মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় তিন আসামিকে আমৃত্যু কারাদণ্ড এবং পাঁচ আসামিকে ২০ বছর করে দণ্ড দিয়েছে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল। মুক্তিযুদ্ধকালীন সময়ে অপহরণ, আটক, নির্যাতন ও হত্যার মতো মানবতাবিরোধী অপরাধে জড়িত থাকার দায়ে ময়মনসিংহের গফরগাঁও ও ভালুকার এসব আসামিকে এ দণ্ড দেওয়া হয়েছে। রায়ে আসামি মো. শামসুজ্জামান ওরফে আবুল কালাম, এ এফ এম ফয়জুল্লাহ ও আব্দুর রাজ্জাক মণ্ডলকে আমৃত্যু কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। এছাড়া অপর পাঁচ আসামি মো. খলিলুর রহমান মীর, মো. আব্দুল্লাহ, মো. রইছ উদ্দিন আজাদী ওরফে আক্কেল আলী, সিরাজুল ইসলাম তোতা, আলিম উদ্দিন খানকে দেওয়া হয়েছে যাবজ্জীবন দণ্ড। বিচারপতি মো. শাহিনুর ইসলামের নেতৃত্বে তিন সদস্যের ট্রাইব্যুনাল গতকাল বৃহস্পতিবার এ রায় দেন। ট্রাইব্যুনালের অপর দুই সদস্য হলেন বিচারপতি আমির হোসেন ও বিচারপতি আবু আহমেদ জমাদার। রায়ে খালাস দেওয়া হয়েছে আব্দুল লতিফকে। তার বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগ সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণিত না হওয়ায় এ রায় দেওয়া হয়েছে। এর ফলে এই প্রথম কোনো আসামি ট্রাইব্যুনাল থেকে খালাসের রায় পেলেন।
১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধের সময় আসামিরা রাজাকার বাহিনীতে যোগ দেন এবং পাকিস্তানি সেনাবাহিনীর সঙ্গে মিলে ময়মনসিংহের বিভিন্ন গ্রামে অপহরণ, আটক, নির্যাতন ও হত্যার মতো অপরাধে যুক্ত হন বলে এ মামলায় অভিযোগ করা হয়। ২০১৮ সালে তাদের বিচার শুরুর আদেশ দেয় ট্রাইব্যুনাল। উভয় পক্ষের যুক্তিতর্ক শুনানি শেষে গত বছরের ২৬ জানুয়ারি মামলাটি রায়ের জন্য অপেক্ষমাণ (সিএভি) রাখা হয়। কিন্তু করোনা মহামারির কারণে রায় ঘোষণা করা সম্ভব হয়নি। পরিস্থিতি কিছুটা স্বাভাবিক হওয়ায় এখন রায় ঘোষণা করা হলো।
রায়ের পর প্রসিকিউটর সাহিদুর রহমান সাংবাদিকদের বলেন, প্রসিকিউশন এ মামলার চারটি অভিযোগই প্রমাণ করতে সক্ষম হয়েছে। এ রায়ে আমরা সন্তুষ্ট। ট্রাইব্যুনালের ইতিহাসে প্রথম খালাস পাওয়া আসামির বিষয়ে পূর্ণাঙ্গ রায় পর্যালোচনা করে আপিলের সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। আসামি পক্ষের আইনজীবী আব্দুস সাত্তার পালোয়ান বলেন, দণ্ডিতদের সঙ্গে আলোচনা করে রায়ের বিরুদ্ধে আপিল করা হবে।
আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে এ পর্যন্ত ৪২ মামলায় ১১১ জনের সাজা হয়েছে। ৬৯ জন যুদ্ধাপরাধীর মৃত্যুদণ্ড হয়েছে। খালাস পেয়েছেন এক জন। ১২৪ আসামির মধ্যে ১২ জন বিচারাধীন অবস্থায় মারা গেছেন।
পলাতক থেকে রায়ের আগে পুলিশের হাতে
এ মামলার আসামি পরিচয় দিয়ে এ এফ এম ফয়জুল্লাহ নামের এক ব্যক্তি ট্রাইব্যুনালে আত্মসমর্পণ করতে চান। কিন্তু নিরাপত্তাজনিত কারণে তাকে ট্রাইব্যুনালের গেটের বাইরে পুলিশের হেফাজতে রাখা হয়। রায়ে ঐ আসামি ফয়জুল্লাহর আমৃত্যু কারাদণ্ড হয়। পরে তাকে শাহবাগ থানায় নেওয়া হয়।