মির্জাপুর উপজেলার বিভিন্ন ইটভাটায় শিশুশ্রমিকের সংখ্যা বাড়ছে বলে অভিযোগ স্থানীয় সচেতন মহলের। পরিবারে উপার্জন কিছুটা বাড়াতে এসব শিশুরা কম মজুরিতে ইটভাটায় কাজ করছে। উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) অফিস সূত্র জানায়, পৌরসভা ও ১৪ ইউনিয়নে ১১২টি ইটভাটা গড়ে উঠেছে। বুধবার উপজেলার কয়েকটি ইটভাটা ঘুরে শিশুশ্রমিকদের কাজ করতে দেখা গেছে। স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, পৌরসভা, মহেড়া, জামুর্কি, গোড়াই, লতিফপুর, তরফপুর, আজগানা ও বাঁশতৈল ইউনিয়নেই রয়েছে অধিকাংশ ইটভাটা। বাবা-মায়ের সঙ্গে ইটভাটায় কাজ করছে শিশুরা। যাদের বেশির ভাগ বয়স ৮-১১ বছর। কুড়িগ্রাম থেকে ইটভাটায় কাজ করতে আসা শিশু সাব্বির (৯), রাসেল (১০) এবং মনির (৯) জানায়, গত বছরের মার্চ মাসে স্কুল বন্ধ হয়ে যাওয়ায় তারা বাবা-মায়ের সঙ্গে বাড়ি থেকে মির্জাপুরে এসেছে ইটভাটায় কাজের সন্ধানে। বাবা-মা দিনে-রাতে কাজ করে পায় ৩০০-৪০০ টাকা। আর সাব্বির, রাসেল ও মনির পায় ৫০-৬০ টাকা।
রংপুর থেকে ইটভাটায় কাজ করতে আসা মতিয়ার রহমান (৫৬) ও তার স্ত্রী সালমা বেগম (৪৫) জানান, তাদের দুই ছেলে দিনে ১২০ টাকা আর স্বামী-স্ত্রী মিলে ৬০০ টাকা আয় হয়। উপজেলা ইটভাটা মালিক সমিতির সভাপতি ও আজগানা ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সহসভাপতি মো. আবদুল কাদের সিকদার বলেন, শ্রম আইনে ইটভাটা ও কল-কারখানাসহ ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে শিশুশ্রমিক খাটানো নিষিদ্ধ। কিন্তু পরিবারের অভাব-অনটন দূর করার জন্য বিভিন্ন এলাকা থেকে আসা ইটভাটা শ্রমিকদের সঙ্গে তাদের শিশুসন্তান কাজ করে কিছু অর্থ উপার্জন করে থাকে। মানবিক দিক বিবেচনা করে তাদের মজুরি দেওয়া হয়।
বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা বেলার টাঙ্গাইলের প্রধান সমন্বয়কারী গৌতম চন্দ্র বলেন, কেউ ইচ্ছে করলেই শিশুদের দিয়ে কাজ করাতে পারে না। সচেতন মহল লিখিত অভিযোগ করলে তদন্তসাপেক্ষে এ বিষয়ে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। স্থানীয় একটি বেসরকারি সংস্থার নির্বাহী ব্যবস্থাপনা পরিচালক দে সুধীর চন্দ্র বলেন, শিশুশিক্ষার্থী ঝরে পড়া রোধে বেসরকারি বিভিন্ন সংস্থার পাশাপাশি সরকারিভাবে অভিভাবকদের সচেতনতামূলক বিভিন্ন কর্মকাণ্ড এবং এসব অসহায় শিশুদের উদ্ধার করে তাদের পড়াশোনার ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে হবে। উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা মোহাম্মদ খায়রুল ইসলাম বলেন, যেসব শিশু ইটভাটাসহ বিভিন্ন কারখানা ও ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে কাজ করছে তাদের তালিকা সংগ্রহ করে সমাজসেবা অধিদপ্তরের বোর্ডসভার মাধ্যমে তাদের সহযোগিতা করা যেতে পারে। এজন্য উদ্যোক্তাদেরও এগিয়ে আসতে হবে। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. আবদুল মালেক বলেন, পরিবারের দারিদ্র্যতা ও বাবা-মায়ের অসচেতনতার কারণে কিছু পরিবারের শিশুরা ইটভাটাসহ বিভিন্ন কারখানা ও দোকানপাটে ভারী কাজ করে থাকে। প্রশাসনের পক্ষ থেকে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনা ও পরামর্শ করে এসব শিশুদের সহযোগিতার উদ্যোগ নেওয়া হবে।