সেনাবাহিনী ক্ষমতা নেওয়ায় সোয়া ৪ কোটি ডলারের আর্থিক সহায়তা সরিয়ে নিচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র। শিগিগরই এই সিদ্ধান্ত কার্যকর করা হবে বলে যুক্তরাষ্ট্রের আন্তর্জাতিক উন্নয়ন সংস্থা (ইউএসএআইডি) জানিয়েছে। এদিকে মিয়ানমারে গতকালও কারফিউ উপেক্ষা করে বিক্ষোভ হয়েছে। বিক্ষোভ দমনে পুলিশের হামলায় অন্তত তিন জন আহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। এরই মধ্যে মিয়ানমার সরকার ২৩ হাজার বন্দিকে মুক্তি দিয়েছে। খবর রয়টার্সের
ইউএসএআইডি এক বিবৃতিতে বলেছে, ঐ অর্থ মিয়ানমার সরকারের কাজে লাগত। কিন্তু অভ্যুত্থানের পর দেশটিতি কর্মসূচি পুনর্মূল্যায়ন করে এই সহযোগিতা না দেওয়ার বিষয়ে সিদ্ধান্ত হয়। সামরিক বাহিনীকে সহায়তা করার বদলে সুশীল সমাজকে সহায়তা করতে ও তাকে জোরদার করার কাজে এসব তহবিল সরিয়ে নেওয়া হবে। তবে দ্বিপক্ষীয় কর্মসূচির আওতায় মিয়ানমারের জনগণের জন্য প্রায় ৬ কোটি ৯০ লাখ ডলারের আর্থিক সহায়তা অব্যাহত থাকবে বলে মার্কিন সংস্থাটির বিবৃতিতে বলা হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্র অন্যান্য দেশকেও মিয়ানমারের ওপর নিষেধাজ্ঞা দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে।
বিক্ষোভ অব্যাহত
মিয়ানমারের সামরিক শাসক জেনারেল মিন অং হ্লাইং বিক্ষোভ না করে সেনাবাহিনীর সঙ্গে হাত মেলানোর আহ্বান জানিয়েছিলেন। কিন্তু তা সত্ত্বেও গতকাল বিক্ষোভ করেছে গণতন্ত্রপন্থিরা। তারা অং সান সু চিসহ বেসামরিক সরকারের সব নেতার মুক্তি দাবি করেছেন। মাবলামিন শহরে পুলিশ বিক্ষোভকারীদের লক্ষ্য করে রাবার বুলেট নিক্ষেপ করেছে। মাবলামিন শহরে পুলিশ বিক্ষোভকারীদের ওপর রাবার বুলেট নিক্ষেপ করেছে বলে রেড ক্রস জানিয়েছে। এতে তিন বিক্ষোভকারী আহত হয়েছে। এছাড়া ইয়াঙ্গুনসহ অন্যান্য শহরেও বিক্ষোভ হয়েছে গতকাল। এদিকে মিয়ানমারের ৩০০ এমপি জাতিসংঘকে লেখা এক চিঠিতে মিয়ানমারের সামরিক বাহিনীর মানবাধিকার লঙ্ঘনের বিষয়টি খতিয়ে দেখার আহ্বান জানিয়েছেন।
মিয়ানমার সরকার ইউনিয়ন ডে উপলক্ষ্যে ৫৫ বিদেশিসহ ২৩ হাজার কারাবন্দিকে মুক্তি দিয়েছে। মান্দালয়ের ছাত্র অধিকারকর্মী তায়েজার সান বলেন, তিনি আশঙ্কা করছেন, মুক্তি পাওয়া এসব ব্যক্তি বিক্ষোভকারীদের ওপর হামলা চালাতে পারে। সে জানায়, এসব মানুষের অতীত ইতিহাস ভালো নয়। ১৯৮৮ সালেও সামরিক জান্তা তাদের পক্ষের মানুষগুলোকে মুক্তি দিয়েছিল এবং পরবর্তী সময়ে তারা শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভে হামলা চালিয়েছিল। ঐ সময় কয়েক হাজার মানুষ প্রাণ হারিয়েছিল বিক্ষোভে অংশ নিয়ে।