চান্দিনায় দিনদিন কমছে আবাদি জমি

চান্দিনায় ক্রমশ হ্রাস পাচ্ছে আবাদি জমির পরিমাণ। নিয়মনীতির তোয়াক্কা না করে দেদারছে ফসলি জমির মাটি কাটার ফলে এ অবস্থার সৃষ্টি হয়েছে বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্টরা। আর এসব মাটি নিয়ে যাওয়া হচ্ছে স্থানীয় ইটভাটাগুলোতে। সরজমিন দেখা গেছে, চান্দিনার পানিপাড়া, মাইজখার, বদরপুর, মহিচাইল ইউনিয়নের খাটিগড়া, মাধাইয়া, ইউনিয়নের কাশিমপুর, মুরাদপুর, সুহিলপুর ইউনিয়নের সাতগাঁওসহ উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় ফসলি জমি থেকে প্রতিদিন সকাল হতে শুরু করে সন্ধ্যা অবধি মাটি কেটে নেওয়া হচ্ছে। চান্দিনার পানিপাড়া গ্রামের একাধিক বাসিন্দা জানান, শুধু দিনেই নয়, রাতেও মাটি কাটা চলছে। আমাদের এলাকায় দুইটি ইটভাটা রয়েছে। ঐসব ইটভাটাগুলোর মাটির জোগান দিতে এলাকার ফসলি জমিগুলোর মাটি কেটে মত্স্য প্রজেক্ট করা হচ্ছে। এতে এক দিকে আবাদি জমি হ্রাস পাচ্ছে, অন্যদিকে মাটিবাহী ট্রাক চলাচলের কারণে রাস্তাঘাটগুলোর বেহাল দশার সৃষ্টি হয়েছে।

উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা গেছে, চান্দিনা উপজেলার ১৯ হাজার ৮০৪ হেক্টর জমি রয়েছে। এর মধ্যে বর্তমানে ১৩ হাজার ৯৭০ হেক্টর জমি আবাদি। তবে গত ৭ বছরের মধ্যে নতুনভাবে নির্ণয় করেনি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ। স্থানীয় সচেতন মহলের দাবি, গত ৭ বছরে অন্তত আরো ২-৩ হাজার হেক্টর আবাদি জমির মাটি কেটে নেওয়া হয়েছে। বর্তমানে ১১ হাজার হেক্টর আবাদি জমিও নেই। চান্দিনা উপজেলা ছাত্রলীগ সাবেক সভাপতি নজরুল ইসলাম সুমন জানান, ফসলি জমি থেকে এক্সিভেটর (ভেকু) দিয়ে ড্রেজিং করে মাটি কেটে নেওয়া হচ্ছে। বিষয়টি আমি উপজেলা কৃষি অফিস থেকে শুরু করে সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন দপ্তরে একাধিক অভিযোগ করেছি কিন্তু কোনো কাজে আসছে না।

এ ব্যাপারে উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মোছা. আফরিনা আক্তার জানান, সম্প্রতি চান্দিনায় ব্যাপক হারে ফসলি জমির মাটি কেটে নেওয়া হচ্ছে। এর ফলে দিনদিন কমছে কৃষিজমির পরিমাণ। বিষয়টি আমি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে অবহিত করব। চান্দিনা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বিভীষণ কান্তি দাশ জানান, এসব বিষয়ে আমরা নিয়মিত ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করি। তবে উপজেলা কৃষি অফিস এ পর্যন্ত আমাকে কোনো তথ্যই জানায়নি। শিগিগরই আমি যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণ করব।