হিমন এডওয়ার্ড গমেজ, সিনিয়র শিক্ষক
সেন্ট গ্রেগরী হাইস্কুল অ্যান্ড কলেজ, ঢাকা
সততার পুরস্কার
পরিমল বিশ্বাস চার ভাইবোনের মধ্যে সবার ছোট। সবাই মিলে ধার দেনা করে তাকে বিদেশে পাঠায়। এতে পরিমল অনেক টাকার মালিক হয়। আজ ঢাকা শহরে বাড়ি-ঘর তৈরি করে সুখে শান্তিতে বসবাস করে। একদিন তার বড় ভাই বিপদে পড়ে কিছু টাকা চাইতে আসলে ভাইকে টাকা না দিয়ে ফিরিয়ে দেয়। এতে তার বড় ভাই খুবই কষ্ট পেয়ে বললেন, ‘তুই একজন অকৃতজ্ঞ মানুষ’।
ক. অন্ধ ব্যক্তি কী চাইল?
খ. স্বর্গীয় দূত পুনরায় ফিরে এলেন কেন?
গ. তুমি কি মনে কর পরিমলকে অকৃতজ্ঞ বলা যায়? তোমার মতের পক্ষে যুক্তিসহ ব্যাখ্যা করো।
ঘ. পরিমল বিশ্বাস যেন কুষ্ঠরোগী ও টাকওয়ালা ব্যক্তির প্রতিচ্ছবি-উক্তিটি বিশ্লেষণ করো।
ক. নং প্রশ্নের উত্তর: অন্ধ ব্যক্তি ছাগল চাইল।
খ. নং প্রশ্নের উত্তর:স্বর্গীয় দূত ইহুদিদের পরীক্ষা করার জন্য পুনরায় ফিরে এলেন। স্বর্গীয় দূত হলেন আল্লাহর ফেরেশতা। তিনি আল্লাহর হুকুমে কুষ্ঠরোগী, টাকওয়ালা ও অন্ধ ব্যক্তির কাছে আসেন এবং তাদের রোগমুক্তি করে দেন। সেই সাথে তাদেরকে উট, গাভী ও ছাগল পালনের জন্য দিয়ে যান। যার মাধ্যমে তারা গরিব থেকে ধনীতে পরিণত হয়। তাই তাদের পূর্বের কথা স্মরণ আছে কিনা এবং তারা আল্লাহর কৃতজ্ঞতা স্বীকার করে কিনা তা পরীক্ষা করার জন্য স্বর্গীয় দূত পুনরায় ফিরে এলেন।
গ. নং প্রশ্নের উত্তর: হ্যাঁ, আমি মনে করি পরিমলকে অকৃতজ্ঞ বলা যায়। সমাজ বা পরিবারের কোনো লোকের পক্ষে একা চলা সম্ভব নয়। দৈনন্দিন জীবনে তাকে নানা প্রয়োজনে বিভিন্ন মানুষের শরণাপন্ন হতে হয়। তাদের সাহায্য সহযোগিতা নিতে হয়। কিন্তু তাকে যারা সাহায্য সহযোগিতা করে স্বার্থ উদ্ধারের পর যদি তাদের সাহায্য সহযোগিতার কথা ভুলে যায় বা তা অস্বীকার করে তাহলেই তাকে অকৃতজ্ঞ বলা হয়।
উদ্দীপকে আমরা দেখতে পাই পরিমল বিশ্বাসকে তার ভাই-বোন মিলে অনেক কষ্ট করে বিদেশে পাঠায়। বিদেশে গিয়ে প্রচুর টাকা রোজগার করলেও সে তার অন্য ভাইবোনদের কোনো কিছুই দেয় নি। এমন কী বিপদে পড়ে বড় ভাই কিছু টাকা চাইলে তাকে না দিয়ে ফিরিয়ে দেয়। সে যদি অকৃতজ্ঞ না হতো তাহলে তার পূর্বের কথা মনে থাকত এবং ভাইকে টাকা দিয়ে সহযোগিতা করতো। তাই তাকে অকৃতজ্ঞ বলা যুক্তিযুক্ত।
ঘ. নং প্রশ্নের উত্তর: আল্লাহ যাদের সম্পদ দিয়েছেন তাদের আল্লাহর প্রতি কৃতজ্ঞ হওয়া একান্ত কর্তব্য। অকৃতজ্ঞ ব্যক্তিকে সমাজের মানুষ, পাড়া-প্রতিবেশী এমনকি তার নিজের লোকজনও পছন্দ করে না। সবাই তার থেকে দূরে থাকে। আল্লাহ অকৃতজ্ঞ ব্যক্তিকে ভালোবাসেন না তাকে উপযুক্ত শাস্তি দেন। তার থেকে আল্লাহর দেওয়া ধনসম্পদ ছিনিয়ে নেন।
গল্পে আমরা দেখতে পাই কুষ্ঠরোগী ও টাকওয়ালাকে আল্লাহর হুকুমে স্বর্গীয় দূত ভালো করে দিয়ে সুস্থ ও সুন্দর দেহ দান করেন। শুধু তাই নয় তারা ফেরেশতার দেওয়া উট ও গাভী থেকে বহু উট গাভীর মালিক হয়ে সুখে শান্তিতে জীবনযাপন করতে থাকে। কিছুদিন পর তাদের পরীক্ষা করার জন্য ফেরেশতা গরিব বিদেশির ছদ্মবেশে হাজির হন এবং তাদের পূর্বের দুরাবস্থার কথা স্মরণ করে দিয়ে কিছু সাহায্য করতে বলেন। কিন্তু তারা আগের অবস্থার কথা সব অস্বীকার করে ছদ্মবেশী ফেরেশতাকে খালি হাতে ফিরিয়ে দেয়।
উদ্দীপকে আমরা দেখতে পাই পরিমল বিশ্বাসকে তার ভাই-বোন মিলে অনেক কষ্ট করে ধার-দেনা করে বিদেশে পাঠায়। সেখানে গিয়ে সে অনেক টাকার মালিক হয়। বর্তমানে ঢাকা শহরে বাড়ি-ঘর করে পরিবার পরিজন নিয়ে আরাম আয়েশে দিন কাটাচ্ছে। কিন্তু ভাই বোনদের কোনো খোঁজ-খবর নেয় না। এমনকি বিপদে পড়ে বড় ভাই কিছু টাকা চাইতে আসলে তাকে টাকা না দিয়ে খালি হাতে ফিরিয়ে দেয়। তাই আমরা গল্পের কুষ্ঠরোগী ও টাকওয়ালার চরিত্র এবং পরিমল বিশ্বাসের চরিত্রের মধ্যে মিল খুঁজে পাই। একারণেই পরিমল বিশ্বাসকে কুষ্ঠরোগীর ও টাকওয়ালা ব্যক্তির প্রতিচ্ছবি বলা যায়।