বিশ্বনাথে দুই পক্ষের ‘বিরোধ মেটাতে গিয়ে’ হামলার শিকার পুলিশ, আহত ২

সিলেটের বিশ্বনাথে দুই পক্ষের ‘বিরোধ মেটাতে গিয়ে’ হামলার শিকার হয়েছে এক দল পুলিশ। আহত হয়েছেন পুলিশ কনস্টেবল বদরুদ তালুকদার ও নাহিদ হাসান। এ সময় আট রাউন্ড ফাঁকা গুলি ছুড়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে পুলিশ। গত বৃহস্পতিবার গভীর রাতে উপজেলার টেপিগঞ্জ প্রতাবপুর এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। এ ব্যাপারে বিশ্বনাথ থানার এসআই ফজলুল হক বাদী হয়ে উপজেলার লামাকাজী ইউনিয়নের টেপিগঞ্জ গ্রামের তাজউদ্দিনসহ ২০ জনের নাম উল্লেখ করে এবং আরো ১০-১৫ জনকে অজ্ঞাতনামা আসামি দেখিয়ে শুক্রবার রাতে থানায় মামলা দায়ের করেছেন।

জানা যায়, উপজেলার লামাকাজী ও খাজাঞ্চী ইউনিয়নের সীমান্তবর্তী কেশুয়া খালে মাছ ধরা নিয়ে দীর্ঘদিন যাবত্ এলাকার দুটি পক্ষের মধ্যে বিরোধ চলে আসছে। বৃহস্পতিবার রাতে টেপিগঞ্জ গ্রামের তাজউদ্দিন পক্ষের লোকজন পাম্প মেশিনের মাধ্যমে খালের পানি সেচ করতে থাকেন। এ নিয়ে টেপিগঞ্জ এবং মাখরড়গাঁও-প্রতাবপুর গ্রামের লোকজনদের মধ্যে উত্তেজনা দেখা দেয়। খবর পেয়ে রাত ১টার দিকে থানার এসআই ফজলুল হকের নেতৃত্বে একদল পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে। পুলিশ টেপিগঞ্জ গ্রামের লোকজনকে পানি সেচ বন্ধ করে ঘটনাস্থল ত্যাগ করতে বললেও তাতে কর্ণপাত না করে তারা সেচকাজ চালিয়ে যেতে থাকে। এক পর্যায়ে পুলিশ লাঠিচার্জ করে ঘটনাস্থল থেকে লোকজনকে সরিয়ে দেয়। পুলিশ জানায়, লোকজনকে সরিয়ে দিয়ে পানি সেচের দুটি মেশিন জব্দ করে পুলিশ থানায় নিয়ে যেতে চাইলে টেপিগঞ্জ গ্রামের তাজউদ্দিন, নুরুল ইসলাম ও সফিক মিয়াসহ গ্রামের ৩০-৩৫ জন নারী-পুরুষ ‘ডাকাত ডাকাত’ বলে চিত্কার করতে করতে পুলিশ সদস্যদের ওপর হামলা চালায়। এ সময় পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে আট রাউন্ড ফাঁকা গুলি ছুড়ে পুলিশ। হামলায় আহত হন দুই কনস্টেবল। তাদেরকে সিলেট ওসমানী মেডিক্যালে ভর্তি করা হয়েছে।

বিশ্বনাথ থানার ওসি শামীম মুসা বলেন, পুলিশের ওপর হামলাকারীদের গ্রেফতারের চেষ্টা চলছে।

এদিকে টেপিগঞ্জ গ্রামের শফিক আলী সাংবাদিকদের জানান, খাল থেকে মেশিন দিয়ে গ্রামের লোকজন বোরো জমিতে পানি সেচ করছিলেন। হঠাত্ করে বৃহস্পতিবার রাতে খালের পানি সেচ বন্ধ করে সাবেক মেম্বার আব্দুস শহিদের লোকজন পুলিশকে সঙ্গে নিয়ে তাদের আটটি বাড়িঘরে হামলা চালিয়ে ভাঙচুর চালায় ও তিন জনকে পিটিয়ে জখম করে। এ সময় খালে থাকা তাদের চারটি সেচ মেশিনও নিয়ে যায় প্রতিপক্ষের লোকজন। হামলা ও ভাঙচুরের বিষয়টি মিথ্যা দাবি করে প্রতাবপুর গ্রামের সাবেক মেম্বার আব্দুস শহিদ বলেন, দীর্ঘদিন ধরে ঐ খালে মাছ ধরা নিয়ে অন্য একটি পক্ষের সঙ্গে কোর্টে মামলা বিচারাধীন রয়েছে। এ বছর তাজউদ্দিনের লোকজন মেশিন দিয়ে খালে মাছ ধরতে গেলে আমি পুলিশকে বিষয়টি অবগত করি।