সততার পুরস্কার
অনুচ্ছেদটি পড়ে নিচের প্রশ্নগুলোর উত্তর দাও :
করিম বখশ্ একজ ক্ষুদ্র কাপড় ব্যবসায়ী। একদিন জরুরি কাজে বাড়ি যাওয়ার প্রয়োজন দেখা দিলে অপরিচিত রহিম গাজিকে দোকানে বসিয়ে যান। ক্রমান্বয়ে অনেক দিন কেটে গেলেও তিনি আর ফিরে আসেন নি দেখে রহিম গাজি ব্যবসা করে আরো তিনটি দোকানের মালিক হন। অনেক বছর পর একদিন আর্থিক অভাবে পড়ে করিম বখ্শ রহিম গাজির কাছে সাহায্য চাইতে আসেন। রহিম গাজি তাকে চিনতে পেরে বলে এ সবই আপনার। আমি এগুলো এত দিন পাহারা দিয়েছি মাত্র। এ কথা শুনে করিম বখ্শ বলে ‘তুমি মানুষ না ফেরেশতা’?
ক.টাকওয়ালা ব্যক্তিকে কী দেওয়া হলো? ১
খ.‘ইহাতে তোমার ভাগ্য খুলিবে’ একথা বলার কারণ কী ছিল? ২
গ.স্বর্গীয় দূত ও করিম বখ্শ এর মধ্যে তুমি কী কোনো পার্থক্য খুঁজে পাও? উত্তরের সপক্ষে যুক্তি দাও। ৩
ঘ.‘তুমি মানুষ না ফেরেশতা’ কাকে উদ্দেশ্য করে বলা হয়েছে? তার সাথে গল্পের কোন চরিত্রের মিল পাওয়া যায়?
বিশ্লেষণ কর। ৪
৩ নং প্রশ্নের উত্তর
ক। টাকওয়ালা ব্যক্তিকে একটি গাভিন গাই দেওয়া হলো।
খ। উক্ত কথাটি বলেছিলেন স্বর্গীয় দূত ইহুদি বংশের তিনজন ব্যক্তিকে।
ইহুদি বংশের তিনজন ব্যক্তি ছিল রোগাগ্রস্থ ও খুব গরিব। তাই স্বর্গীয় দূত তাদের রোগ মুক্ত করে প্রথম জনকে একটি গাভিন উট, দ্বিতীয় জনকে একটি গাভিন গাই এবং তৃতীয় জনকে একটি গাভিন ছাগল দিয়েছিলেন তাদের আর্থিক উন্নতির জন্য। যদিও ইহা সংখ্যায় খুবই কম তবু এর মধ্যে কল্যাণ নিহিত ছিল। একারণেই তিনি একথাটি বলেছিলেন।
গ। হ্যাঁ, স্বর্গীয় দূত ও করিম বখ্শ উভয়ের মধ্যে পার্থক্য খুঁজে পাওয়া যায়।
গল্পে আমরা দেখতে পাই, ইহুদি বংশের তিনজন গরিব ও রোগাক্রান্ত লোককে স্বর্গীয় দূত সুস্থ করেন এবং তাদেরকে উট, গাই ও ছাগল দেন। এই সুস্থ করে তোলা এবং এগুলো দেওয়ার মধ্যে তাঁর কোনো লোভ লালসা বা কোনোরূপ বিপদযুক্ত ছিল না। এগুলো দেওয়ার উদ্দেশ্য ছিল তাদেরকে পরীক্ষা করা। আল্লাহর সম্পদ পেয়ে তারা আল্লাহকে ভুলে যায় না কী আল্লাহর কথা স্মরণ রাখে।
পক্ষান্তরে উদ্দীপকে আমরা দেখতে পাই করিম বখ্শ রহিম গাজিকে তার ব্যবসার সমুদয় অর্থ সম্পদ দিয়ে ছিলেন। তিনি তা নিঃস্বার্থভাবে দেন নি। জরুরি কাজে বাড়ি যাওয়ার প্রয়োজন পড়ে বলে রহিম গাজিকে সাময়িকভাবে দোকানের দায়িত্ব দিয়ে যান। কিন্তু বাড়িতে গিয়ে বিভিন্ন কারণে তিনি আর ফিরে আসতে পারেন নি। তাই উভয় পক্ষ আলোচনা শেষে আমরা বলতে পারি উভয়ে দেওয়ার মধ্যে উদ্দেশ্যগত যথেষ্ট পার্থক্য নিহিত ছিল।
ঘ। ‘তুমি মানুষ না ফেরেশতা’ রহিম গাজিকে উদ্দেশ্য করে বলা হয়েছে। তার সাথে গল্পের অন্ধ ব্যক্তির চরিত্র খুঁজে পাই।
এ পৃথিবীতে অনেক মানুষ বাস করে। কিন্তু তাদের ধ্যান ধারণা, চিন্তা-ভাবনা, লোভ-লালসা এক নয়। কেউ অন্যের সম্পদ হাতে পেলে খুশি, কেউ নিজের সম্পদ বিলিয়ে দিতে পারলেই খুশি। কেউ অন্যায় পছন্দ করে কেউবা আবার ন্যায় নীতিকে পছন্দ করে।
উদ্দীপকে আমরা দেখতে পাই করিম বখ্শ তার সমুদয় অর্থসম্পদ রহিম গাজিকে বিপদে পড়ে পুনরায় পাওয়ার আশায় দিয়ে যায়। কিন্তু বাড়ি থেকে যখন অনেক দিন আসতে পারে নি তখন সে তার ঐ সম্পদের আশা সম্পূর্ণভাবে ছেড়ে দেয়। অর্থের অভাবে পড়ে এক দিন রহিম গাজির কাছে করিম বখশ সাহায্য চাইলে তখন রহিম গাজি করিম বখশেক চিনতে পারে এবং যথাযোগ্য সম্মান দেয়। শুধু তাই নয় এ অর্থ সম্পদ যে তার নিজের নয় এবং এসবই যে করিম বখ্শ এর তা প্রকাশ করে এবং তা পুনরায় ফিরিয়ে নিতে অনুরোধ জানায়। এর মধ্যে রহিম গাজির কোনো কার্পণ্য বা প্রবঞ্চনা ছিল না। অন্যদিকে ‘সততার পুরস্কার’ গল্পের আলোকে দেখা যায় ইহুদি বংশের অন্ধ ব্যক্তিকে ফেরেশতা রোগমুক্ত করে একটি গাভিন ছাগল দেন। এর মাধ্যমে তার অর্থনৈতিক স্বচ্ছলতা আসে এবং সুখে শান্তিতে বাস করতে থাকে। ঐ ফেরেশতা যখন বহু দিন পর বিদেশির ছদ্মবেশ ধারণ করে তার বিপদের কথা বলে সাহায্য চায় তখন সাথে সাথেই অন্ধ ব্যক্তির পর্বের কথা মনে পড়ে এবং ছদ্মবেশধারী ফেরেশতার যা প্রয়োজন তা নিয়ে যেতে অনুরোধ করে। তার এ অনুরোধের মধ্যে বিন্দুমাত্র কৃত্রিমতা ছিল না বা প্রতারণার অবকাশ ছিল না। তাই আমি বলতে পারি উদ্দীপকের ব্যক্তির চরিত্রের সাথে গল্পের অন্ধ ব্যক্তির চরিত্রের মিল পাওয়া যায়।