পথশিশুদের দুঃখ আমি অনুভব করতে পারি

আমার বয়স এগার বছর পেরিয়ে গেছে। আমার বয়সী অন্য ছেলেমেয়েরা বাবা-মায়ের কাছে নানা বিষয়ে বায়না ধরলেও আমি এখন বায়না ধরি না। কারণ আমি যে জিনিসটির জন্য বায়না ধরব তা না পেলেও আমি অনেক সুখে আছি। এই বিষয়টি আমি মাত্র এক মাস আগে বুঝতে শিখেছি। এর আগে আমিও বায়না ধরতাম। গত বছর মুহম্মদ জাফর ইকবাল স্যারের লেখা গল্প অবলম্বনে সরকারি অনুদানে পরিচালক রায়হান জুয়েলের সিনেমা ‘এডভেঞ্চার অব সুন্দরবন’-এ অভিনয় করার পর বিভিন্ন জায়গা থেকে অভিনয় এবং মডেলিংয়ের অফার পেয়েছি। কোনো কোনোটি করেছি আবার কোনোটি বাদ দিয়েছি। কিছুদিন আগে একটি ওভিসিতে অভিনয় করেছিলাম যেখানে আমার চরিত্রটি ছিল একটি টোকাইয়ের চরিত্র।  টোকাইয়ের একটি ছোট্ট বোন থাকে, সেও টোকাই। বোন হিসেবে আমার সাথে অভিনয় করেছিল মারিয়া রিদা নিজাম নামে ছোট্ট একটি মেয়ে। দুই ভাইবোন রেল লাইন দিয়ে হাঁটতে হাঁটতে যাবার পথে বোন বলে, ভাই খিদা লাগছে, খামু না? বোনটাও ছোট ভাইটাও তো ছোটই। পকেটে টাকা নেই। রেল স্টেশনের পাশ দিয়ে যেতে যেতে বোনটা দোকানে ঝুলিয়ে রাখা খাবারের দিকে অপলক দৃষ্টিতে তাকিয়ে থাকে, কিন্তু ক্ষুধার্ত বোনকে খাবার কিনে দেওয়ার এবং নিজেও খাওয়ার মতো কোনো পয়সা ছিল না ১১ বছরের ভাইটির। এই বিজ্ঞাপনটি যখন প্রচারিত হলো তখন নিজের অভিনয় এবং পরিস্থিতি দেখে চোখে পানি চলে এলো। পথশিশুদের কষ্ট অনুভব করতে পারলাম। স্কুলে যাবার পথে কিংবা শপিংমলের সামনে কিংবা মেলায় ঘুরতে গেলে কত পথশিশুকে আমরা দেখি। আমাদের কাছে খাবার চায়, সাহায্য চায়। আমরা দূর দূর করে তাড়িয়ে দিই। কখনো বা গায়ে হাত তুলি। এটা ঠিক নয়। আমি সিদ্ধান্ত নিয়েছি যতটা পারি ওদের সাহায্য করব। সবাই মিলে চেষ্টা করলে হয়তো এ দেশে কোনো পথশিশুই থাকত না। পথশিশুদের দুঃখ আমি অনুভব করতে পারি। অন্যরাও অনুভব করতে শিখুক সেই প্রত্যাশা ব্যক্ত করি।

 

মডেল ও অভিনেতা

 

 

বিজ্ঞাপনচিত্রের টোকাই চরিত্রে সানজিদ ও মারিয়া