ঝিনাইদহের কালীগঞ্জর উপজেলার রঘুনাথপুর গ্রামে পাটের জুতা তৈরির কারখানা গড়ে উঠেছে। এখান থেকে তৈরি ৩০ থেকে ৪০ হাজার জুতা প্রতি মাসে রপ্তানি হচ্ছে ফ্রান্স, জার্মানি, স্পেন, ইতালি, ভারতসহ বিভিন্ন দেশে। অন্যদিকে এ কারখানায় কর্মসংস্থান হয়েছে এলাকার অন্তত ৫০০ নারী-পুরুষের। আসছে বৈদেশিক মুদ্রা।
পুঁজি সংকট, আর্থিক দৈন্যতাসহ নানা কারণে দেশের বিভিন্ন এলাকায় একের পর এক বন্ধ হচ্ছে পাটের কারখানা। এমন সময় ঝিনাইদহ শহর থেকে প্রায় ২২ কিলোমিটার দূরে কালীগঞ্জের রঘুনাথপুর গ্রামে গড়ে উঠেছে অ্যামাস ফুট ওয়্যার লি. নামের পাটের জুতা তৈরির কারখানা। এখানে জুট মিল থেকে সুতো কিনে এনে মেশিনের সাহায্যে বেনি করা হয়। পরে সে বেনি দিয়ে সোল্ড স্টেচিং ও ভলকানাইজিং করে কয়েকটি ধাপে তৈরি হয় পাটের জুতা। তারপর ফিনিশিং করে শিপমেন্ট করা হয়। কারখানায় কাজ করে এলাকার অনেকেই বেকারত্ব ঘুচিয়েছে, ভালোভাবে জীবনযাপন করছে। এছাড়া বিভিন্ন গ্রামের মেয়েরা জুতায় হাতের কাজ করে মাসে তিন থেকে সাত হাজার টাকা পর্যন্ত আয় করছেন।
জুতা কারখানার ব্যবস্থাপনা পরিচালক ওবাইদুল হক রাসেল জানান, বিবিএ পাশ করার পর ২০১৩ সালে মাত্র ৩ হাজার টাকা নিয়ে ট্রেডিং ব্যবসা শুরু করেন। শিল্প গড়ার স্বপ্ন দেখেন আসছেন আগে থেকেই। ২০১৬ সালে পুঁজি সংগ্রহ করে প্রত্যন্ত গ্রাম ঝিনাইদহ জেলার কালীগঞ্জ উপজেলার রঘুনাথপুরে ছোট্ট কারখানা স্থাপন করে পাটের জুতা তৈরি শুরু করেন। কারখানার জুতার পুরোটাই বিদেশে রপ্তানি করা হয়। বর্তমানে কারখানাটি দাঁড়িয়ে গেছে। দিনে দিনে রপ্তানিও বাড়ছে। সঙ্গে সঙ্গে পরিধিও বাড়ছে। পাট দিয়ে সম্পূর্ণ জুতা তৈরি হয়। তবে বায়ারদের চাহিদা মতো জুতার উপরি ভাগ কাপড় বা রাবার দিয়েও তৈরি হয়। পাটের তৈরি জুতার ইউরোপ ও আমেরিকায় ভালো চাহিদা আছে। প্রথমে অসুবিধা ছিল। এখন তা কাটিয়ে ওঠা গেছে। সরকারি সহায়তা পেলে আরো ভালো করতে পারব। এ কারখানায় তৈরি প্রতি জোড়া জুতা ২ ডলার থেকে ১৫ ডলার দামে বিক্রি হয়ে থাকে।
কারখানার শ্রমিক পলি খাতুন বলেন, সাংসারিক কাজের পাশাপাশি জুতা তৈরির কাজ করেন। এতে মাসে প্রায় ৭ হাজার টাকা আয় হয়। শামীম শিরিন যশোর মহিলা কলেজের ছাত্রী। পড়াশোনার পাশাপাশি বাড়িতে বসে পাটের জুতার নকশার কাজ করেন। এতে মাসে তার ছয়-সাত হাজার টাকা আয় হয়। জেলা প্রশাসক সরোজ কুমার নাথ বলেন, গ্রামীণ নারীদের কর্মসংস্থান সৃষ্টি করেছে পাটের তৈরি জুতার কারখানাটি। সরকার এ ধরনের শিল্প স্থাপনে অবশ্যই প্রয়োজনীয় সহায়তা দেবে।