ভেদরগঞ্জে গাছে গাছে আমের মুকুল!

ভেদরগঞ্জের গাছে গাছে উঁকি দিচ্ছে সুরভিত আমের মুকুল। এদিকে চাষিরা বলছেন, এবার মুকুল এসেছে আগাম।

ভেদরগঞ্জ উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ ফাতেমা ইসলাম জানান, গত বছর উপজেলায় প্রায় ২ হাজার ৩০ হেক্টর জমিতে বিভিন্ন প্রকার আম চাষ করা হয়েছিল। গত মৌসুমে আমের বাজারদর ভালো থাকায় লাভবান হয়েছিলেন চাষিরা। এরই ধারাবাহিকতায় চলতি বছর উপজেলার ৩ হাজার হেক্টর জমিতে আম চাষ হচ্ছে। থেমে নেই নতুন করে আমবাগান তৈরিও। উপজেলার আম বাগানগুলো ঘুরে দেখা গেছে, বিভিন্ন বাগানের আম গাছে এবারে আগাম মুকুল ফুটেছে। আবহাওয়া ভালো থাকলে মুকুলগুলো নষ্ট হওয়ার আশঙ্কা নেই বলছেন, ভেদরগঞ্জ উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা ফাতেমা ইসলাম। উপজেলার আমচাষি লিয়াকত আলী জানান, আগামী কয়েক সপ্তাহের মধ্যে সব বাগানেই মুকুল দেখা যাবে। মুকুল যাতে ঝরে না পড়ে সেজন্য পূর্ব অভিজ্ঞতা ও উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের পরামর্শ অনুযায়ী বালাইনাশক ব্যবহার করছেন তারা।

কাহারোল (দিনাজপুর) সংবাদদাতা জানান, কাহারোলে আমবাগান রয়েছে প্রায় ২০০টি। এবার গাছে গাছে মুকুলের সমারোহ সোভা পাচ্ছে। আমের উত্পাদন ভালো হবে বলে বাগান মালিক ও আম ব্যবসায়ীরা আশা করছেন। কাহারোল উপজেলায় বিভিন্ন বাগানে এখন আমের মুকুলের ঘ্রান। আবার কোনো কোনো গাছে ক্ষুদ্র পরিসরে গুটি ধরা শুরু হয়েছে। ফলে বাগান পরিচর্যায় ব্যস্ত সময় পার করছেন বাগান মালিক ও ব্যবসায়ীরা।

বাগান মালিকরা জানান, প্রতি বছর মাঘের শুরুতে আম গাছে মুকুল ফুটতে শুরু করে। কিন্তু এবার পৌষে মুকুল চলে এসেছে। উপজেলার জোতমুকুন্দপুর গ্রামের মোজাহার আলী জানান, গাছে মুকুল আসার পর থেকে আম পাড়া পর্যন্ত চার-পাঁচ বার কীটনাশক ব্যবহার করতে হয়।

উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ আবু জাফর মো. সাদেক জানান, বৈজ্ঞানিক পদ্ধতিতে আম চাষ করলে এর উত্পাদন যেমন বাড়বে তেমনি সঠিকভাবে সংরক্ষণ এবং পরিবহন, রপ্তানিসহ বাজারজাত করলে কৃষকরা ব্যাপক হারে লাভবান হবেন। উন্নত পদ্ধতিতে আমচাষ ও রক্ষণাবেক্ষণের জন্য কৃষকদের নানা পরামর্শ দিচ্ছেন। এতে দুই বছর যাবত্ কাহারোল উপজেলার আম বিদেশে রপ্তানি হচ্ছে বলে উল্লেখ করেন তিনি।