একদা তেঁতুলিয়া ছিল জলপাইগুঁড়ি জেলার অন্তর্গত একটি থানা, ১৯৪৭ সালে দেশভাগের সময় তেঁতুলিয়াকে বাংলাদেশের দিনাজপুর জেলার অন্তর্ভুক্ত করা হয়। বর্তমানে সেই তেঁতুলিয়া পঞ্চগড় জেলার অন্তর্গত, দেশের সর্ব উত্তরের একটি উপজেলা শহর। এর পাশ দিয়ে বয়ে গেছে মহানন্দা নদী আর এই নদীর ওপারে ভারতের পশ্চিমবঙ্গ রাজ্য।
ভ্রমণের জন্য চমত্কার জায়গা তেঁতুলিয়া। কত না দর্শনীয় স্থান—যেমন বাংলাবান্ধা জিরো পয়েন্ট ও স্থল বন্দর, রওশনপুর আনন্দধারা ও চা বাগান, ডাহুক বনভোজন কেন্দ্র, তেঁতুলিয়া পিকনিক কর্নার, দূরের কাঞ্চনজঙ্ঘা পর্বত আবছা আবছা দেখা যায়, ভদ্রেশ্বর মন্দির, শিব মন্দির, গ্রিক ভাস্কর্যের মতো নির্মিত দুটি সমাধিস্তম্ভ, বুড়াবুড়ির দুর্গ, তেঁতুলিয়া ডাকবাংলো, কাজী অ্যান্ড কাজী টি এস্টেট ও আনন্দ পাহাড়। আহা কত অপরূপা তেঁতুলিয়া! এই জনপদের বুক চিরে বয়ে গেছে করতোয়া নদী, গোবরা নদী, ডাহুক নদী। ডাহুক নদীতীরে দেখা মেলে না কোনো ডাহুকটাহুকের।
বাংলাদেশের প্রাচীনতম থানাগুলোর মধ্যে তেঁতুলিয়া অন্যতম একটি। ১৮৫৭ সালে তেঁতুলিয়ায় থানা স্থাপিত হয়। এই থানা উপজেলায় রূপান্তর হয় ১৯৮৩ সালে। ১৮৬৯ সালে রংপুর জেলার একটি মহকুমা হিসেবে প্রশাসনিক ইউনিটের মর্যাদা লাভ করেছিল তেঁতুলিয়া। সেই সময় মহানন্দা নদী দিয়ে যাওয়া-আসা করত মহাজনি নৌকা। ছিল অন্যতম ব্যবসাকেন্দ্র। ১৮৭০ সালে তেঁতুলিয়া মহকুমার সব ক্ষমতা বিলুপ্ত করে চূড়ান্তভাবে ক্ষমতা হস্তান্তর করা হয় জলপাইগুঁড়ি জেলার কালেক্টরের হাতে। ১৯১৩ সালে পুনরায় তেঁতুলিয়ায় স্থাপিত হয় থানা।
জনশ্রুতি আছে, প্রাচীন কালে এ অঞ্চলে প্রচুর তেঁতুল বৃক্ষ ছিল। তেঁতুলগাছের ছায়ায় বসে পথিকেরা বিশ্রাম নিত। একদা এখানে একজন বিশিষ্ট ইংরেজ বণিক বসবাস করতেন। তাঁর বাবার নাম ছিল টেটু এবং তাঁর বাসগৃহ ছিল একটি উঁচু টিলার ওপর। সেখানে একটি তেঁতুলগাছ ছিল; কালক্রমে সেই ইংরেজ বণিকের বাবার নাম টেটু এবং তেঁতুল তলা থেকে লিয়া—এ দু শব্দের সমন্বয়ে এই জনপদের নাম হয় তেঁতুলিয়া।
লিয়াকত হোসেন খোকন