সকাল থেকে চোয়ালবদ্ধ প্রতিজ্ঞা আর ধৈর্য্যের প্রতিমূর্তি হয়ে রান করেছেন ওয়েস্ট ইন্ডিজের ব্যাটসম্যান জশুয়া দা সিলভা। আলজারি জোসেফের সঙ্গে জশুয়ার যুগলবন্দিতে রানের দেওয়াল তুলেছে ওয়েস্ট ইন্ডিজ। টেস্ট ক্রিকেটে ২১ বছরের পথচলায়ও এই মৌলিক গুণ রপ্ত করতে ব্যর্থ বাংলাদেশের ব্যাটসম্যানরা। উইকেটে ব্যাটসম্যানদের জন্য ধ্বংসাত্মক কিছুর ছাপ না থাকলেও দিনের শেষ সেশনে ব্যাটিংয়ে নেমে চিরচেনা উইকেট বিলিয়ে দেওয়ার প্রতিযোগিতা দেখা গেছে স্বাগতিক ব্যাটসম্যানদের মধ্যে। নির্বিষ, ক্লান্তিকর বোলিংয়ের পর ব্যাটিংয়ে ছন্নছাড়া বাংলাদেশ। গতকাল ঢাকা টেস্টের দ্বিতীয় দিন শেষে উইন্ডিজদের দাপটে গভীর চাপে স্বাগতিকরা। প্রথম ইনিংসে ৪ উইকেটে ১০৫ রান তুলে দিনের খেলা শেষ করেছে মুমিনুল হকের দল। মুশফিকুর রহিম ২৭ ও মোহাম্মদ মিঠুন ৬ রানে অপরাজিত আছেন।
চা-বিরতির আগে ক্যারিবিয়ানদের প্রথম ইনিংস থেমেছিল ৪০৯ রানে। এখনো ৩০৪ রানে পিছিয়ে বাংলাদেশ। তবে আজ তৃতীয় দিনে বাংলাদেশের সামনে প্রথম চ্যালেঞ্জ ফলোঅন এড়ানো। যা পাড়ি দিতে আরো ১০৫ রান করতে হবে।
উইকেট পেতে দিনভর সংগ্রাম করেছেন মিরাজ-নাঈমরা। অথচ ব্যাটিংয়ে এসেই গ্যাব্রিয়েল, জোসেফদের উইকেট উপহার দিয়েছেন সৌম্য-শান্তরা। গ্যাব্রিয়েলের করা ইনিংসের ষষ্ঠ বলেই সৌম্য (০) শর্ট মিড উইকেটে ক্যাচ দেন। তৃতীয় ওভারে একই পেসারের শিকার শান্ত (৪)। তামিমের সঙ্গে অধিনায়ক মুমিনুলের প্রতিরোধ থেমে যায় ৫৮ রান যোগ করে। দলীয় ৬৯ রানে কর্নওয়ালের বলে উইকেটের পেছনে ক্যাচ দেন মুমিনুল। ২১ রানে ফেরেন বাংলাদেশ অধিনায়ক। ২ রানের ব্যবধানে সৌম্যর আউটের পুনরাবৃত্তি করে সাজঘরে ফিরেন তামিম। ৪৪ রান করেন তিনি। দিনের বাকি সময়ে আরো ২০ ওভার ব্যাটিং করেছে বাংলাদেশ। মুশফিক-মিঠুন ৩৪ রানের জুটি গড়ে অবিচ্ছিন্ন রয়েছেন। আজ ফলোঅন এড়ানো, ইনিংস বিনির্মাণের দায়িত্বটাও এ দুই মিডল অর্ডার ব্যাটসম্যানের কাঁধেই।
এর আগে গতকাল শেষ ৫ উইকেটে ৫২.৩ ওভার ব্যাট করে ১৮৬ রান যোগ করেছিল ওয়েস্ট ইন্ডিজ। দিনের প্রথম সেশনে বনারের উইকেট হারালেও ১০২ রান তুলেছিল তারা। মিরাজের ৯৯তম টেস্ট শিকার হওয়ার আগে বনার ৯০ রান করেন। তার সঙ্গে ৯২ রানের জুটি ভাঙলেও একপ্রান্ত আগলে থাকা জশুয়া তুলে নেন ক্যারিয়ারের দ্বিতীয় হাফ সেঞ্চুরি। ৭ম উইকেটে আলজারি জোসেফের সঙ্গে ১১৮ রানের জুটি গড়েন তিনি। চা-বিরতির আগে তাইজুলের বলে বোল্ড হওয়া জশুয়া ৯২ রান করেন। আলজারি জোসেফও দ্বিতীয় হাফ সেঞ্চুরি করেছেন। ৮২ রান করে রাহীর শিকার হন তিনি। জোমেল ওয়ারিকান, গ্যাব্রিয়েলরা উইকেটে স্থায়ী হতে পারেননি। রাহী ৯৮ রানে ৪টি, তাইজুল ১০৮ রানে ৪টি উইকেট পান।
সংক্ষিপ্ত স্কোর
ওয়েস্ট ইন্ডিজ প্রথম ইনিংস: ৪০৯
বাংলাদেশ প্রথম ইনিংস: ১০৫/৪