় সাংবাদিকদের সহযোগিতা চান তিনি

ইত্তেফাক/বিএএফ