স্বাস্থ্য খাতের বিভিন্ন অনিয়মের অভিযোগ নিয়ে দুটি ফাইলে দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) অনুসন্ধান ও তদন্ত কার্যক্রম চলমান রয়েছে। এই অনুসন্ধান ও তদন্ত কার্যক্রম দ্রুত সম্পন্ন করতে কমিশনকে নির্দেশ দিয়েছে হাইকোর্ট। দুদকের দেওয়া চিঠির পরিপ্রেক্ষিতে বিচারপতি এম. ইনায়েতুর রহিম ও বিচারপতি মো. মোস্তাফিজুর রহমানের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্টের ডিভিশন বেঞ্চ গতকাল বৃহস্পতিবার এই আদেশ দেন।
গত মাসে দুদক এক চিঠি দিয়ে হাইকোর্টকে জানায় যে, স্বাস্থ্য খাতে বিভিন্ন অনিয়মের অভিযোগ নিয়ে দুটি ফাইলে দুদকের অনুসন্ধান ও তদন্ত কার্যক্রম চলছে। এই কার্যক্রমে স্বাস্থ্য খাতের আলোচিত ঠিকাদার মোতাজ্জেরুল ইসলাম মিঠুর বিরুদ্ধে অনিয়মে সংশ্লিষ্টতার প্রমাণ পাওয়া গেলে তার বিরুদ্ধে অবশ্যই আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। দুদকের এমন চিঠির পরিপ্রেক্ষিতে হাইকোর্ট এ আদেশ দেয়। একই সঙ্গে সম্পদের হিসাব বিবরণী দাখিল না করার মামলা থেকে মিঠুকে অব্যাহতির আদেশ কেন বাতিল ঘোষণা করা হবে না তা জানতে চেয়ে রুল জারি করে আদালত। চার সপ্তাহের মধ্যে ঢাকা মহানগর সিনিয়র স্পেশাল জজ ও দুদককে এই রুলের জবাব দিতে বলা হয়েছে। আদালতের আদেশের বিষয়টি সাংবাদিকদের জানিয়েছেন দুদক কৌঁসুলি খুরশীদ আলম খান ও রিটকারীর আইনজীবী চঞ্চল কুমার বিশ্বাস।
চার বছর আগে সম্পদের হিসাব বিবরণী দাখিল না করার অভিযোগে ২০১৬ সালে মিঠুর বিরুদ্ধে বনানী থানায় মামলা করে দুদক। তদন্ত শেষে পরের বছর চূড়ান্ত প্রতিবেদন দাখিল করা হয়। ঐ প্রতিবেদন আমলে নিয়ে ২০১৮ সালের ১৭ এপ্রিল ঢাকার সিনিয়র বিশেষ জজ আদালত মামলার অভিযোগ থেকে মিঠুকে অব্যাহতি দেয়। করোনা মহামারিতে স্বাস্থ্য খাতে মিঠুর দুর্নীতির সংশ্লিষ্টতা নিয়ে সাম্প্রতিককালে বিভিন্ন গণমাধ্যমে একাধিক প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়। প্রকাশিত প্রতিবেদন যুক্ত করে মিঠুকে অব্যাহতির দেওয়ার আদেশ চ্যালেঞ্জ করে গত অক্টোবরে হাইকোর্টে রিট করেন মো. মনিরুজ্জামান নামে এক ব্যক্তি। এতে মিঠুর বিরুদ্ধে পুনরায় অভিযোগ তদন্তের নির্দেশনা চাওয়া হয়। ঐ রিটের প্রাথমিক শুনানি নিয়ে আদালত অব্যাহতির আদেশ কেন বাতিল করা হবে না মর্মে রুল জারি করে।
রংপুরের গঙ্গাচড়ায় মহীপুরে তিস্তা নদীর পারে মিঠুর বাড়ি। দীর্ঘদিন ধরে তিনি স্বাস্থ্য খাতের ঠিকাদারিতে যুক্ত ছিলেন। ঠিকাদারি করে হয়েছেন অনেক ভূসম্পত্তির মালিক। করোনা মহামারিতে স্বাস্থ্য খাতের দুর্বলতার প্রকট চিত্র বেরিয়ে আসে। এরই মধ্যে কেন্দ্রীয় ঔষধাগারের (সিএমএসডি) সাবেক এক পরিচালক সরকারকে চিঠি দিয়ে বলেন, স্বাস্থ্য খাতের কেনাকাটায় অপ্রতিরোধ্য দুর্নীতির কারণ ‘মিঠুচক্র’। এর পরই স্বাস্থ্য খাতের নানা অনিয়মের ঘটনা অনুসন্ধানে নামে দুদক। বিষয়টি টের পেয়ে বিদেশে পাড়ি জমায় মিঠু।