অষ্টম শ্রেণির পড়াশোনা

বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয়

মুহাম্মদ মিজানুর রহমান, সহকারী শিক্ষক

পিরোজপুর সরকারি বালিকা উচ্চবিদ্যালয় পিরোজপুর

ঔপনিবেশিক যুগ ও বাংলার স্বাধীনতা সংগ্রাম

 

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে অর্থনীতি বিভাগে এক  সেমিনারে বিশ্ব অর্থনীতি নিয়ে বক্তাদের মাঝে আলোচনা হচ্ছে । উক্ত সেমিনারের এক বক্তা ড. মাহবুবুল হক বিশ্বের বৃহত্তম ও এশিয়ার প্রধান  অর্থনীতির দেশ হিসেবে চীনের আবির্ভাবে বিস্ময় প্রকাশ করেন। তখন অন্য বক্তা ড. ফজলে বারী বলেন, গোটা বিশ্বের স্বনামধন্য  শিল্প প্রতিষ্ঠানগুলো চীনে তাদের শিল্প কারখানা স্থাপন করেছে । তাই তাদের উত্তরোত্তর অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধিতে অবাক হবার কিছু নেই । তখন পাশ থেকে এক শ্রোতা প্রশ্ন করলো , এক সময় তো  আমাদের দেশে ও  বহির্বিশ্বের অনেকেই  শিল্প কারখানা স্থাপন করেছে ।  অথচ আমরা উন্নত হয়নি কেন ? জবাবে ড. মাহবুবুল হক বললেন , তারা আমাদের শোষণ করতে শিল্প স্থাপন করেছিল  কিন্তু আমাদের উন্নতির জন্য শিল্প স্থাপন করেনি।

ক. কাদের হাতে সেনদের শাসনের অবসান ঘটে ?             

খ. কাদের মাধ্যমে এবং কখন পুঁজি ও সম্পদ বাংলা থেকে ইংল্যান্ডে পাচার হয়ে যায় ?

গ. উদ্দীপকে শ্রোতা কাদের বোঝাতে চেয়েছে? ব্যাখ্যা করো।

ঘ. চীন উন্নত হতে পেরেছে অথচ বাংলা অঞ্চল উন্নত হতে না পারার  অন্তরায়সমূহ বিশ্লেষণ করো।                                                         

উত্তর:ক. বহিরাগত মুসলমান শক্তির হাতে সেনদের শাসনের অবসান ঘটে।

খ. ইউরোপীয় বণিকরা বাংলায় স্থায়ীভাবে বসতি স্থাপনের করার পর কলকাতা , চন্দননগর, চুচুঁড়া , কাশিমবাজার প্রভৃতি স্থানে ইউরোপীয় বাণিজ্যকেন্দ্রগুলো ফুলে ফেঁপে  উঠতে থাকে। এদের মাধ্যমেই বাংলা থেকে ইংল্যান্ডে পুিঁজ ও সম্পদ পাচার হতে থাকে । পলাশি যুদ্ধের আগে এবং মীরজাফর ও মীর কাশিমের আমলে বাংলার প্রচুর সম্পদ ইংল্যান্ডে পাচার হয়ে যায়।

গ. উদ্দীপকে শ্রোতার বক্তব্য এক সময় আমাদের দেশেও তো বহির্বিশ্বের অনেকেই  শিল্প কারখানা স্থাপন করেছে ।  অথচ আমরা উন্নত হয়নি । এ বক্তব্যের মধ্য দিয়ে এ দেশে ইউরোপীয়দের শিল্প কারখানা  স্থাপন ও ব্যবসা বাণিজ্যের কথা ফুটে উঠেছে। ১৬৪৮ খ্রিষ্টাব্দে  ইউরোপে যুদ্ধরত বিভিন্ন দেশগুলোর মধ্যে ওয়েস্টফালিয়ার শান্তিচুক্তি সম্পাদিত হবার পর শান্তি প্রতিষ্ঠিত হলে বিভিন্ন ইউরোপীয় জাতি ভারতবর্ষে বাণিজ্য করতে আসে। তখন বাংলা অঞ্চলে পর্তুগিজ , ফরাসি , ওলন্দাজ ও দিনেমাররা কারখানা স্থাপন করে । ফরাসি পর্যটক বার্নিয়ের ১৬৬৬ সালে লিখেছেন, ওলন্দাজরা তাদের কাশিমবাজারের সিল্ক ফ্যাক্টরিতে কখনো কখনো  ৭ থেকে ৮ শ লোক নিয়োগ করত । বার্নিয়ের আরো লিখেছেন ,  শুধুমাত্র কাশিমবাজারে বছরে ২২ হাজার বেল সিল্ক উত্পাদিত হয়। কিন্তু  এদের  কারখানা স্থাপনের মূল উদ্দেশ্য ছিল  এ দেশ থেকে পুঁজি পাচার ।  এ দেশীয়দের উন্নতি নয়। তাই বাংলা থেকে যখন পুঁজি পাচার শুরু হয় তখন থেকে প্রজাদের ওপর শোষণ- নিপীড়ন অনেক বেড়েছে।

ঘ. ড. ফজলে রাবীর বক্তব্যের মাধ্যমে জানা যায় , পৃথিবীর স্বনামধন্য শিল্প প্রতিষ্ঠানগুলো চীনে তাদের শিল্প কারখানা স্থাপন করায় চীন বর্তমান বিশ্বের বৃহত্তম ও এশিয়ার প্রধান অর্থনীতির দেশ হিসেবে  আবির্ভূত হয়েছে।  চীনে ব্যাপকহারে বৈদেশিক বিনিয়োগ  ও শিল্প কারখানা স্থাপিত হওয়ায় চীন উন্নত হতে পেরেছে ।  ব্রিটিশ আমলে আমাদের এই বাংলা অঞ্চলেও  অনেক শিল্প কারখানা স্থাপিত হয়েছিল ।  কিন্তু আমাদের এই বাংলা অঞ্চল উন্নত হতে পারেনি । কারণ বৈদেশিক ঐ সমস্ত  ইউরোপীয় জাতিগুলো প্রচুর মুনাফা অর্জন ও পুঁজিপাচারের উদ্দেশ্যে  বাংলা অঞ্চলে বড় বড় শিল্প কারখানা স্থাপন করেছিল। ফরাসি পর্যটক বার্নিয়ের  লিখেছেন , শুধু কাশিমবাজারে বছরে ২২ হাজার বেল সিল্ক উত্পাদিত হতো। ইউরোপীয়দের এ সমস্ত  শিল্প কারখানা ও বাণিজ্যকেন্দ্রগুলো থেকে প্রচুর    পরিমাণ পুঁজি ইউরোপে পাচার হতে থাকে। পলাশি যুদ্ধের আগে এবং মীরজাফর ও মীরকাশিমের আমলে বাংলার প্রচুর সম্পদ ইংল্যান্ডে পাচার হয়ে যায়।এ সম্পদের প্রার্চুযের কথা স্বয়ং ক্লাইভ ইংল্যান্ডের পার্লামেন্টে সবিস্ময়ে উল্লেখ করেছিলেন । চীন উন্নত হতে পেরেছে কিন্তু আমাদের এই বাংলা অঞ্চল বৈদেশিক বাণিজ্যিক গোষ্ঠীগুলোর   মুনাফা অর্জন ও পুঁজিপাচারের কারণে শিল্প কারখানা স্থাপিত হলেও উন্নত হতে পারেনি ।