পাপুলের স্ত্রী-কন্যার আগাম জামিন আবেদন

ব্যাংকের নথি জালিয়াতি তদন্তে দুদককে নির্দেশ হাইকোর্টের

বিদেশের মাটিতে দণ্ডিত স্বতন্ত্র সংসদ সদস্য শহিদ ইসলাম পাপুলের স্ত্রী ও কন্যার আগাম জামিনের আবেদনে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নথি জালিয়াতির ঘটনা তদন্তের নির্দেশ দিয়েছে হাইকোর্ট। আগামী দুই মাসের মধ্যে তদন্ত সম্পন্ন করতে দুদক চেয়ারম্যানকে বলা হয়েছে। এ সংক্রান্ত রুলের চূড়ান্ত শুনানি নিয়ে বিচারপতি মো. নজরুল ইসলাম তালুকদার ও বিচারপতি মহি উদ্দিন শামীমের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্টের ডিভিশন বেঞ্চ গতকাল বৃহস্পতিবার এই আদেশ দেয়। আদালত বলেছে, আপাতদৃষ্টিতে প্রতীয়মান হচ্ছে যে এখানে একটা জালিয়াতি সংঘটিত হয়েছে। এই জালিয়াতির সঙ্গে কারা জড়িত তা তদন্ত করে বের করে আইন অনুযায়ী পদক্ষেপ নিতে হবে।

প্রসঙ্গত, ২ কোটি ৩১ লাখ টাকার অবৈধ সম্পদ ও ১৪৮ কোটি টাকার অর্থ পাচারের অভিযোগে এমপি পাপুল, তার স্ত্রী সংরক্ষিত আসনের এমপি সেলিনা ইসলাম, কন্যা ওয়াফা ইসলাম ও শ্যালিকা জেসমিন প্রধানের বিরুদ্ধে গত বছরের ১১ নভেম্বর মামলা করে দুদক। গত ২৬ নভেম্বর হাইকোর্টে আত্মসমর্পণ করে আগাম জামিন চান পাপুলের স্ত্রী ও কন্যা। ঐ জামিনের আবেদনে বাংলাদেশ ব্যাংকের পরিদর্শন দলের একটি মতামত প্রতিবেদন যুক্ত করে দেওয়া হয়। যেখানে বলা হয়, এনআরবি কমার্শিয়াল ব্যাংকে অভিযুক্তদের হিসাবে অর্থ পাচারের বিষয়টি সংঘটিত হতে পারে মর্মে প্রতীয়মান হয়নি। এরপরই হাইকোর্ট মতামত দানকারী বাংলাদেশ ব্যাংকের কর্মকর্তা মো. আরেফিন আহসান মিঞাকে তলব ও রুল জারি করেন। কিন্তু সংশ্লিষ্ট সব পক্ষ দাবি করেন, এখানে একটি জালিয়াতি হয়েছে। এই জালিয়াতিটা কে করেছে সেটা কোনো পক্ষ থেকে দায় স্বীকার করা হয়নি। এরপরই এ সংক্রান্ত রুলের চূড়ান্ত শুনানি নিয়ে হাইকোর্ট তদন্তের আদেশ দেয়। আদালতের তদন্তের আদেশের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন দুদক কৌঁসুলি খুরশীদ আলম খান।