জমে উঠেছে ফাল্গুন ও ভালোবাসা দিবসের কেনাকাটা

জমে উঠেছে পহেলা ফাল্গুন ও ভালোবাসা দিবসের কেনাকাটা। নতুন বছরে প্রকৃতিতে বসন্ত ঋতু যেন ব্যবসায়ীদের মনেও এনে দিয়েছে খুশির রঙ। রাজধানীর শপিংমলগুলো সেজেছে বর্ণিল সাজে। প্রতিটি শপিংমল জুড়েই চলছে কেনাকাটা। তবে তা অবশ্যই অন্য বছরগুলোর মতো ততটা জমজমাট নয়। কারণ এখন মার্কেটগুলোর চাইতেও কেনাকাটায় বেশি জমজমাট অনলাইন শপগুলোতে। সেটি চোখে পড়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ‘ফেসবুক’ খুললেই। দিন-রাত ২৪ ঘণ্টায় তাদের পোস্টিং, বুস্টিং এবং লাইভ চলছে। অর্ডার আসছে দেশ-বিদেশ থেকে। আস্থা অর্জন করে, হাতের নাগালে পণ্য পৌঁছে দিয়ে তারা আপন হয়ে উঠেছে ক্রেতাদের।

যদিও সরকারি-বেসরকারিভাবে পহেলা ফাল্গুনকে ঘিরে কোনো কর্মসূচি নেই। তবে কিশোর-কিশোরী, তরুণ-তরুণীদের ভালোবাসা দিবস ও ফাল্গুনকে ঘিরে কেনাকাটায় কমতি নেই। করোনা পরিস্থিতিতে গত বছর ব্যবসায় মন্দা গেলেও, এ বছর শুরুতেই পোশাক ব্যবসায়ীরা কিছুটা স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলছেন। ধীরে ধীরে তারা সামলিয়ে উঠছেন করোনার ধাক্কা। পোশাক ব্যবসায়ী রফিকুল আজীম বলেন, এই কেনাকাটা ভালো বলা যাবে না। তবে কিছুটা স্বস্তি এনেছে। এটা মন্দের ভালো। করোনা মহামারিতে অনলাইন শপগুলোও অনেকটা জায়গা দখল করে নিয়েছে।

সরেজমিনে দেখা গেছে, আড়ং, সেইলর, রঙ বাংলাদেশ, বিশ্ব রঙ, অঞ্জনস, কে-ক্রাফট, বিবিয়ানা, বাংলার মেলা, দেশাল, নবরূপা, নগরদোলা-প্রতিটি শোরুমে শোভা পাচ্ছে লাল-হলুদের পোশাক ও শাড়ি। এ বছর ফাল্গুনের বাসন্তি রঙের পাশাপাশি প্রাধান্য পেয়েছে—লাল, গাঢ়নীল ও হালকানীল রং। আরো আছে টিয়া, সবুজ, গোলাপি, ম্যাজেন্ডা রঙের আধিক্য। দেশাল থেকে শাড়ি কিনে ফিরছিলেন দুই বান্ধবী মৌরী শারমিন ও নিশি। বলেন, শাড়ি পড়া খুব কম হয়, এবার শাড়ি পড়ব। দেশালের শাড়িগুলো খুব সুন্দর, তাই দুটো শাড়ি কিনেছি। অন্য একজন ক্রেতা বলেন, আমার আড়ংয়ের অনেক শাড়ি পছন্দ হয়েছে। আমি অল্প দামে বোনদের জন্য উপহার হিসেবে পাঁচটা শাড়ি কিনেছি।

আড়ংয়ের একজন বিক্রয়কর্মী বলেন, আমাদের শাড়ি-জামা দুটোই বেশ বিক্রি হচ্ছে। আমাদের তাগা, কুর্তি, পান্জাবি সবই বিক্রি হচ্ছে। তবে অন্যান্য বছরের ফাল্গুনের মতো এখনো সেইরকম ভিড় নেই। অনেকে করোনার ভয়ে দোকানে আসছেন না। অনলাইনে অর্ডার দিয়ে অনেকে শাড়ি-পোশাক কিনছেন।

জানা গেছে, এ বছর শাড়িগুলোতে ব্লকপ্রিন্টের কাজই বেশি। তবে ব্লকপ্রিন্টের মধ্যে জড়ির সুতা ও চুমকির কাজও রয়েছে কিছু শাড়িতে। এছাড়া মনিপুরি শাড়িও বেশ বিক্রি হচ্ছে। একজন অনলাইন উদ্যোক্তা বলেন, এটা কেনাকাটার জন্য খুব ভালো সময়। একজন অনলাইন ক্রেতা বলেন, অনেক অনলাইনে শাড়ির দাম বেশি। এ অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে নিশিন্দা অনলাইন শপের স্বত্বাধিকারী সুরাইয়া আক্তার মিথুন বলেন, আমি নিজে ডিজাইন করে শাড়িগুলো তৈরি করি। সব মিলে আমার যা দাম, তাই তো নিতে হবে ক্রেতার কাছ থেকে। তিনি বলেন, অনলাইনে বিজনেস এখন চ্যালেঞ্জিং। তাই আমার মনে হয় না কেউ দাম খুব বেশি রাখে।

অনলাইন শপ শুভলক্ষীর স্বত্বাধিকারী আলোকপর্ণা বলেন, সিলেটের মনিপুরী শাড়ির বিক্রি আমার অনলাইনে সবচেয়ে বেশি। কাপড়ের রং, সুতার কাজ সবই আমি তাঁতীকে দিয়ে করিয়ে নেই, ফলে এই শাড়ির অন্যসব শাড়ির চেয়ে একদম আলাদা। তিনি বলেন, আমরা সবসময় ক্রেতাদের গুরুত্ব দিয়ে থাকি। কারণ অনলাইন বাজার এখন অনেক বড়। চ্যালেঞ্জটাও বেশি।